এদিক সেদিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। তার পাশাপাশি ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন দুর্যোগের সময় প্রথম ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন নিজেদের নিরাপদে টিকিয়ে রাখার জন্য একটি ‘ইমার্জেন্সি ব্যাকপ্যাক’ বা ‘গো ব্যাকপ্যাক’ গুছিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এই ব্যাকপ্যাকটি এমন স্থানে রাখতে হবে, যেন বিপদের সময় দ্রুততম সময়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তা সঙ্গে নেওয়া যায়। ব্যাকপ্যাকটি বাড়ির মূল দরজার আশপাশে বা ডাইনিং টেবিলের নিচে রাখা যেতে পারে। দুর্যোগকালীন প্রাথমিক ধকল কাটিয়ে উঠতে এই প্রস্তুতি জীবন রক্ষাকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।
একটি আদর্শ ইমার্জেন্সি ব্যাকপ্যাকে অন্তত দুই-তিন লিটার পানি এবং তিন দিনের জন্য এনার্জি বার, ড্রাই ফ্রুটস, মুড়ি, বিস্কুট বা চিড়ার মতো শুকনো খাবার থাকা প্রয়োজন।
এ ছাড়া জরুরি ওষুধপত্র, একটি ফার্স্টএইড কিট, টর্চলাইট, পাওয়ার ব্যাংক ও চার্জার যুক্ত করা জরুরি। সুরক্ষার জন্য সার্জিক্যাল মাস্ক, গ্লাভস এবং আত্মরক্ষার জন্য হুইসিল ব্যাগে রাখা উচিত।
গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যেমন—জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজের ফটোকপি এবং কিছু নগদ টাকা একটি প্লাস্টিক ব্যাগে সংরক্ষণ করতে হবে।
ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য দুই সেট কাপড়, গামছা, সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টয়লেট পেপার এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যাগে রাখুন।
যদি পরিবারে নবজাতক বা শিশু থাকে, তবে তাদের জন্য আলাদা করে ডায়াপার ও শিশুখাদ্য গুছিয়ে নিতে হবে। এছাড়া সম্ভব হলে একটি পাতলা কম্বল, বেডশিট বা ছোট পাটি এবং ছাতা ব্যাগে যুক্ত করা যেতে পারে।
যেকোনো দুর্যোগের সময় আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকাই হলো জীবন বাঁচানোর মূল চাবিকাঠি। দুর্যোগের জরুরি যোগাযোগের নম্বরগুলো একটি কাগজে লিখে ব্যাগে বা দৃশ্যমান স্থানে রাখা প্রয়োজন।
সামান্য সচেতনতা ও পূর্বপ্রস্তুতিই পারে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে।
আরটিভি/এএইচ





