ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

ফটোগ্রাফিতে লেন্সের ব্যবহার

হিমেল খান

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০৫:০২ পিএম
ফাইল ছবি

একুশ শতকের এই যুগে ফটোগ্রাফার নন কে? এই সময়ে প্রায় সবার হাতেই কিছু না হোক কমপক্ষে একটি স্মার্টফোন তো থাকেই। আর এই স্মার্টফোনের কল্যাণেই সবাই এখন আলোকচিত্রী বা ফটোগ্রাফার।

তবে এই আঙ্গিক থেকে বের হয়ে একটু বৃহদাকারে চিন্তা করলে দেখা যায়, এই স্মার্টফোনের যুগেও পেশাদার আলোকচিত্রের চাহিদা বিন্দুমাত্র কমে যায়নি বরং বেড়েছে। ফটোগ্রাফিতে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা। আর পেশাদার ফটোগ্রাফির জন্য কিছু বিষয় আলাদা করে ভাবতেই হয়। পেশাদার আলোকচিত্রী হিসেবে শুরু করতে চাইলে যে কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে মাথায় রাখা উচিত.

১. অন্তত মধ্যম মানের একটি পেশাদার ক্যামেরা যেমন- ডিএসএলআর (Digital Single Lens Reflex) বা সেমি এসএলআর (Single Lens Reflex).

২. ফটোগ্রাফি সম্পর্কিত পড়াশোনা ও সাধারণ জ্ঞান।

৩. নিয়মিত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের ছবি দেখা এবং সেগুলোর সাথে নিজের ছবি তুলনা করা।

৪. আর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যে ব্যাপার তা হলো ছবি তোলার জন্য প্রচণ্ড আগ্রহ, নেশা আর প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার মানসিকতা।

বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের ফটোগ্রাফির সাথে যুক্ত থাকার ফলে অনেকেই জানতে চান, ক্যামেরার সাথে কোন লেন্স কিনবেন। এক্ষেত্রে প্রথম প্রশ্নটিই হচ্ছে- ক্যামেরা কেন কিনবেন? মানে কী ধরনের ছবি তোলার উদ্দেশ্যে, যদিও অনেকেই মনে করে থাকেন ব্যক্তিগত ঘুরাফেরা, পারিবারিক অনুষ্ঠানে আর বন্ধুদের ছবি তোলার জন্যই। তবে অনেকেই আবার ভিন্নভাবে শুরু করতে চান। ওয়াইল্ড লাইফ, ন্যাচার, স্ট্রিট, ফ্যাশন, স্টিল লাইফ বা লাইফস্টাইল বিষয়ক ছবি তোলার আগ্রহও থাকে অনেকের। তাই এখানে স্বল্প পরিসরে কোন ধরনের কাজের জন্য কোন লেন্স পছন্দ করা উচিত তা নিয়ে কিছু কথা বলার প্রচেষ্টা থাকছে।

১. পোর্ট্রেইট: পোর্ট্রেইট বা মানুষের ছবি তোলার ক্ষেত্রে অনেক আলোকচিত্রীর প্রথম পছন্দ বিভিন্ন ফোকাল লেন্থের প্রাইম লেন্স, যেমন ৩৫মিমি, ৫০ মিমি, ৮৫মিমি বা ১০০ মিমি। বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত আলোকচিত্র শিক্ষক নাসির মাহমুদ মনে করেন- পোর্ট্রেইট ফটোগ্রাফির জন্য ৫০ মিমি লেন্সই আদর্শ। ৩৫ মিমি-এ কিছুটা ডিসটর্শন তৈরি হয় যা প্রকৃত আকার থেকে ছবিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে। আবার ৮৫ বা ১০০ মিমি এ ছবি তুলতে হলে বেশ দূর থেকে তুলতে হয় যা মডেল আর ফটোগ্রাফারের মাঝে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটায়। আবার ৫০মিমি এর বেশি লেন্থে ছবি তুললে সেখানেও প্রকৃত আকার ফুটিয়ে তোলা কঠিন। তাই আমরা চোখে যেমন দেখি তেমন ছবি পেতে ৫০মিমি লেন্সই আদর্শ। আর এখানে যোগাযোগ বলতে কেবল কথা বলা আর শোনাই নয়, চোখের ইশারা বুঝাসহ মডেল আর ফটোগ্রাফারের মাঝে দারুণ একটি বোঝাপড়া থাকা দরকার বলেও মনে করেন তিনি। তবে বর্তমান সময়ে অনেক ফটোগ্রাফার পোর্ট্রেইটের জন্য বিভিন্ন ফোকাল লেন্থের ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্সও ব্যবহার করেন যা তাদের বিভিন্ন ধরনের পারস্পেকটিভ ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তবে কোন লেন্সে পোর্ট্রেইট তুলবেন তা মূলত নির্ভর করে কী ধরনের ছবি তুলতে চাচ্ছেন তার ওপর। যদি অনেক বড় ফ্রেম নিয়ে তুলতে চান বা লোকেশনকে প্রাধান্য দিতে চান তবে ভালো মানের ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ১৬ থেকে ৩৫ মিমি বা ২৪ থেকে ৭০ মিমি ফোকাল লেন্থের লেন্স পছন্দ করা যেতে পারে।

ছবি. হিমেল খান ও অভিজিৎ নন্দী

২. ওয়াইল্ড লাইফ: বনে-জঙ্গলে ঘুরে ওয়াইল্ড লাইফ তুলে আনার যে প্রশান্তি, তা প্রত্যেক ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার মাত্রই মনেপ্রাণে অনুভব করেন। তবে এ ধরনের ফটোগ্রাফি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং কষ্টসাপেক্ষ কাজ। তাই তুলনামূলকভাবে আমাদের দেশে ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার সংখ্যা খুব কম। তবে এই অঙ্গনে অনেকেই এখন বেশ দারুণ কাজ করছেন। ওয়াইল্ড লাইফের ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার টেলিফটো লেন্স লাগবে। অর্থাৎ অনেক দূর থেকে যেন ছবি তোলা যায় সেজন্য কমপক্ষে ১৩৫ মিমি এরপর ১৫০ মিমি, ২০০ মিমি, ৪০০ মিমি বা ৬০০মিমি ফোকাল লেন্থের লেন্স প্রয়োজন। যারা আরও বড় মাপের ফটোগ্রাফার, তারা ৬৫০ থেকে ১৩০০ মিমি লেন্সও ব্যবহার করেন। এ ধরনের লেন্স গাছের উপরের কাঠবিড়ালি, দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কোনও বন্যপ্রাণী বা আকাশে উড়ন্ত পাখির ছবি স্পষ্ট, কাছে ও ঝকঝকে করে আমাদের কাছে উপস্থাপন করতে পারে। আবার অনেকে ম্যাক্রো ফটোগ্রাফির জন্যও এ ধরনের লেন্স ব্যবহার করেন। তবে ভালো মানের ম্যাক্রো ফটোগ্রাফির জন্য ডেডিকেটেড ম্যাক্রো লেন্স পাওয়া যায়।

ছবি. হিমেল খান

৩. ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি: ডেডিকেটেড ম্যাক্রো লেন্স ছাড়াও আরেকটি সুন্দর উপায়ে ভালো মানের ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি করা যায়। রিভার্স লেন্স ম্যাক্রো। ১৮ থেকে ৫৫ মিমি বা ৫০ মিমি প্রাইম লেন্সকে রিভার্স রিং এর সাহায্যে উল্টো করে ক্যামেরায় সেট করে অতিরিক্ত আলোকপ্রক্ষেপণের ব্যবস্থা করে ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি করা যায়। এখানে উদাহরণ হিসেবে রিভার্স রিং ব্যবহার করে তোলা দুটি ম্যাক্রো ছবি উপস্থাপন করা হলো।

ছবি. রাশিদুল ইসলাম রাব্বি ছবি. হিমেল খান

৪. ন্যাচার ও ল্যান্ডস্ক্যাপ: ন্যাচার ও ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে মূলত প্রয়োজন ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স। ফিশ আই থেকে শুরু করে ৫০মিমি এর কম ফোকাল লেন্থের সব লেন্সকে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স বলা হয়। তবে ল্যান্ডস্কেপ এর ক্ষেত্রে ৩৫ মিমি এর নিচে থাকাই ভালো। আর ন্যাচারের ক্ষেত্রে লেন্স বাছাই নির্ভর করে সাবজেক্টের উপর। সাবজেক্ট যদি ফুল বা ফল বা স্থির কিছু হয় সেক্ষেত্রে শার্পনেস আর ব্লার ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য প্রাইম লেন্স ব্যবহার করতে পারেন। তবে অ্যাপার্চার ৪ থেকে ৬ এর মধ্যে থাকলে ভালো। তাতে শার্পনেস আর ব্লার ব্যাকগ্রাউন্ড উভয়কূলই রক্ষা হয়।

ছবি. হিমেল খান

৫. স্টিল লাইফ: স্টিল লাইফ ফটোগ্রাফি অত্যন্ত মজার একটি বিষয়। চাইলে ঘরে বসেই এ ধরনের ফটোগ্রাফি করতে পারেন। বিভিন্ন জিনিস সাজিয়ে অর্থমূলক বা দেখতে সুন্দর কোনও কিছুকে সাজিয়ে ছবি তোলা যায়। আবার এ ধরনের ফটোগ্রাফিতে লাইট নিয়েও দারুণ কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এ ফটোগ্রাফিতে নিজের মতো করে সাজিয়ে কাজ করা যায় বলে লেন্স নিয়েও এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ থাকে। অনেকে অবশ্য এ ধরনের ছবির জন্য ২৪মিমি থেকে ১০৫মিমি ফোকাল লেন্থের লেন্স ব্যবহার করেন। তবে শার্পনেস ভালো পেতে আর আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য প্রাইম লেন্সও পছন্দ করেন অনেকেই।

ছবি. অভিশেক মোহাম্মদ

৬. ফ্যাশন ফটোগ্রাফি: ফ্যাশন ফটোগ্রাফিতে অনেকেই সাধারণ পোর্ট্রেইটের মতোই লেন্স ব্যবহারের কথা বলে থাকেন। তবে এখানে সাধারণত বিনিয়োগ জড়িত থাকে এবং জমকালোভাবে উপস্থাপনের একটি ব্যাপার থাকে। তাই একটু দামি লেন্স ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। সেক্ষেত্রে ৭০ থেকে ২০০মিমি আইএস ২.৮ অ্যাপার্চার এর লেন্স, ৮৫মিমি ১.৮ বা ৫০মিমি ১.৪ অ্যাপার্চার এর লেন্স ব্যবহার করতে পারলে ভালো। সেই সাথে লাইটের ব্যবহারেও গুরুত্ব দিতে হবে।

ছবি. আরিফ আহমেদ

৭. স্ট্রিট ফটোগ্রাফি: স্ট্রিট ফটোগ্রাফি অনেকেরই খুব পছন্দের বিষয়। অনেকেই রাস্তাঘাটে হাঁটতে হাঁটতে দারুণ সব বিষয়ের ছবি তুলে আনেন। বিভিন্ন এক্সিভিশন বা প্রতিযোগিতায়ও স্ট্রিট ফটোগ্রাফি বেশ প্রাধান্য পায়। এ ধরনের ছবি তোলার ক্ষেত্রে সাধারণত ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্সের ব্যবহার সর্বাধিক দেখা যায়। ১১ থেকে ১৬মিমি, ১৮ থেকে ৫৫মিমি বা ১৬ থেকে ৩৫মিমি বিভিন্ন মানের, বিভিন্ন দামের ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স পাওয়া যায় বাজারে। এর যেকোনওটি ব্যবহার করা যেতে পারে চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী। তবে ক্ষেত্র বিশেষে অনেকেই টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করেন এ ধরনের ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রেও।

ছবি. জিএমবি আকাশ

তবে যে ধরনের ফটোগ্রাফিই করেন না কেন যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার তা হলো, ছবির ক্ষুধা আর নিত্যনতুন বিষয়াবলী জানার চেষ্টা করা। ছবি তোলার আগ্রহটাই আসলে মূলকথা। সেক্ষেত্রে হাতে পারফেক্ট লেন্সটি না থাকলেও যা আছে তা দিয়েই চালিয়ে যেতে পারেন শখ কিংবা পেশাদার ফটোগ্রাফির কাজটি। মনে রাখতে হবে- ফটোগ্রাফি শেখার হাজারো নিয়ম আছে, আর ফটোগ্রাফি চর্চা করতে হয় এসব নিয়মকে ভেঙে নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য। তাই আমার কাছে প্রয়োজনীয় লেন্সটি নেই বলে যখনই থেমে গেলেন তখনই ফটোগ্রাফি নামক এই সুন্দর ভুবন থেকে হারিয়ে গেলেন। তাই কোনও অজুহাতকে পাত্তা না দিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন শখের ক্যামেরা হাতে।

সি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রতিদিন ‘কাল্পনিক চেয়ারে’ বসলে যে উপকার পাবেন
সহজ ভাষায় এটাকে বলে ‘কাল্পনিক চেয়ারে’ বসা। আর ব্যায়ামের ভাষায় স্কোয়াট। ভেঙে বললে, চেয়ারে বসার মতো করে হাঁটু ভাঁজ করে কোমর ও পিঠ সোজা রেখে দাঁড়ানো। হাত দুটো সামনের দিকে টানটান করে ছড়িয়ে রাখা। প্রতিদিন শরীরচর্চার সময় না পেলেও অন্তত মিনিট পাঁচেক এভাবে দাঁড়ানোর অভ্যাস আপনার শরীরে কী উপকার করতে পারে দেখে নিন- বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজ শরীরচর্চার সময় না পেলেও নিয়ম করে মিনিট পাঁচেক স্কোয়াট আপনাকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখতে পারে। লাফানো, দৌড়ানো, হাঁটাহাঁটিতে পায়ের পেশীর যে উপকার মেলে, স্কোয়াট তার অনেকটাই পুষিয়ে দেয়। শুধু পেশীর জোর বাড়ানোই নয়, টেস্টোস্টেরন ও গ্রোথ হরমোন নিঃসরণে বিশেষ কার্যকর এই ব্যায়াম। যার জেরে পেশীর বৃদ্ধি ও ভরকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়। সারা শরীরে শক্তির সমান বণ্টনের ক্ষেত্রেও বিশেষ কাজ করে এই ব্যায়াম। স্কোয়াট করলে শুধু পেশীর উপকার নয় বরং হাঁটাহাঁটিতে যে পরিমাণ ক্যালোরি বার্ন হয়, তার চেয়েও বেশি ফ্যাট ঝরাতে পারে এই ব্যায়াম। স্কোয়াটের ফলে যেসব মাংসপেশি সুগঠিত হয়, তার প্রতি পাউন্ডের জন্য অতিরিক্ত ৫০-৭০ ক্যালোরি বার্ন হয়। ফলে মাত্র ১০ পাউন্ড পেশী থেকেই মিলতে পারে ৫০০-৭০০ ক্যালোরি বার্ন। এই ব্যায়াম মাসখানেক করলে দৌড়ানো, লাফানো বা পরিশ্রম করার ক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। যারা খেলোয়াড়, তাদের ক্ষেত্রেও জোরে দৌড়াতে কিংবা বেশি লাফাতে সাহায্য করে স্কোয়াট। এই ব্যায়ামের প্রভাবে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। হরমোন ক্ষরণ, কোষে কোষে পুষ্টিগুণ পৌঁছানোর কাজও সহজ হয়ে যায়। ফলে পেটের সমস্যা প্রতিরোধ, সারা শরীরে উপকারী বডি ফ্লুয়িড পৌঁছনোর মতো প্রয়োজনীয় জৈবিক কাজও অনেক সহজ করে তোলে এই স্কোয়াট অভ্যাস।   ডি/এসএস
প্রতিদিন ‘কাল্পনিক চেয়ারে’ বসলে যে উপকার পাবেন
যে পাঁচটি বই পড়তে বলেছেন বিল গেটস
বছরের শেষের দিকে এসে প্রতিবারই নিজের পছন্দের বইয়ের তালিকা জানান বিল গেটস। এবার এই তালিকার পাঁচটি বই সবাইকে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ১৯৭৫ সালে মাইক্রোসফট চালু করতে গিয়ে হার্ভার্ড থেকে ঝরে পড়েন গেটস। বর্তমানে তিনি পৃথিবীর শীর্ষ দানশীল ব্যক্তি এবং দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী। ফোর্বস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রতি বছর বিল গেটস প্রায় ৫০টি বই পড়ার সময় পান। এরপর নিজের পছন্দের বইগুলোর তালিকা প্রকাশ করেন এবং অন্যদের পড়ার পরামর্শ দেন। এবার বিল গেটস যে বইগুলো পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন- টারা ওয়েস্টওভারের 'এডুকেটেড' প্রকাশিত গ্রন্থটিতে নিজের চলমান স্মৃতিকথা তুলে ধরেছেন টারা ওয়েস্টওভার। বইটি সম্পর্কে ব্লগে বিল গেটস লিখেছেন, 'আমি কখনো ভাবিনি, এমন পরিবারে বেড়ে ওঠা একজন মানুষের জীবনের সঙ্গে পরিচিত হবো। তিনি একজন ভালো লেখক। বইটিতে যখন আমি তাঁর শৈশব সম্পর্কে পড়ছিলাম বিষয়টি আমার মনে গভীরভাবে প্রতিফলিত হচ্ছিল। পল শেয়ারির 'আর্মি অব নান' এই বইয়ে মূলত যুদ্ধে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বইটি সম্পর্কে গেটস বলেন, এটা খুব জটিল বিষয়। কিন্তু শেয়ারি এর পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং খুঁটিনাটি সবকিছু তুলে ধরেছেন। জন ক্যারেরিউয়ের 'ব্যাড ব্লাড' এই বইয়ে পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক জন ক্যারেরিউ মাল্টিবিলিয়ন ডলারের বায়োটেক ফার্ম থেরানস'র উত্থান-পতনের ভেতরের গল্প উপস্থাপন করেছেন। 'ব্যাড ব্লাড' নিউ ইয়র্ক টাইমসের তালিকা অনুযায়ী বেস্ট সেলার গ্রন্থ এবং এটি নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। বইটি সম্পর্কে বিল গেটস জানান, আমি যতটা আশা করেছিলাম তার চেয়েও এই গল্পটা ভালো। বইটা পড়তে শুরু করার পর এটা আমি কখনও রাখতেই পারছিলাম না। ইউভাল নোয়াহ হারিরির 'টুয়েন্টি-ওয়ান লেসনস ফর দ্য টুয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি' গত আগস্টে প্রকাশিত বইটিতে ২১ শতকের চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই বই সম্পর্কে বিল গেটস লিখেছেন, হারারি যা লিখেছেন তার সবকিছুরই বড় একজন ফ্যান আমি। তাঁর এই বইটিও এর ব্যতিক্রম নয়। এতে পৃথিবীর অতীত ও ভবিষ্যতের ব্যাপারে নজর দেয়া হয়েছে। বর্তমানে যে চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবেলা করছি সে সম্পর্কে চিন্তার একটি সহায়ক কাঠামো হিসেবে অনেক কাজে আসবে এই বই। অ্যান্ডি পুডিকমবির 'দ্য হেডস্পেস গাইড টু মেডিটেশন অ্যান্ড মাইন্ডফুলনেস' দিনে মাত্র ১০ মিনিটের মেডিটেশনে যে অনেক উপকার পাওয়া যাবে বইটি পাঠে সে বিষয়ে জানা যাবে। 'হেডস্পেস' নামের প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা লেখক অ্যান্ডি পুডিকমবি মেডিটেশন ও মনোসংযোগ চর্চার সহজ ও কার্যকর কৌশলগুলো সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। বইটি সম্পর্কে গেটস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী থেকে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হওয়া পর্যন্ত পুডিকমবি কীভাবে মেডিটেশন করেছেন এবং কীভাবে সঠিকভাবে মেডিটেশন করতে হয় তার ব্যাখ্যা করেছেন বইটিতে। ডি/
যে পাঁচটি বই পড়তে বলেছেন বিল গেটস
যেভাবে তৈরি করবেন ফুলকপির পাকোড়া
উপকরণ ফুলকপি ১টি (মাঝারি), হলুদের গুঁড়া প্রয়োজন মতো, মরিচের গুঁড়া পরিমাণমতো, পাপড়িকার গুঁড়া এক চা চামচ, আদা বাটা এক চা চামচ, রসুন বাটা কোয়ার্টার চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি দুই টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ একটি (কুচি), ধনেপাতা দুই টেবিল চামচ, চালের গুঁড়া অথবা কর্ন ফ্লাওয়ার দুই টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, বেকিং পাউডার কোয়ার্টার চা চামচ, বেসন পরিমাণমতো, তেল ভাজার জন্য যতটুকু প্রয়োজন। প্রস্তুত প্রণালি ফুলকপি ধুয়ে কেটে নিন। খুব বেশি ছোট টুকরা করবেন না। প্যানে পরিমাণমতো পানি ও লবণ দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। পানি গরম হলে ফুলকপির টুকরা দিয়ে দিন। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন প্যান। আশি শতাংশ পর্যন্ত সেদ্ধ করুন ফুলকপি। এর বেশি সেদ্ধ করবেন না। পানি ঝরিয়ে অর্ধেক অংশ নিয়ে নিন পাকোড়া তৈরির জন্য। কোয়ার্টার চা চামচ হলুদের গুঁড়া, এক চা চামচ মরিচ গুঁড়া, ধনেপাতা কুচি, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচামরিচ কুচি, পাপড়িকার গুঁড়া, কোয়ার্টার চা চামচ আদা বাটা, এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়া অথবা কর্ন ফ্লাওয়ার, লবণ দিয়ে মেখে নিন ফুলকপির টুকরা। পাপড়িকার গুঁড়া সুন্দর একটি স্মোকি ফ্লেভার যোগ করবে ও লালচে রঙ নিয়ে আসবে পাকোড়ায়। তবে এটি না থাকলে ব্যবহার না করলেও চলবে। অল্প করে বেসন দিয়ে মাখাতে হবে সব উপকরণ। কয়েক চা চামচ বেসন ও পানি দিয়ে এমনভাবে মাখান যেন ফুলকপির চারপাশে বেসনের কোটিং লেগে থাকে। প্যানে তেল গরম করে ডুবো তেলে ভাজতে হবে পাকোড়া। মাঝারি আঁচে ভাজবেন। ডি/  
যেভাবে তৈরি করবেন ফুলকপির পাকোড়া
গ্যাস্ট্রিক দূর করতে যা খাবেন
গ্যাস্ট্রিকের কারণে অনেকেই মারাত্মক সমস্যায় পড়েন। ঠিকমতো কোনও কিছুই খেতে পারেন না। এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে নিয়মিত কয়েকটি খাবার খেলে। চলুন দেখে নেয়া যাক গ্যাস্ট্রিক দূর করতে কি খাবেন- গুড় আপনার বুক জ্বালাপোড়া এবং অ্যাসিডিটি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে রেহাই দিতে পারে গুড়। বুক জ্বালাপোড়া করার সঙ্গে সঙ্গে এক টুকরো গুড় মুখে নিয়ে রাখুন। যতক্ষণ না সম্পূর্ণ গলে যায় ততক্ষণ মুখে রেখে দিন। তবে এ সমাধান ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নয়। লবঙ্গ গ্যাস্ট্রিকের তাৎক্ষণিক সমাধান করবে লবঙ্গ। সমস্যা শুরু হলে দুটি লবঙ্গ মুখে নিয়ে চিবোতে থাকুন। চুষে রসটা খেয়ে ফেলুন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই দূর হয়ে গেছে অ্যাসিডিটি। আদা বুক জ্বালাপোড়া এবং অ্যাসিডিটি সমস্যা সমাধানে বেশ কার্যকর আদা। প্রতিবার খাবার খাওয়ার আধঘণ্টা আগে ছোট এক টুকরো আদা কাঁচা চিবিয়ে খান, দেখবেন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা একেবারেই থাকবে না। পুদিনা পাতা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে সেই প্রাচীনকাল থেকেই পুদিনা পাতার রস ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রতিদিন পুদিনা পাতার রস বা পাতা চিবিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পাবেন। তুলসী পাতা ঔষধি গুণে ভরা তুলসী পাতার কথা কে না জানে। অ্যাসিডিটি দূর করতেও এটি বেশ কার্যকর। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা শুরু হলে ৫/৬টি তুলসী পাতা চিবিয়ে খেয়ে দেখুন, ভালো ফল পাবেন। এছাড়া প্রতিদিন তুলসী পাতা পানির সঙ্গে ব্লেন্ড করে খেলে একেবারে দূর হবে গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যা। বোরহানি বদহজম থেকে রক্ষা করে বোরহানি। এ পানীয়টি টক দই, বিট লবণ ইত্যাদি অ্যাসিডিটি বিরোধী উপাদান দিয়ে তৈরি। প্রতিদিন খাবারের পর এক গ্লাস বোরহানি পানের অভ্যাস করতে পারলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে। ডি/এ
গ্যাস্ট্রিক দূর করতে যা খাবেন
বিজয় উদযাপনে কালোজাম বানান ঘরেই
খুশি বা যেকোনও বিজয় উদযাপনে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে পারে ঘরের তৈরি কালোজাম। দেখে নিন কিভাবে কালোজাম তৈরি করবেন- উপকরণ ময়দা আধা কাপের চেয়ে একটু বেশি, গুঁড়া দুধ ২ কাপ, ডিম ২টি, বেকিং পাউডার ২ চা চামচ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, তরল দুধ ২ টেবিল চামচ, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো, সিরার জন্য চিনি ৬ কাপ, পানি ৩ কাপ।  প্রস্তুত প্রণালি প্রথমে একটি কড়াইয়ে তেল গরম করুন। এরপর বাটিতে দুটো ডিমে ২ টেবিল চামচ তরল দুধ এবং ৩ টেবিল চামচ ঘি একসঙ্গে খুব ভালো করে ফেটে নিতে হবে। এবার অন্য একটা প্লেটে গুঁড়া দুধ, ময়দা এবং ২ টেবিল চামচ বেকিং পাউডার দিয়ে মিক্স করে নিয়ে ফেটে রাখা ডিমের মিশ্রণটিতে ভালো করে মাখিয়ে নিন। হাতের তালুতে সামান্য ঘি লাগিয়ে পছন্দের শেপ অনুযায়ী গোল গোল গোল্লা করে নিন। চুলায় তেল গরম করে গরম তেলে মিষ্টিগুলো ঢিমা আঁচে কালচে করে ভাজুন। তবে এদিকে খেয়াল রাখতে হবে যেন চুলার জ্বাল বেড়ে না যায়। বেশি আঁচে ভাজলে মিষ্টিগুলো কাঁচা আর ভেতরে গুটির মতো শক্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। এবার অন্য একটি কড়াইতে চিনি ও পানি দিয়ে মিষ্টির জন্য সিরা করে নিন। ভাজা মিষ্টিগুলো বলক ওঠা সিরায় ছেড়ে দিয়ে ৫-৬ মিনিটের জন্য রেখে দিন। মিডিয়াম আঁচে চুলার ওপর কিছুক্ষণ রাখুন। এবার চুলা বন্ধ করে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে কমপক্ষে ২ ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। ২ ঘণ্টা পর পরিবেশন করুন। আকর্ষণীয় উপায়ে পরিবেশন করতে কালোজামের ওপর মাওয়া ছড়িয়ে দিন। ডি/এসএস
বিজয় উদযাপনে কালোজাম বানান ঘরেই
আরও পড়ুন
থার্টি ফার্স্ট নাইটে আরটিভিতে গাইবেন অনুপম-তাহসান
আরটিভিতে আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে ‘দহন’
আরটিভির শুক্রবারের অনুষ্ঠান সূচি
দেখে নিন টিভিতে খেলার আয়োজন