ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবস আজ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবস আজ । ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৩ জুন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে। ক্রীড়া, সুস্থ জীবনযাপন, বন্ধুত্ব ও বিশ্বসম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর এ দিনটি উদযাপন করা হয়।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য কী?

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবস ২০২৬-এর বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘খেলাধুলা: সেতুবন্ধন গড়ে তুলি, বাধা ভেঙে দিই’। এই প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য হলো খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষে মানুষে দূরত্ব কমানো, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভেদ দূর করা এবং সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা।

এছাড়া আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির চলমান বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘চলুন নড়াচড়া করি’-এর আওতায় ২০২৬ সালে বিশেষভাবে তরুণদের খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এবারের বার্তা হলো—‘আপনিও পারবেন’।

বাংলাদেশ অলিম্পিক সংস্থাও সাধারণত বিশ্ব প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দিবসটি পালন করে থাকে। বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন, শোভাযাত্রা, দৌড় প্রতিযোগিতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

কেন পালিত হয় আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবস?

আধুনিক অলিম্পিক আন্দোলনের জন্মকে স্মরণ করতেই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবস পালন করা হয়। ১৮৯৪ সালের ২৩ জুন ফ্রান্সের প্যারিসে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৪৮ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবস চালু করা হয়।

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো—

১. খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি করা
২. সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনে উৎসাহ দেওয়া
৩. অলিম্পিকের মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া
৪. জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির ভেদাভেদ ভুলে বিশ্বসম্প্রীতি গড়ে তোলা

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবসের ইতিহাস

অলিম্পিকের ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসে। তবে আধুনিক অলিম্পিকের ধারণা বাস্তব রূপ দেন ফরাসি শিক্ষাবিদ পিয়ের দ্য কুবেরতাঁ। তাঁর উদ্যোগে ১৮৯৪ সালের ২৩ জুন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৮৯৬ সালে গ্রিসের এথেন্সে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আধুনিক অলিম্পিক গেমস।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে শান্তি, বন্ধুত্ব ও ক্রীড়াচেতনা ছড়িয়ে দিতে ১৯৪৮ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবস উদযাপন শুরু হয়। প্রথমদিকে মাত্র কয়েকটি দেশে দিবসটি পালিত হলেও বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হয়।

অলিম্পিকের মূল মূল্যবোধ

অলিম্পিক আন্দোলনের তিনটি প্রধান মূল্যবোধ হলো—

১. উৎকর্ষ সাধন
২. বন্ধুত্ব
৩. সম্মান

এই মূল্যবোধগুলো শুধু খেলাধুলার মাঠেই নয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশে দিবসটির গুরুত্ব

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর ক্রীড়াবিদ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করা এবং মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে শারীরিক কার্যক্রম কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবস মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

খেলাধুলাই পারে বিশ্বকে এক করতে

ভাষা, জাতি, ধর্ম কিংবা ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করানোর শক্তি রয়েছে খেলাধুলার। সেই বার্তাই বহন করে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবস। তাই শুধু ক্রীড়াবিদ নয়, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে প্রত্যেক মানুষের জন্যই দিনটির গুরুত্ব বিশেষ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
গর্ভাবস্থায় অনেক নারী হঠাৎ কিছু বিষয় ভুলে যাওয়ার সমস্যায় পড়েন।
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
কোষ্ঠকাঠিন্য হলেই অনেকের মনে পড়ে ইসবগুলের ভুসির কথা। পানিতে মিশিয়ে খাওয়া পরিচিত এই খাবারটি দীর্ঘদিন ধরে পেট পরিষ্কার রাখতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ইসবগুলের উপকারিতা শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
বয়সের ছাপ কমানো থেকে শুরু করে মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ—বিভিন্ন কারণে বোটক্স ব্যবহার করা হয়।
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
রাতে বিছানায় শুয়ে আছেন, কিন্তু পায়ে কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে।
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
শিয়ালের মাংস খেলে বাতের ব্যথা সারে, তক্ষক খেলে হাঁপানি থেকে যৌনক্ষমতা নানা রোগের চিকিৎসা হয়, আবার জোঁকের তেল নাকি সারিয়ে দেয় বাত-ব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে এমন নানা লোকবিশ্বাস। তবে এসব দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা?
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
আরও পড়ুন
যে কারণে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্ত করবে না অলিম্পিক কমিটি
অলিম্পিকে লিঙ্গ পরীক্ষার প্রতিবাদে সোচ্চার সেমেনিয়া
অলিম্পিকের টিকিট বিক্রির তারিখ ঘোষণা
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ২০২৮ অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়ার খেলা নিয়ে শঙ্কা