তীব্র গরমে শরীরের ভেতরে ঘটে যায় একাধিক পরিবর্তন। কখনো হালকা অসুস্থতা, আবার কখনো মারাত্মক ঝুঁকি—সবই শুরু হয় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া থেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রাখে। কিন্তু বাইরে প্রচণ্ড গরম পড়লে এই ভারসাম্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।
শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়?
তাপমাত্রা বাড়লে শরীরের রক্তনালী প্রসারিত হয়। এতে রক্তচাপ কমে যায় এবং হৃদপিণ্ডকে আরও বেশি কাজ করতে হয়। এই অবস্থায় শরীরে দেখা দিতে পারে চুলকানিযুক্ত ঘামাচি বা পা ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা।
একই সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম শরীর থেকে পানি ও লবণ কমিয়ে দেয়। ফলে পানিশূন্যতা তৈরি হয় এবং দেখা দিতে পারে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, পেশিতে টান, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ।
বিপদ বাড়ে কখন?
রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে গেলে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বেড়ে যায় বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি ঝুঁকিতে থাকেন—
- বয়স্ক মানুষ
- শিশু ও ছোট বাচ্চারা
- দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি (যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস)
- স্মৃতিভ্রষ্টতা বা মস্তিষ্কজনিত রোগে আক্রান্তরা
- একা বসবাসকারী বা গরমে বেশি সময় বাইরে থাকা মানুষ
গরমে কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—
- দুপুর ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে রোদ এড়িয়ে চলা
- ঘরের পর্দা টেনে রাখা ও ঠান্ডা পরিবেশ বজায় রাখা
- পর্যাপ্ত পানি পান করা, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা
- হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা
- রোদে বের হলে ছাতা, টুপি ও সানস্ক্রিন ব্যবহার
- ভারী শারীরিক কাজ এড়িয়ে চলা
হিটস্ট্রোক হলে কী করবেন?
যদি কেউ হিট এক্সহস্টশন বা হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়—
- তাকে ঠান্ডা জায়গায় নিতে হবে
- শুইয়ে পা সামান্য উঁচু করতে হবে
- পানি বা রিহাইড্রেশন তরল খাওয়াতে হবে
- শরীরে ঠান্ডা পানি স্প্রে বা ভেজা কাপড় দিতে হবে
৩০ মিনিটের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে এটি জরুরি অবস্থা। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে।
গরম শুধু অস্বস্তি নয়, এটি সরাসরি জীবনঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই সতর্কতা ও সচেতনতাই হতে পারে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
সুত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ




