চুল পড়া বর্তমানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব বয়সের মানুষের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বংশগত কারণ, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, বার্ধক্য কিংবা আধুনিক জীবনযাত্রার ধরনসহ নানা কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল পড়ার এই সমস্যা বা চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে ‘অ্যালোপেশিয়া’ বলা হয়, তা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব যদি সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলছে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ১৬ শতাংশ পুরুষ এবং এক-তৃতীয়াংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে চুল পড়ার সমস্যার সম্মুখীন হন। তবে আশার কথা হলো, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ট্রাইকোলজিস্ট এনিটান আগিডি এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আঁচল পান্থের মতে, চুল পড়া রোধে প্রথম ধাপ হলো একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে সঠিক কারণ খুঁজে বের করা। বিশেষ করে উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার এবং শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করা চুলের সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
অনেকেই সমস্যা দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই মিনোক্সিডিল বা ক্যাফেইনযুক্ত ক্রিম ব্যবহার শুরু করেন, যা চুলের গোড়ায় রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে চুল লম্বা হতে সাহায্য করে। তবে এটি চুল পাতলা হওয়া রোধ করলেও নতুন চুল গজাতে খুব একটা ভূমিকা রাখে না।
অন্যদিকে, খুশকি বা মাথার ত্বকের ছত্রাকজনিত প্রদাহ দূর করতে কেটোকোনাজল বেশ কার্যকর, যা পরোক্ষভাবে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
চিকিৎসা পদ্ধতির পাশাপাশি জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা চুল রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত টাইট করে চুল বাঁধা, চুলে তাপ প্রয়োগ করে স্টাইল করা বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার চুলের গোড়ায় প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে, যা থেকে ‘ট্র্যাকশন অ্যালোপেশিয়া’র মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এছাড়া ধূমপান রক্তনালিকে সংকুচিত করে মাথার ত্বকে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়, যা চুল পড়ার অন্যতম কারণ। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ মুক্ত থাকা এবং মাথার ত্বকের ধরন অনুযায়ী নিয়মিত শ্যাম্পু করে ত্বক পরিষ্কার রাখা চুল পড়া কমাতে সহায়ক।
অনেকে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টকে একমাত্র সমাধান মনে করলেও বিশেষজ্ঞরা একে শেষ উপায় হিসেবে দেখছেন। কারণ ট্রান্সপ্লান্টের পরেও যদি চুলের সঠিক যত্ন নেওয়া না হয়, তবে কয়েক বছরের মধ্যে প্রাকৃতিক চুলগুলো পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তাই চুল পড়া রোধকে একটি দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তথ্য সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/এএইচ





