ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

পেটে জমা কোন মেদ বেশি ক্ষতিকর

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
প্রতীকী ছবি

তিন মন ওজনের দামোদর শেঠের কাছে ভুঁড়ি গর্বের বিষয় হতে পারে, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বড় ভুঁড়ি মানেই বড় বিপদ।

আমরা অনেকেই মনে করি একটি ‘নাদুসনুদুস’ ভুঁড়ি সুখী মানুষের লক্ষণ, কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় সেই সুখের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে কঠিন সব অসুখ। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী-পুরুষ উভয়েরই পেটে মেদ জমতে শুরু করে।

কারো মেদ জমে তলপেটে, আবার কারো সারা পেট জুড়ে ঢাউস আকৃতির ভুঁড়ি দেখা যায়। তবে সব ভুঁড়ি সমান নয়; পেটের মেদ মূলত দুই ধরণের হয়— নরম ও শক্ত।

চিকিৎসকদের মতে, এই দুই ধরণের মেদের মধ্যে কোনটি আপনার শরীরে বাসা বাঁধছে, তার ওপর নির্ভর করছে আপনার সুস্থতা।

চিকিৎসকদের মতে, পেটে জমা শক্ত মেদ নরম মেদের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক।

দিল্লির প্রখ্যাত চিকিৎসক শুভম বাৎস্য সম্প্রতি এক সচেতনতামূলক বার্তায় জানিয়েছেন, পেটের যে অংশটি হাত দিলে পাথরের মতো শক্ত লাগে, তা আসলে ‘ভিসেরাল ফ্যাট’-এর ইঙ্গিতবাহী।

ভিসেরা বলতে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরের নরম প্রত্যঙ্গ যেমন লিভার, অগ্ন্যাশয়, হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসকে বোঝায়। যখন এই অঙ্গগুলোর ওপর চর্বির আস্তরণ জমতে শুরু করে, তখনই পেট শক্ত হয়ে যায়।

এই ভিসেরাল ফ্যাট শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং বিপাকক্রিয়ার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

অন্যদিকে, পেটের যে মেদ হাত দিলে নরম বা থলথলে অনুভূত হয়, তা তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। এই ধরণের চর্বি মূলত চামড়ার ঠিক নিচেই জমে থাকে এবং একে ‘সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট’ বলা হয়। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর সরাসরি ক্ষতি করে না বা বিপাকহারে তেমন নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।

তবে ভুঁড়ি নরম হোক বা শক্ত, পাকস্থলীর উপরিভাগ যদি চাপ দিলে শক্ত অনুভূত হয়, তবে তা অবশ্যই বিপদের সংকেত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কারণ ভিসেরাল ফ্যাট কেবল মেদ বাড়ায় না, এটি শরীর থেকে প্রদাহনাশক রাসায়নিক নির্গত করে যা মানসিক দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুন

এই ধরণের মেদ বা ফ্যাট জমার সবচেয়ে বড় কুফল হলো এটি ইনসুলিন হরমোনের কাজে বাধা দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে টাইপ-টু ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।

এছাড়া ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যা তো রয়েছেই।

তাই সুস্থ থাকতে কেবল ওজন কমানোর দিকে নজর দিলেই চলবে না, নিয়মিত নিজের ভুঁড়িটি পরখ করাও জরুরি।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমই পারে মধ্যপ্রদেশের এই বিপজ্জনক মেদ জমা আটকাতে। সময় থাকতে সতর্ক না হলে এই সাধের ভুঁড়িই হতে পারে অকাল মৃত্যুর কারণ।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
আজ চকলেট দিবস
শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—চকলেট পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন।
আজ চকলেট দিবস
ধূমপান করলে ঠোঁট কালো হয় কেন, যা বলছে গবেষণা
বছরের পর বছর ধরে অনেকেই লক্ষ্য করেন যে তাদের ঠোঁট কালো হয়ে যাচ্ছে। ধূমপায়ীরা একথা শুনে থাকেন যে এর জন্য সিগারেটই দায়ী। 
ধূমপান করলে ঠোঁট কালো হয় কেন, যা বলছে গবেষণা
আজ কালো বিড়াল দিবস 
কালো বিড়াল রাস্তা পার হলে দুর্ভাগ্য আসে—এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে।
আজ কালো বিড়াল দিবস 
আরও পড়ুন
মধু-রসুন খেলেই কি মেদ ঝরে? সকালে খেতে পারেন আরও যা
পেটের মেদ কমাতে চিয়া সিড নাকি তোকমা বেশি কার্যকর
পেটের মেদ কীভাবে মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলে
এক সপ্তাহে কি পেটের মেদ ঝরানো সম্ভব?