কিডনি রোগ শনাক্তকরণে এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন নিয়ে এসেছেন যুক্তরাজ্যের এক শিক্ষার্থী। লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব আর্ট ও ইম্পেরিয়াল কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইয়িদান জু তৈরি করেছেন এমন একটি বিশেষ ট্যাবলেট, যা সাধারণ ব্যবহারের মাধ্যমেই প্রাথমিক পর্যায়ের কিডনি রোগ শনাক্ত করতে সক্ষম।
‘ইউরিফাই’ নামের এই উদ্ভাবনটি ইতোমধ্যে বিশ্বখ্যাত ‘জেমস ডাইসন অ্যাওয়ার্ডের গ্লোবাল টপ ২০’ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
ইউরিফাই মূলত একটি টয়লেট ট্যাবলেট, যা ফ্লাশ করার সময় বিশেষ ধরনের রাসায়নিক রিএজেন্ট নির্গত করে। এই রাসায়নিক প্রস্রাবে থাকা অ্যালবুমিন প্রোটিনের উপস্থিতি শনাক্ত করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের উপস্থিতি কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান ও প্রাথমিক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। যদি কোনো ব্যবহারকারীর কিডনিতে সমস্যা থাকে, তবে টয়লেটের পানির রং ফ্যাকাশে হলুদ থেকে বদলে নীল হয়ে যাবে। রঙের এই পরিবর্তনই ব্যবহারকারীকে ইঙ্গিত দেবে যে তার দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এই অনন্য উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন ব্যক্তিগত গল্প। উদ্ভাবক ইয়িদান জু জানান, তার নিজের বাবা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগলেও তা সময়মতো ধরা পড়েনি। প্রায় দুই বছর আগে যখন রোগটি শনাক্ত হয়, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। বাবার সেই কষ্ট এবং সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না হওয়ার আক্ষেপ থেকেই জু এমন কিছু তৈরির কথা ভাবেন, যা দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবেই স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করবে।
ব্যবহারের দিক থেকেও এটি অত্যন্ত সহজ। টয়লেট রিমের নিচে স্থাপনযোগ্য এই ট্যাবলেট প্রতিবার ফ্লাশের সময় পরিষ্কারক ফোম তৈরি করে, যা একই সাথে বাথরুম পরিষ্কার রাখে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে।
তবে উদ্ভাবক জানিয়েছেন, ইউরিফাই এখনও ক্লিনিকাল ট্রায়াল বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং তিনি এটি নিয়ে আরও বিস্তর গবেষণার পরিকল্পনা করছেন।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসা সুবিধার অভাব এবং সময়মতো রোগ ধরা না পড়ায় প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারান।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরিফাই কেবল একটি স্যানিটারি পণ্য নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যসেবায় এক গুরুত্বপূর্ণ আগাম সতর্কবার্তা প্রদানকারী ব্যবস্থা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
আরটিভি/এএইচ




