অপরিকল্পিত নগরায়ন বছরান্তে অগ্নিকাণ্ডের শঙ্কা বাড়াচ্ছে। মানুষ ও নগর বাঁচাতে সবকিছুর রাশ টেনে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় শীতে আগুনের ঘটনা বাড়লেও দায়সারা তদন্ত না করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের তাগিদ তাদের। নাশকতার প্রশ্নটিও এড়িয়ে না যাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগা প্রতিবছরের নিয়মিত ঘটনা। কোন কোন বছর দুবারও লেগেছে। পুড়ে ছাই হয়েছে নিম্নবিত্তের স্বপ্ন; মাথা গোঁজার ঠাই। ঘটে প্রাণহানিও।
শীতের মৌসুম শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ঘটে গেছে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ঢাকার বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম ইপিজেড যার মধ্যে অন্যতম। বছরান্তে সংখ্যাটা বেড়েই চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি থামবে না। যদি না বন্ধ করা হয় অপরিকল্পিত নগরায়ন।
স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় শীত মৌসুমে বাতাসে আদ্রতা কম থাকা এবং সবকিছু বদ্ধ অবস্থায় থাকার ফলে অগ্নিকাণ্ড বেশি ঘটে। কেবল বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কিংবা গ্যাস লিকেজের গল্প না বলে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নগর পরিকল্পনা ও নিরাপত্তায় জড়িত সংস্থাগুলোকে দায়বদ্ধতার আওতায় আনার জোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এটি থামবে না যদি না বন্ধ করা হয় অপরিকল্পিত নগরায়ণ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্ল্যানার্স ইন্সটিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যপক ড.আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘গেঞ্জি অবস্থায় বাড়ি, অনেক বড় বড় ভবন হয়ে গেছে। যেখানে ফায়ার ফাইটার্স ঢোকার কোনো রাস্তা নেয়, জরুরি অবস্থায় পানি পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নাই, জলাসয় নাই। কিন্তু রয়েছে হাজার হাজার ভবন। জননিরাপত্তা যেটি থাকার কথা সেটি নাই।’
বুয়েটের অধ্যাপক প্রকৌশল ড. মো. ইয়াছির আরাফাত খান বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে এবং অন্যান্য জায়গায় যেটি থাকে যে, যেকোনো জায়গায় আগুন লাগলে ফাইয়ার হাইডারের সাথে কানেকশন করে ফায়ার ফাইট করতে পারে। আমাদের সব জায়গায় পানির উৎস খুঁজতে হয়। অনেক বাসায় পানির কানেকশন আছে আবার অনেক জায়গায় নাই, ফায়ার হাইডেট নাই। ফলে সামগ্রিকভাবে এটি আমাদের বড় দুর্বলতা।’
তিনি বলেন, ‘কড়াইল বস্তির মতো এতো ঘনবসতি জায়গায় এমন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। বাড়িগুলো এমনভাবে কানেক্টেট একটি বাড়িতে আগুন লাগলে দ্রুতই সব জায়গায় ছড়িয়ে যায়। ফলে ফায়ার সার্ভিস আসতে আসতে আগুন এতো ছড়িয়ে পড়ে যে তাদের আর তেমন কিছু করার থাকে না।’
আরটিভি/এফএ





