ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

পায়খানা চেপে রাখলে শরীরে যা ঘটে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

এই অভিজ্ঞতা আমাদের প্রায় সবারই আছে। অনেক সময় টয়লেটে যাওয়ার তাগিদ হয়, কিন্তু কোনো কারণে তা হয় না। হতে পারে আপনি কর্মস্থলে আছেন, ভ্রমণ করছেন অথবা কাছাকাছি কোনো শৌচাগার নেই। তাই হয়তো চেপে রাখেন। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে, এটি মাঝে মাঝে ঘটে এবং এতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু যদি এটি অভ্যাসে পরিণত হয়? নিয়মিত অন্ত্রের সংকেত উপেক্ষা করতে থাকলে শরীরে কী ঘটে? পায়খানা চেপে রাখা সত্যিই কি ক্ষতিকর? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

পায়খানা চেপে রাখলে কী হয়?

মাঝে মাঝে পায়খানা চেপে রাখা সাধারণত ক্ষতিকর নয়, কিন্তু এটি ঘন ঘন করলে তা হজম স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। মলত্যাগের তাগিদ হলে শরীর আপনাকে জানায় যে বর্জ্য পদার্থ বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত। আপনি যদি এই সংকেত উপেক্ষা করেন, তাহলে মল আপনার কোলনে বেশিক্ষণ থেকে যায়। সেখানে থাকার ফলে মল থেকে আরও বেশি পানি শোষিত হয়। এর ফলে মল আরও শক্ত, শুষ্ক এবং পরে বের করা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

২০২২ সালের একটি হেলথকেয়ার স্টাডি অনুসারে, মল চেপে রাখলে মলদ্বার প্রসারিত হয় এবং মল থেকে পানি বেরিয়ে যায়, ফলে এটি শুষ্ক, শক্ত এবং বের করার সময় যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে। এই অভ্যাসের কারণে মস্তিষ্ক মলত্যাগের তাগিদ অনুভব করা বন্ধ করে দেয়, যা থেকে গুরুতর কোষ্ঠকাঠিন্য, পেশীর ক্ষতি বা অন্ত্রে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে।

কী স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে?

আরও পড়ুন

নিয়মিত এমন করলে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। নিয়মিত মল চেপে রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, পেটে অস্বস্তি, মলত্যাগের সময় চাপ দেওয়া, কঠিন মল ত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে অর্শ (হেমোরয়েডস) ইত্যাদি হতে পারে। যেসব শিশু প্রায়শই মলত্যাগের তাগিদ উপেক্ষা করে, তাদের দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অন্ত্র-সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

মলত্যাগ বিলম্বিত করা কি আদৌ ঠিক?

এর উত্তরটা সহজ নয়। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ, কাজ বা শৌচাগারের অভাবের কারণে মাঝে মাঝে দেরি হওয়াটা সাধারণত গুরুতর কোনো উদ্বেগের বিষয় নয়। তবে এটিকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত নয়। ধীরে ধীরে বারবার মলত্যাগের তাগিদ উপেক্ষা করলে এই সংকেতগুলোর প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতা কমে যেতে পারে, যার ফলে কখন মলত্যাগের প্রয়োজন তা বোঝা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

মলত্যাগের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস কীভাবে বজায় রাখবেন?

* পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
* ফল, শাকসবজি, শস্যদানা এবং ডালসহ আঁশযুক্ত খাবার খান।
* শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন।
* যখনই মলত্যাগের তাগিদ অনুভব করবেন, তখনই তা করুন।
* এই অভ্যাসগুলো মলকে নরম ও সহজে ত্যাগযোগ্য রাখতে সাহায্য করতে পারে।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

ঘন ঘন কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্ত বা মলত্যাগের অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন অনুভব করলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

আরটিভি/এমএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
আরও পড়ুন
কয়েক বছরের মধ্যে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জবিতে মানসিক স্বাস্থ্যচর্চায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান উপাচার্যের
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একদিনে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৩১   
‘৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিচ্ছে সরকার’