বর্তমান সময়ের অতিব্যস্ত নাগরিক জীবনে আমরা সারাদিনই কোনো না কোনো কাজের মধ্যে ডুবে থাকি। কর্মব্যস্ততা আর সামাজিক নানা দায়ের ভিড়ে নিজের জন্য আলাদা করে সময় বের করা অনেকের কাছেই বিলাসিতা মনে হতে পারে।
তবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকতে নিজেকে সময় দেওয়া বা ‘মি টাইম’ কাটানো অত্যন্ত জরুরি। এই ব্যস্ততার মাঝেও শরীর ও মনকে পুনরুজ্জীবিত করতে মাঝে মাঝে কোনো কাজ না করে স্রেফ একা চুপচাপ বসে থাকা প্রয়োজন।
গবেষকরা বলছেন, এই ‘চুপচাপ বসে থাকা’ কোনো আলসেমি নয়, বরং এর রয়েছে সুদূরপ্রসারী শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কাজ না করে একা বসে থাকলে মানুষের মেজাজ বা ‘মুড’ ভালো থাকে। আমাদের মন যখন বিক্ষিপ্ত বা খারাপ থাকে, তখন বাহ্যিক কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে একা সময় কাটালে পুনরায় স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে আসা সহজ হয়। এটি মনের ওপর এক ধরণের প্রশান্তিদায়ক প্রলেপ হিসেবে কাজ করে।
এছাড়া একাকী সময় কাটানো পরবর্তী সময়ে কাজের গতি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। কারণ চুপচাপ বসে থাকলে মানুষের মনঃসংযোগ করার ক্ষমতা বাড়ে, যা পরে কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বাড়তি শক্তি জোগায়।
মানুষ প্রতিদিন নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায় এবং প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু শিখছে। তবে এই শিক্ষাকে মনের গভীরে প্রোথিত করতে বা আত্মস্থ করতে নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়াটা জরুরি। যখন আমরা কোনো কাজ না করে চুপচাপ বসে থাকি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই অভিজ্ঞতাগুলোকে বিশ্লেষণ করার সুযোগ পায়, যা মানুষের শিক্ষাকে আরও গভীর ও অর্থবহ করে তোলে।
সৃজনশীল মানুষদের জন্য এটি আরও বেশি কার্যকরী। একা থাকা অবস্থায় মন নতুন কিছু চিন্তা করার ও উদ্ভাবনী ধারণা তৈরির অবকাশ পায়, ফলে সৃজনশীল ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
মানসিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রেও এই অভ্যাসের জুড়ি নেই। সারাদিনের কাজের চাপে শরীর ও মনের ওপর যে ক্লান্তি ভর করে, কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলে তা অনেকটা লাঘব হয়।
পরিশেষে পরিবার, কর্মক্ষেত্র বা সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেকে চেনা এবং নিজের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে নিজেকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য এই একাকী সময়টুকু ভীষণ প্রয়োজন।
তাই সুস্থ থাকতে দিনের কিছুটা সময় সব কাজ ফেলে স্রেফ একা চুপচাপ বসে থাকাটা অভ্যাসে পরিণত করা উচিত।
আরটিভি/এএইচ





