গরমের দিনে আম-লিচুর পাশাপাশি বাজারে এখন জমে উঠেছে রসালো কালচে বেগুনি রঙের জাম। সামান্য কষা, আবার মিষ্টি স্বাদের এই ফল অনেকের কাছেই প্রিয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এটি তুলনামূলক উপকারী ফল হিসেবেও পরিচিত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল নিয়মে জাম খেলে উপকারের বদলে হতে পারে ক্ষতিও।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম কতটা উপকারী?
জামের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম এবং এতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি। তাই পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি ডায়াবেটিকদের জন্য উপকারী হতে পারে।
তবে বেশি খেয়ে ফেললে সমস্যা তৈরি হতে পারে, কারণ ফলের ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক ফ্রুকটোজ অতিরিক্ত হলে শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা জাম খেলে ক্ষতির ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু ক্ষেত্রে জাম খাওয়ার সময় সতর্ক থাকা জরুরি—
কিডনির সমস্যা থাকলে
জামে থাকা অক্সালেট উপাদান ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে। এছাড়া এতে পটাশিয়ামের মাত্রাও বেশি, যা কিডনি রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
হজমের সমস্যা থাকলে
জামে প্রচুর ফাইবার থাকে। বেশি খেলে—
- পেট ফাঁপা
- গ্যাস
- কোষ্ঠকাঠিন্য
- পেটে অস্বস্তি
এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের অন্ত্রের সমস্যা আছে, তাদের সতর্ক থাকা দরকার।
লবণ-মশলা দিয়ে খেলে
অনেকে জামের সঙ্গে লবণ ও মরিচগুঁড়ো মিশিয়ে খান। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এই অভ্যাস ক্ষতিকর হতে পারে।
জাম খাওয়ার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—
- জাম খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে পানি না খাওয়া
- খালি পেটে জাম না খাওয়া
- জাম খাওয়ার পর দুধ, দই বা দুগ্ধজাত খাবার না খাওয়া
- জাম ও হলুদ একসঙ্গে না খাওয়া
জাম স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও তা নির্ভর করে পরিমাণ ও খাওয়ার নিয়মের ওপর। ডায়াবেটিক রোগীরা এটি খেতে পারেন, তবে মাত্রা ও সঠিক নিয়ম মানা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় উপকারের বদলে শরীরে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন জটিলতা।
আরটিভি/জেএমএ



