ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ভুল যত্নেই নষ্ট হচ্ছে কাঠের চপিংবোর্ড

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
ভুল যত্নেই নষ্ট হচ্ছে কাঠের চপিংবোর্ড । ছবি: সংগৃহীত

একসময় রান্নাঘরের অপরিহার্য সরঞ্জাম ছিল বঁটি। তবে সময়ের সঙ্গে এখন অনেকের রান্নাঘরে জায়গা করে নিয়েছে ছুরি আর কাঠের চপিংবোর্ড। ব্যবহার সহজ, কাজও দ্রুত হয়। তবে অনেকের ধারণা, কাঠের কাটার পাট দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে ব্যবহার ও যত্ন নিলে একটি কাঠের চপিংবোর্ড বছরের পর বছর ভালো রাখা সম্ভব।

কেন ব্যবহার করবেন কাঠের চপিংবোর্ড?

কাঠের চপিংবোর্ড সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি। এটি পরিবেশবান্ধব এবং সহজে নষ্ট হয়ে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যায়। শুধু তাই নয়, কাঠের ওপর ছুরি চালালে ছুরির ধারও তুলনামূলক বেশি দিন ঠিক থাকে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কাঠের পৃষ্ঠে কিছু ধরনের জীবাণু দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে না। তাই সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখলে এটি স্বাস্থ্যসম্মতভাবেও ব্যবহার করা যায়।

কী সমস্যা হতে পারে?

যত্নের অভাবে কাঠের চপিংবোর্ডে ছোট ছোট ফাটল তৈরি হতে পারে। সাধারণত কাঠের ভেতরের আর্দ্রতা কমে গেলে এটি শুকিয়ে যায় এবং ফাটল ধরে।

আরও পড়ুন

এই ফাটলের মধ্যে খাবারের কণা ও ময়লা জমে জীবাণু জন্মাতে পারে। আবার বোর্ডের পৃষ্ঠ অসমান হয়ে গেলে কাটার সময় সেটি নড়বড়ে হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।

ফাটল রোধে যা করবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত তেল ব্যবহার করলে কাঠের ভেতরের আর্দ্রতা বজায় থাকে। ফলে কাঠ শুকিয়ে ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে।

খাবার উপযোগী তেল, যেমন নারিকেল তেল বা সরিষার তেল হালকা করে বোর্ডের ওপর লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এতে তেল কাঠের ভেতরে শোষিত হবে এবং কাঠ আরও মজবুত থাকবে।

যেভাবে পরিষ্কার করবেন

প্রতিবার ব্যবহার শেষে কুসুম গরম পানি ও হালকা বাসন ধোয়ার তরল দিয়ে কাটার পাট ধুয়ে ফেলুন। তবে কখনোই দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না বা বাসন ধোয়ার যন্ত্রে পরিষ্কার করবেন না। এতে কাঠ ফুলে যেতে পারে বা ফেটে যেতে পারে।

মাছ বা মাংস কাটার পর দুর্গন্ধ থাকলে বোর্ডের ওপর সামান্য লবণ ছিটিয়ে অর্ধেক লেবু দিয়ে ভালোভাবে ঘষুন। কয়েক মিনিট পর ধুয়ে ফেললে দাগ ও দুর্গন্ধ অনেকটাই দূর হবে।

শুকিয়ে রাখাও জরুরি

ধোয়ার পর শুকনো কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় খাড়া করে শুকাতে দিন। ভেজা অবস্থায় ফেলে রাখলে ছত্রাক ও ফাঙ্গাস জন্মাতে পারে।

কত দিন পরপর তেল লাগাবেন?

যদি নিয়মিত ব্যবহার করেন, তাহলে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার তেল লাগানো ভালো। আর কম ব্যবহার করলে মাসে এক বা দুইবার তেল লাগালেই যথেষ্ট। বোর্ডের রং ফ্যাকাশে হয়ে গেলে বা শুষ্ক মনে হলে বুঝবেন, আবার তেল লাগানোর সময় হয়েছে।

সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই কাঠের চপিংবোর্ড দীর্ঘদিন নতুনের মতো ব্যবহার করা সম্ভব। তাই রান্নাঘরের এই প্রয়োজনীয় সরঞ্জামটিরও নিয়মিত যত্ন নিতে ভুলবেন না।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
সরকারি চাকরিজীবীদের ১১ ধরনের সুযোগ-সুবিধায় আসছে বড় পরিবর্তন
সোহমের বাড়িতে আলমারি বানাতে গিয়ে ‘মহা মসিবতে’ কাঠমিস্ত্রি
আস্ত কাঠবাদাম নাকি দুধ, কোনটিতে বেশি পুষ্টি
৪৫ বছর বয়সে এসএসসি পাস করলেন কাঠমিস্ত্রি নাসিমুল