ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা অনেক সময় দীর্ঘদিন শরীরে থাকলেও সহজে ধরা পড়ে না। অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া, স্নায়ুর ক্ষতি, চোখের দৃষ্টি হারানো এমনকি পা কেটে ফেলার মতো জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
তাই শরীরের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বারবার প্রস্রাব হওয়া
হঠাৎ করে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি প্রস্রাব হলে সতর্ক হতে হবে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে অতিরিক্ত শর্করা প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হতে থাকে। এর সঙ্গে শরীরের অনেক পানি বের হয়ে যাওয়ায় বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হয়।
অতিরিক্ত পিপাসা লাগা
ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে সব সময় তৃষ্ণা লাগে। অনেকেই তখন মিষ্টি পানীয় পান করেন, যা রক্তে শর্করা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই অতিরিক্ত পিপাসা লাগলে শুধু পানি পান করলেই হবে না, চিকিৎসকের পরামর্শও নিতে হবে।
হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন না থাকলেও যদি দ্রুত ওজন কমে যায়, তবে এটি ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন না থাকলে খাবার থেকে শক্তি তৈরি হয় না। তখন শরীর শক্তির জন্য চর্বি ও পেশি ভাঙতে শুরু করে, ফলে দ্রুত ওজন কমে যায়।
ত্বকে পরিবর্তন দেখা দেওয়া
রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে ত্বকে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ঘাড়, বগলসহ শরীরের কিছু স্থানে কালচে ও মসৃণ দাগ হতে পারে। এছাড়া ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ছোট ছোট দানা বা ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে।
ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া
ছোটখাটো কাটা বা আঘাতের ক্ষত যদি সহজে না শুকায়, তাহলে সেটিও ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে। পাশাপাশি হাত বা পায়ের আঙুলে ঝিনঝিনি ভাব, অবশ অনুভূতি বা সংবেদনশীলতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ঝাপসা দেখা
হঠাৎ ঝাপসা দেখা আবার কিছু সময় পর স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া রক্তে শর্করার ওঠানামার লক্ষণ হতে পারে। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে চোখের রক্তনালির ক্ষতি হয়ে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
কী করলে ঝুঁকি কমবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো ডায়াবেটিস দ্রুত শনাক্ত করার সবচেয়ে ভালো উপায়। পাশাপাশি প্রতিদিন সুষম খাবার খেতে হবে, বেশি ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য ও চর্বিহীন প্রোটিন রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়। মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলা জরুরি।
নিয়মিত শরীরচর্চাও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুমও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
কেন সতর্ক থাকা জরুরি?
ডায়াবেটিসের লক্ষণ অনেক সময় খুব সাধারণ মনে হলেও এগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়। বারবার প্রস্রাব, অতিরিক্ত পিপাসা, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া বা ঝাপসা দেখার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে রোগ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতা অনেকটাই এড়ানো যায় এবং সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।
সূত্র: ইউএনসি হেলথ টক
আরটিভি/জেএমএ



