ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বর্ষায় বাড়ির প্রবেশপথের দরজায় ভিনেগার কেন স্প্রে করবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ এএম
বর্ষায় বাড়ির প্রবেশপথের দরজায় ভিনেগার কেন স্প্রে করবেন । ছবি: সংগৃহীত

বর্ষাকালে ঘরে পিঁপড়া, মাকড়সা, তেলাপোকাসহ নানা ধরনের পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। একই সঙ্গে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে দুর্গন্ধের সমস্যাও দেখা দেয়। এ সময় অনেকেই রাসায়নিক পরিষ্কারক ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘর পরিষ্কার ও পোকামাকড় দূরে রাখার চেষ্টা করেন। এমন একটি সহজ ও জনপ্রিয় উপায় হলো সাদা ভিনেগার ব্যবহার।

সম্প্রতি ঘরের মূল দরজার সামনে বা বাড়ির প্রবেশপথে ভিনেগার স্প্রে করার একটি ঘরোয়া কৌশল বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পোকামাকড়ের উপদ্রব কমাতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি দরজার আশপাশ পরিষ্কার ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখতেও ভূমিকা রাখে।

কেন বাড়ির প্রবেশপথের দরজায় ভিনেগার স্প্রে করবেন?

বিশেষজ্ঞরা জানান, সাদা ভিনেগারের তীব্র গন্ধ অনেক ধরনের পোকামাকড় সহ্য করতে পারে না। তাই দরজার আশপাশে এটি স্প্রে করলে পিঁপড়া, মাকড়সা, তেলাপোকা এবং অন্যান্য ছোট পোকা সেই পথ এড়িয়ে চলতে পারে।

বিশেষ করে বর্ষা ও গরমের সময়ে, যখন পোকামাকড়ের উপদ্রব বেশি থাকে, তখন এটি একটি কার্যকর প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে এটি কোনো কীটনাশকের বিকল্প নয়, বরং পোকামাকড়ের প্রবেশ কমানোর একটি সহজ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

যেভাবে তৈরি করবেন ভিনেগারের মিশ্রণ

এই মিশ্রণ তৈরি করা খুবই সহজ। একটি স্প্রে বোতলে সমপরিমাণ সাদা ভিনেগার ও পরিষ্কার পানি মিশিয়ে নিলেই ব্যবহার উপযোগী হয়ে যাবে। পানি মেশানোর ফলে ভিনেগারের তীব্র গন্ধ কিছুটা কমে, তবে এর কার্যকারিতা অনেকটাই বজায় থাকে।

কোথায় স্প্রে করবেন?

মিশ্রণটি ঘরের মূল দরজার কাঠের ফ্রেম, দরজার নিচের অংশ, প্রবেশপথের মেঝে এবং আশপাশের কোণায় হালকাভাবে স্প্রে করুন।

আরও পড়ুন

দরজার পাশে যদি কোনো ফাটল বা ছোট ছিদ্র থাকে, সেখানেও স্প্রে করা যেতে পারে। কারণ এসব জায়গা দিয়েই অনেক সময় পোকামাকড় ঘরে প্রবেশ করে। তবে অতিরিক্ত ভিজিয়ে না দিয়ে হালকা করে স্প্রে করাই যথেষ্ট।

কত দিন পরপর ব্যবহার করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুই দিন এই মিশ্রণ ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত ব্যবহার করলে দরজার আশপাশে একটি প্রাকৃতিক প্রতিরোধ স্তর তৈরি হয়, যা অনেক পোকামাকড়কে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

দুর্গন্ধও কমাতে পারে

বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় দরজার আশপাশে অস্বস্তিকর গন্ধ তৈরি হয়। নিয়মিত পরিষ্কার করার পাশাপাশি ভিনেগারের মিশ্রণ ব্যবহার করলে সেই গন্ধও অনেকটা কমে যায়। ফলে ঘরের প্রবেশপথ পরিষ্কার ও সতেজ থাকে।

ব্যবহারের আগে যা জানা জরুরি

তবে সব ধরনের জায়গায় সাদা ভিনেগার ব্যবহার করা ঠিক নয়। মার্বেল, গ্রানাইট, প্রাকৃতিক পাথর বা কিছু পালিশ করা কাঠের ওপর সরাসরি ভিনেগার ব্যবহার করলে ক্ষতি হতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্ষায় ঘর পরিষ্কার, দুর্গন্ধ কমানো এবং পোকামাকড়ের উপদ্রব কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সহজ ঘরোয়া উপায়টি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বড় ধরনের পোকামাকড়ের সমস্যা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ বা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
বহু বছর পর নানার বাড়ি আসছি, একটু কথা বলতে দাও: প্রধানমন্ত্রী
বাড়ি কিনতে মিলবে ৪ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ