কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ পরিচিত কারও নাম ভুলে যাচ্ছেন? পড়াশোনা বা কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে কষ্ট হচ্ছে? অনেকেই ভাবেন, বয়স বাড়লেই মস্তিষ্কের শক্তি কমে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ অভ্যাস বদলালেই মস্তিষ্ককে আরও তীক্ষ্ণ ও সক্রিয় রাখা সম্ভব।
গবেষকদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম মস্তিষ্কে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। হাঁটা, দৌড়ানো বা খোলা জায়গায় শরীরচর্চা করলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে। এতে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ দুটোই উন্নত হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, হাঁটতে হাঁটতে কিছু মুখস্থ করলে তা বেশি দিন মনে থাকে। তাই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য বা পড়া হাঁটার সময় ঝালিয়ে নিলে মস্তিষ্ক দ্রুত তথ্য ধরে রাখতে পারে।
খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। কারণ শরীরের শক্তির বড় একটি অংশ ব্যবহার করে মস্তিষ্ক। বাদাম, মাছ, বীজ, ফল ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। একই সঙ্গে একা না খেয়ে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে খেলে মানসিক স্বস্তিও বাড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও চাপ মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। তাই কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়া জরুরি। কিছু সময় নিজের মতো কাটানো, ধ্যান করা বা শান্ত পরিবেশে থাকা মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়।
নতুন কিছু শেখাও মস্তিষ্কের জন্য দারুণ উপকারী। নতুন ভাষা শেখা, ছবি আঁকা, ধাঁধা সমাধান বা নতুন কোনও দক্ষতা আয়ত্ত করার চেষ্টা মস্তিষ্ককে আরও সচল রাখে।
গান শোনা বা গান গাওয়ার অভ্যাসও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গান মস্তিষ্কের প্রায় সব অংশকে সক্রিয় করে তোলে। তাই নিয়মিত গান শুনলে মন ভালো থাকার পাশাপাশি স্মৃতিশক্তিও শক্তিশালী হয়।
ভালো ঘুমের গুরুত্বও অনেক। কারণ ঘুমের সময় মস্তিষ্ক দিনের শেখা তথ্যগুলো স্থায়ী স্মৃতিতে পরিণত করে। তাই রাত জেগে কাজ করার বদলে পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাস বদলালেই মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন তীক্ষ্ণ ও কর্মক্ষম রাখা সম্ভব।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ



