ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

প্রয়োজন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন? হতে পারে ভয়ংকর ক্ষতি

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
প্রয়োজন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন? হতে পারে ভয়ংকর ক্ষতি । ছবি: সংগৃহীত

জ্বর, গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি বা শরীর খারাপ হলেই অনেকেই দ্রুত সুস্থ হওয়ার আশায় অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলেন। আবার কেউ কেউ চিকিৎসকের কাছেও অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য জোর করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুধু অকার্যকরই নয়, এটি শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক শুধু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে। যেমন গলার ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, কানের সংক্রমণ, ত্বকের সংক্রমণ, মূত্রনালির সংক্রমণ কিংবা কিডনির কিছু সংক্রমণে এটি কার্যকর। কিন্তু সাধারণ সর্দি, মৌসুমি জ্বর, ফ্লু বা করোনা ভাইরাসজনিত অসুস্থতায় অ্যান্টিবায়োটিক কোনো উপকার করে না।

অনেক সময় ভাইরাসজনিত অসুস্থতার লক্ষণ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের সঙ্গে মিল থাকায় মানুষ বিভ্রান্ত হন। তবে কোন রোগে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করবেন চিকিৎসক।

বিশেষজ্ঞরা জানান, অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে শরীরে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ত্বকে র‍্যাশ, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, বমি, অ্যালার্জি এবং কিডনি বা যকৃতের কার্যকারিতায় সমস্যা।

এছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে দেয়। বিশেষ করে অন্ত্রের উপকারী জীবাণু হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো নষ্ট হয়ে গেলে ক্ষতিকর জীবাণু সহজে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়া। প্রয়োজন ছাড়া বারবার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফলে ভবিষ্যতে সত্যিকারের সংক্রমণ হলেও সেই অ্যান্টিবায়োটিক আর কার্যকর নাও হতে পারে। তখন আরও শক্তিশালী ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও বেশি।

এ ধরনের প্রতিরোধ শুধু একজন ব্যক্তির জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া সহজেই অন্য মানুষের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে এমন সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ে, যেগুলোর চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। কেন এই ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, কতদিন খেতে হবে এবং এটি আদৌ প্রয়োজন কি না—এসব বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি।

এছাড়া চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিলে সেটি নির্ধারিত নিয়ম মেনে পুরো কোর্স শেষ করতে হবে। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করা, অন্যের অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বা ভবিষ্যতের জন্য ওষুধ জমিয়ে রাখা কোনোভাবেই ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক জীবনরক্ষাকারী ওষুধ হলেও এটি তখনই কার্যকর, যখন সঠিক রোগে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়। তাই নিজের ইচ্ছায় নয়, চিকিৎসকের পরামর্শেই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র: জাতিসংঘ হেলথ কেয়ার


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শাশুড়ির প্রতি ভালোবাসা-কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন আজ
পরিবারের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, বিপদে সাহস জোগানো কিংবা নতুন সদস্যকে আপন করে নেওয়া—পারিবারিক জীবনে শাশুড়ির অবদান অনেক সময়ই গুরুত্বপূর্ণ।
শাশুড়ির প্রতি ভালোবাসা-কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন আজ
আজ অন্যের জন্য কিছু করার দিন
সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সব সময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন হয় না।
আজ অন্যের জন্য কিছু করার দিন
নিজের সময়ের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার দিন
কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব আর মুঠোফোনের একের পর এক বার্তা—সব মিলিয়ে দিনের বেশির ভাগ সময় কখন যে কেটে যায়, তা বুঝতেই পারেন না অনেকে।
নিজের সময়ের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার দিন
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
কাজের চাপ, যানজট কিংবা অপরিচ্ছন্ন শৌচাগারের কারণে অনেকেই প্রস্রাবের বেগ অনুভব করেও দীর্ঘক্ষণ তা আটকে রাখেন। তবে একবার এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলেই কি শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হয়?
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
আরও পড়ুন
জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
ইচ্ছেমতো অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন? ডেকে আনছেন শরীরের ভয়ংকর ক্ষতি