অনেকে মনে করেন, ওজন ঠিক রাখতে হলে শুধু খাবারের ক্যালরি গুনলেই হবে। অর্থাৎ যত ক্যালরি খাবেন, তত ক্যালরি খরচ করলেই শরীর ঠিক থাকবে। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা কী খাই তার পাশাপাশি কখন খাই, কত দ্রুত খাই এবং কতটা চিবিয়ে খাই। এসব বিষয়ও শরীরের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
কখন খাচ্ছেন, সেটাও জরুরী
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনের বেশির ভাগ খাবার সকালে খায় তারা তুলনামূলক বেশি ওজন কমাতে পারে। একই পরিমাণ খাবার খেয়েও যারা রাতে বেশি খায়। তাদের ক্ষেত্রে ওজন কমা তুলনামূলক কঠিন হয়। আরও একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের প্রথম ও শেষ খাবারের মধ্যকার সময় কমিয়ে আনলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই কম খাবার খায়। এতে শরীরের চর্বিও কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে দেরি করে নাশতা বা খাবার খাওয়া রক্তে শর্করা ও ক্ষতিকর চর্বি বাড়াতে পারে। যা স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
দ্রুত খেলে বাড়ে ক্যালরি
খাবার খুব দ্রুত খেলে মানুষ বেশি খেয়ে ফেলে। কারণ পেট ভরে যাওয়ার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে কিছু সময় লাগে। গবেষণায় দেখা গেছে, ধীরে ধীরে খাবার খেলে শরীরে এমন কিছু হরমোন তৈরি হয় যা ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। ফলে মানুষ কম খেয়েই তৃপ্তি পায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি থাকে।
কতটা চিবিয়ে খাচ্ছেন সেটাও জরুরি
একই খাবার খেয়েও সবাই সমান ক্যালরি গ্রহণ করে না। কারণ খাবারের গঠন ও আমরা কতটা চিবিয়ে খাচ্ছি তার ওপরও নির্ভর করে শরীর কতটা ক্যালরি গ্রহণ করবে। যেমন বাদাম যদি ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া হয়, তাহলে শরীর বেশি ক্যালরি শোষণ করতে পারে। আবার কম চিবিয়ে খেলে তার কিছু অংশ শরীর শোষণ করতে পারে না। একইভাবে গোটা ফল খেলে বেশি সময় লাগে এবং পেট ভরা অনুভূতি বেশি হয়। কিন্তু ফলের মিশ্রণ দ্রুত খাওয়া যায়, ফলে মানুষ বেশি খেয়ে ফেলতে পারে।
শরীরভেদে প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, একই খাবার খেয়েও সবার শরীর একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। এর একটি বড় কারণ আমাদের অন্ত্রে থাকা জীবাণুসমূহ। এই জীবাণুর ধরন ও ভারসাম্য মানুষের শরীরভেদে আলাদা হওয়ায় খাবার হজম ও শক্তি গ্রহণের প্রক্রিয়াও ভিন্ন হয়।
কী করলে উপকার
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
- ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া
- বেশি আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া
- ফল ও সবজি বেশি রাখা
- অতিরিক্ত মিষ্টি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া
এসব অভ্যাস শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।
তাই শুধু ক্যালরি গোনাই নয়, খাওয়ার সময়, গতি ও ধরন। সবকিছুই সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ




