ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিদিন সকালে ওটস খেলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
প্রতিদিন সকালে ওটস খেলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে । ছবি: সংগৃহীত

ব্যস্ত জীবনে এমন একটি সকালের নাস্তা অনেকেই খোঁজেন, যা একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর এবং খুব সহজে তৈরি করা যায়। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রাতে ভিজিয়ে রাখা ওটস। আগের রাতে দুধ বা টক দইয়ের সঙ্গে ওটস ভিজিয়ে রেখে সকালে তাতে ফল, বাদাম কিংবা বিভিন্ন বীজ মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই তৈরি হয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, প্রতিদিন সকালে এই খাবার খাওয়া কি সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক উপায়ে তৈরি করলে রাতে ভিজিয়ে রাখা ওটস একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা হতে পারে। নিয়মিত খেলে শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও দেখা যেতে পারে।

হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে

ওটসে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় আঁশ থাকে, যার মধ্যে বিটা-গ্লুকান অন্যতম। এই আঁশ অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং মলত্যাগ সহজ করে। ফলে নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে এবং হজমশক্তিও উন্নত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ওটস অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর জন্য খাবার হিসেবে কাজ করে। এতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়।

আরও পড়ুন

দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে

অনেকেরই সকালের নাস্তার কিছুক্ষণ পর আবার ক্ষুধা লাগে। তবে ওটস ধীরে ধীরে হজম হওয়ায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি থাকে। এতে বারবার অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমাতে চান, তাদের জন্য এটি ভালো একটি বিকল্প হতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওটস সরাসরি ওজন কমায় না। তবে এটি দীর্ঘ সময় তৃপ্তি ধরে রাখায় অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়াও সচল রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এতে অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি সিরাপ, চকলেট বা বেশি পরিমাণ শুকনো ফল মেশালে ক্যালোরি বেড়ে যায়। তখন উপকারের বদলে ওজন বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে

ওটস ধীরে ধীরে হজম হওয়ায় খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায় না। এ কারণে এটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যও উপকারী সকালের নাস্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ওটসে অতিরিক্ত মধু, চিনি বা মিষ্টি সিরাপ না মেশানোই ভালো। এতে এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অক্ষুণ্ন থাকে।

ভিজিয়ে রাখা নাকি রান্না করা—কোনটি ভালো?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিজিয়ে রাখা ও রান্না করা—দুই ধরনের ওটসের পুষ্টিগুণ প্রায় একই। তবে রাতে ভিজিয়ে রাখলে ওটস নরম হয়ে যায়, ফলে অনেকের জন্য এটি সহজে হজম হয়।

এছাড়া দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখলে ওটসে থাকা কিছু উপাদানের পরিমাণ কমে যায়, ফলে শরীর প্রয়োজনীয় কিছু খনিজ আরও সহজে গ্রহণ করতে পারে।

যেভাবে তৈরি করলে উপকার বেশি

পুষ্টিবিদরা রোল করা ওটস ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এতে দুধ বা চিনি ছাড়া টক দই মিশিয়ে সারা রাত ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। সকালে এর সঙ্গে কলা, আপেল, আম বা মৌসুমি ফল যোগ করা যায়।

এছাড়া কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া বীজ, তিসির বীজ বা কুমড়ার বীজ মিশিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে। সামান্য দারুচিনির গুঁড়াও স্বাদ ও উপকারিতা বাড়াতে পারে।

তবে অতিরিক্ত মিষ্টি দই, চকলেট, সুগন্ধি সিরাপ বা বেশি পরিমাণ শুকনো ফল ব্যবহার না করাই ভালো বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে সঠিক উপায়ে তৈরি করা ওটস খেলে হজম ভালো রাখা, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো বিভিন্ন উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে এর সঙ্গে অবশ্যই সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা প্রয়োজন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে