শীতের হিমেল হাওয়ায় আমাদের জীবনযাত্রায় যেমন পরিবর্তন আসে, তেমনি প্রভাব পড়ে খাদ্যাভ্যাসেও। এ সময় এক কাপ গরম চা বা কফি সাময়িক প্রশান্তি দিলেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরকে পানিশূন্য করে তুলতে পারে, যা ভাইরাস আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালীন সাধারণ রোগব্যাধি যেমন সর্দি, কাশি বা গলাব্যথা থেকে দূরে থাকতে কিছু খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলা জরুরি। বিশেষ করে চা-কফির বিকল্প হিসেবে আদা ও তুলসীর মিশ্রণ কিংবা লেবু-মধুর কুসুম গরম পানি পান করা অনেক বেশি কার্যকর। লেবুর ভিটামিন ‘সি’ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মধু গলায় আরাম দেয়।
এছাড়া বিকেলের নাশতায় চা-কফির বদলে এক বাটি গরম স্যুপ শরীরের জন্য ‘প্রাকৃতিক হিটার’-এর মতো কাজ করে।
শীতের সন্ধ্যায় ভাজাপোড়া বা তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার এক ধরণের সংস্কৃতি আমাদের দেশে প্রচলিত থাকলেও এটি হজমশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অতিরিক্ত তেল শরীরে শ্লেষ্মা বা মিউকাস তৈরি করে বুক জ্যাম হওয়া এবং কাশির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডালপুরি বা পেঁয়াজুর বদলে শুকনো খোলায় ভাজা ছোলা, বাদাম, আখরোট কিংবা কুমড়োর বীজ বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
মিষ্টিজাতীয় ভাজাপোড়ার বদলে ভাপে তৈরি পুলিপিঠা বা মোমো খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মৌসুমি ফল যেমন আপেল, পেয়ারা বা বড়ইয়ের সালাদ বিকেলের নাশতায় দারুণ বিকল্প হতে পারে।
ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও শীতকালে কিছুটা সচেতনতা প্রয়োজন। কলা বা তরমুজজাতীয় ফল অনেক সময় শরীরে কফ তৈরি করে বা হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়।
যাদের শ্বাসকষ্টের প্রবণতা আছে, তাদের জন্য শীতকালে কলা এড়িয়ে চলাই ভালো। আবার ফ্রিজ থেকে বের করা ঠান্ডা ফল সরাসরি খাওয়া একদমই উচিত নয়। ফল খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো দুপুরের রোদ।
এছাড়া অতিরিক্ত চিনি এবং লবণ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় বলে প্যাকেটজাত স্ন্যাক্স নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। অনেকের ক্ষেত্রে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার কফ ঘন করে দেয়; এমন সমস্যা থাকলে শীতের দিনগুলোতে পনির বা ক্রিম জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। সঠিক সময়ে সঠিক খাবার নির্বাচন শীতের দিনগুলোকে করতে পারে আরও উপভোগ্য ও রোগমুক্ত। সূত্র: হেলথ শর্টস, ওয়েব মেড, হার্ভার্ড হেলথ
আরটিভি/এএইচ





