ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজের চাপেই বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি! 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ অনেকের কাছে এটি এখন স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এই স্বাভাবিক অভ্যাসই ধীরে ধীরে মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যুর ঝুঁকির দিকে। এমনই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৬ সালে শুধু দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ। যারা সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করেন, তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ এবং হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বেশি।

জাপানে অতিরিক্ত কাজ করতে করতে মৃত্যুর জন্য আলাদা একটি শব্দও আছে- কারোশি। সেখানে এই কারণে মৃত্যুর ঘটনাও নিয়মিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় কাজের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো অঞ্চলে। আর এসব মৃত্যুর বেশিরভাগই মধ্যবয়সী পুরুষদের মধ্যে দেখা যায়।

আরও পড়ুন

দীর্ঘ সময় কাজের প্রভাব হঠাৎ করে নয়, ধীরে ধীরে শরীরকে দুর্বল করে দেয়। বছরের পর বছর অতিরিক্ত চাপ নিতে নিতে এক সময় তা বড় বিপদ ডেকে আনে। যেমন—হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মানসিক অবসাদসহ নানা জটিলতা।

অতিরিক্ত কাজ শুধু শরীর নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বড় আঘাত হানে। অনেকেই ঘুম কমিয়ে দেন, ব্যায়াম করেন না, অনিয়মিত খাবার খান। যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

ঢাকার এক চাকরিজীবী জানান, সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে করতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সব সময় ক্লান্তি, বিরক্তি আর অবসাদে ভুগতেন। শেষ পর্যন্ত চাকরিই ছেড়ে দিতে হয় তাকে।

করোনার পর এই প্রবণতা আরও বেড়েছে। লকডাউনের সময় অনেক দেশে কাজের সময় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

বিশেষ করে যারা ভিন্ন সময় অঞ্চলের কাজ করেন, যেমন রাতে কাজ করা কর্মীরা তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তাদের জীবনের অংশ হয়ে যায়।

গবেষকরা আরও বলছেন, দীর্ঘ সময় কাজ করার একটি বড় সমস্যা হলো মানুষ এই চক্র থেকে বের হতে পারে না। জীবিকার চাপে অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত কাজ করে যান।

অন্যদিকে, অনেক প্রতিষ্ঠানে সবসময় কাজের জন্য প্রস্তুত থাকার সংস্কৃতিও চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। অফিস শেষে বাসায় গিয়েও কাজের বার্তা, ফোন। সব মিলিয়ে বিশ্রাম আর বিশ্রাম থাকে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা ১৭ ঘণ্টা জেগে কাজ করলে শরীরের অবস্থা প্রায় মদ্যপ মানুষের মতো হয়ে যায়। তখন মনোযোগ, প্রতিক্রিয়া সবকিছুই দুর্বল হয়ে পড়ে। যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

তবে আশার কথাও আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কাজের সময় কমালে মানুষ বেশি সুস্থ থাকে এবং কাজের মানও বাড়ে। এমনকি সপ্তাহে চার দিন কাজ করলে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বাড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কর্মীদের সুস্থ রাখতে কাজের সময় সীমিত করা জরুরি। কারণ অতিরিক্ত কাজ শুধু কর্মীর ক্ষতি করে না। বরং উৎপাদনশীলতাও কমিয়ে দেয়।

তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কাজ করুন, কিন্তু নিজের সীমার মধ্যে। কারণ জীবনের চেয়ে বড় কোনো কাজ নয়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
কাজের চাপ, যানজট কিংবা অপরিচ্ছন্ন শৌচাগারের কারণে অনেকেই প্রস্রাবের বেগ অনুভব করেও দীর্ঘক্ষণ তা আটকে রাখেন। তবে একবার এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলেই কি শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হয়?
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
দশমী মানেই দেবীবরণের আবেগ, মিষ্টিমুখ আর লাল সিঁদুরে রাঙা একরাশ আনন্দ।
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
আরও পড়ুন
কম বয়সে বডি বিল্ডারদের কেন বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি
অতিরিক্ত কাজের চাপে তরুণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু