“বোঝা থেকে সমাধান: সর্বত্র নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ আজ রোববার ৭ জুন সারা বিশ্বে উদযাপিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অনিরাপদ খাদ্য এখনো বিশ্বব্যাপী একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। এতে মানুষ অসুস্থ হচ্ছে, জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অর্থনীতিও দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে সংস্থাটির মতে, এই সমস্যার বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য।
বৈজ্ঞানিক সমাধানই মূল লক্ষ্য
এবারের বিশ্বব্যাপী বার্তায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জোর দিচ্ছে তথ্যভিত্তিক ও বিজ্ঞাননির্ভর সমাধানের ওপর। খাদ্যজনিত রোগ, মৃত্যুহার এবং আর্থিক ক্ষতির তথ্য বিশ্লেষণ করে কার্যকর ও কম খরচে সমাধান বের করাই মূল উদ্দেশ্য।
সংস্থাটি বলছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু সতর্কতা নয়, প্রয়োজন শক্ত নীতিমালা, বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ এবং বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
বাংলাদেশে দিবসের কর্মসূচি
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে আলোচনা সভা, প্রচার কার্যক্রম ও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যু। অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, বিপাকজনিত সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে খাদ্য পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধির ঘাটতি, সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা এবং ক্ষুদ্র উৎপাদক পর্যায়ে অবকাঠামোগত দুর্বলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
তারা বলছেন, খাদ্য নিরাপত্তা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়—এটি উৎপাদক, বিক্রেতা এবং ভোক্তা সবার যৌথ দায়িত্ব।
তাই বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে—নিরাপদ খাদ্য কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ জীবন ও টেকসই ভবিষ্যতের মৌলিক শর্ত।
আরটিভি/জেএমএ



