অপ্রয়োজনীয় চুরি, শুধুই স্বভাব না কি মানসিক রোগ?

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

রোববার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৮:৫০ পিএম


অপ্রয়োজনীয় চুরি, শুধুই স্বভাব না কি মানসিক রোগ?
প্রতীকী ছবি

মানুষ সাধারণত অভাবের তাড়নায় কিংবা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে চুরি করে। কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের কোনো অভাব নেই, চুরি করা জিনিসের কোনো প্রয়োজনও নেই, তবুও তারা চুরি করার অদম্য এক তাড়না অনুভব করেন। এই বিশেষ অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ক্লেপটোম্যানিয়া’।

বিজ্ঞাপন

এটি মূলত একটি মানসিক রোগ বা ‘ইম্পালস কন্ট্রোল ডিজঅর্ডার’, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি চুরির তীব্র ইচ্ছা বা ইম্পালস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদের মতে, এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা কোনো আর্থিক লাভের জন্য নয়, বরং মানসিক এক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতেই চুরি করে থাকেন।

বিজ্ঞাপন

ক্লেপটোম্যানিয়ার রোগীদের চুরির ধরনটা সাধারণ অপরাধীদের চেয়ে একেবারেই আলাদা। তারা যে জিনিসগুলো চুরি করেন, সেগুলো হয়তো তাদের কোনো কাজেই লাগে না। চুরি করার পর তারা সেই জিনিসটি নিজে ব্যবহার করেন না, বিক্রিও করেন না; বরং অনেক সময় লুকিয়ে রাখেন, ফেলে দেন কিংবা গোপনে কাউকে দান করে দেন।

এমনকি অপরাধবোধে ভুগে তারা অনেক সময় চুরি করা জিনিসটি সবার অলক্ষ্যে জায়গামতো ফেরতও দিয়ে আসেন।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন জানান, মস্তিষ্কের সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য নষ্ট হলে এই রোগ হতে পারে। এছাড়া বংশগত কারণ, মানসিক চাপ, ট্রমা কিংবা শৈশবের কোনো মানসিক আঘাতও এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি।

বিজ্ঞাপন

এই রোগের কিছু স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে যা দেখে একে সাধারণ চুরি থেকে আলাদা করা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি চুরির ঠিক আগমুহূর্তে প্রবল উত্তেজনা ও অস্থিরতা অনুভব করেন। যতক্ষণ না তিনি জিনিসটি হাত ছাড়া করছেন, ততক্ষণ তার ভেতর উদ্বেগ কাজ করতে থাকে। কিন্তু চুরির পরপরই তিনি এক ধরনের আনন্দ ও মানসিক স্বস্তি পান।

আরও পড়ুন

তবে এই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না; চুরির পর তারা তীব্র অপরাধবোধ ও অনুশোচনায় ভোগেন। অনেকের ক্ষেত্রে এই লজ্জা ও সম্মানহানির ভয় এতটাই প্রকট হয়ে দাঁড়ায় যে, তারা আত্মহত্যার মতো চূড়ান্ত পথও বেছে নিতে পারেন।

লজ্জা কিংবা সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে অধিকাংশ রোগীই চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। অথচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসার মাধ্যমে ক্লেপটোম্যানিয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সাধারণত এই রোগের চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (সিবিটি) ও কাউন্সিলিং অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

মানসিক এই সমস্যাকে নিছক স্বভাব বা চরিত্রহীনতা বলে অবহেলা না করে, চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো আইনি বা সামাজিক অঘটন এড়ানো যায়।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission