ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

অপরিকল্পিত নগরায়ন বাড়াচ্ছে অগ্নিকাণ্ডের শঙ্কা (ভিডিও)

খান আলামিন

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০২ পিএম

অপরিকল্পিত নগরায়ন বছরান্তে অগ্নিকাণ্ডের শঙ্কা বাড়াচ্ছে। মানুষ ও নগর বাঁচাতে সবকিছুর রাশ টেনে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় শীতে আগুনের ঘটনা বাড়লেও দায়সারা তদন্ত না করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের তাগিদ তাদের। নাশকতার প্রশ্নটিও এড়িয়ে না যাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগা প্রতিবছরের নিয়মিত ঘটনা। কোন কোন বছর দুবারও লেগেছে। পুড়ে ছাই হয়েছে নিম্নবিত্তের স্বপ্ন; মাথা গোঁজার ঠাই। ঘটে প্রাণহানিও।

আরও পড়ুন

শীতের মৌসুম শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ঘটে গেছে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ঢাকার বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম ইপিজেড যার মধ্যে অন্যতম। বছরান্তে সংখ্যাটা বেড়েই চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি থামবে না। যদি না বন্ধ করা হয় অপরিকল্পিত নগরায়ন।

স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় শীত মৌসুমে বাতাসে আদ্রতা কম থাকা এবং সবকিছু বদ্ধ অবস্থায় থাকার ফলে অগ্নিকাণ্ড বেশি ঘটে। কেবল বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কিংবা গ্যাস লিকেজের গল্প না বলে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নগর পরিকল্পনা ও নিরাপত্তায় জড়িত সংস্থাগুলোকে দায়বদ্ধতার আওতায় আনার জোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এটি থামবে না যদি না বন্ধ করা হয় অপরিকল্পিত নগরায়ণ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্ল্যানার্স ইন্সটিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যপক ড.আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘গেঞ্জি অবস্থায় বাড়ি, অনেক বড় বড় ভবন হয়ে গেছে। যেখানে ফায়ার ফাইটার্স ঢোকার কোনো রাস্তা নেয়, জরুরি অবস্থায় পানি পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নাই, জলাসয় নাই। কিন্তু রয়েছে হাজার হাজার ভবন। জননিরাপত্তা যেটি থাকার কথা সেটি নাই।’

বুয়েটের অধ্যাপক প্রকৌশল ড. মো. ইয়াছির আরাফাত খান বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে এবং অন্যান্য জায়গায় যেটি থাকে যে, যেকোনো জায়গায় আগুন লাগলে ফাইয়ার হাইডারের সাথে কানেকশন করে ফায়ার ফাইট করতে পারে। আমাদের সব জায়গায় পানির উৎস খুঁজতে হয়। অনেক বাসায় পানির কানেকশন আছে আবার অনেক জায়গায় নাই, ফায়ার হাইডেট নাই। ফলে সামগ্রিকভাবে এটি আমাদের বড় দুর্বলতা।’

তিনি বলেন, ‘কড়াইল বস্তির মতো এতো ঘনবসতি জায়গায় এমন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। বাড়িগুলো এমনভাবে কানেক্টেট একটি বাড়িতে আগুন লাগলে দ্রুতই সব জায়গায় ছড়িয়ে যায়। ফলে ফায়ার সার্ভিস আসতে আসতে আগুন এতো ছড়িয়ে পড়ে যে তাদের আর তেমন কিছু করার থাকে না।’

আরটিভি/এফএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৭ বার গ্রেপ্তার, কারা নির্যাতনেও ছিলেন আপোষহীন
সব শ্রেণি–পেশার মানুষের প্রতি সম্মান, দায়িত্বের উপর অবিচল, প্রতিকূল মুহূর্তে ইস্পাত কঠিন ধৈর্যের পরিচয়, বিপদের সময়ে মাথা ঠান্ডা রেখে সিদ্ধান্ত, আর শত্রুর সঙ্গে কোনো আপোষ না করার মানসিকতা। এসব গুণ তাকে আলাদা করে চিনিয়েছিল বিশ্ববাসীর কাছে। বলছি সংগ্রামী নেত্রী ও বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা। একজন নীরব গৃহবধূ থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রভাবশালী নারী। ভোটের মাঠে যার জনপ্রিয়তার কাছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা বরাবরই হেরে যেতেন। দিনাজপুরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অভ্যাস ছিল ছোটবেলা থেকেই। ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম তার। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার তখন ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে দেশভাগের পর পশ্চিম পাকিস্তানে চলে আসেন, আর তার আদি বাড়ি ছিল ফেনীতে। পড়াশোনা দিনাজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ পর্যন্ত এগোয়। রাজনীতির সঙ্গে তখনো তার কোনো যোগ ছিল না। জীবন তখন ছিল পরিবার, পড়াশোনা আর সংযত আচরণকে ঘিরে। আরও পড়ুন সেনা পরিবারের নীরব নারী যেভাবে হয়ে উঠেছিলেন দেশনেত্রী সব বদলে যায় ১৯৬০ সালে, যখন তার বিয়ে হয় সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। সংসার, স্বামীর ব্যস্ততা, সন্তানদের বড় করা, সবই তিনি নিজের মতো করে সামলে নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়া যখন ফ্রন্টলাইনে, পরিবারের ভার তখন তার কাঁধে। পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হলেও, তিনি তখনও রয়ে যান নীরবে। তবে দায়িত্বশীল ফার্স্ট লেডি ওই সময়ই তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার আর নেদারল্যান্ডসের রানি জুলিয়ানার মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়া খুন হলে দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ঢেউ। বিএনপির ভেতরেও দেখা দেয় নেতৃত্বহীনতা। ঠিক তখনই দলের শীর্ষ নেতারা তার মধ্যে দেখতে পান গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের ছায়া। রাজনীতির বাইরে থাকা এই নারীই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন দলের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মুখ। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন। এক বছরের মধ্যেই তিনি ভাইস-চেয়ারম্যান, আর ১৯৮৪ সালে হন দলের চেয়ারপারসন। এরপরই শুরু হয় তার সংগ্রামী রাজনৈতিক যাত্রা। ১৯৮২ সালের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি সামনে থেকে আন্দোলন চালান। মিছিলে থাকেন, গ্রেপ্তার হন বারবার। ইতিহাস বলে, ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত মোট সাতবার গ্রেপ্তার হন। তার নেতৃত্বে ছাত্রদল শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়। ওই সময় ৩২১টির মধ্যে ২৭০টি ছাত্র সংসদে জয় নিয়ে আসে। এই তরুণরাই পরে এরশাদের পতনের আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখে। তখনই তিনি পরিচিত হন “আপোষহীন নেত্রী” হিসেবে। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা তখন থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে রূপ নেয়। তার সময়ে বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, গ্রামীণ উন্নয়ন এগোয় দ্রুত। তৈরি পোশাকশিল্পে পাঁচ বছরে কর্মসংস্থান বাড়ে ২৯ শতাংশ, আর দুই লাখ নারী এই খাতে কাজের সুযোগ পান। তিনি জাতিসংঘে গঙ্গার পানি-বণ্টনের বিষয় তুলেছিলেন, আর ১৯৯২ সালে হোয়াইট হাউসে গিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সমস্যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেন। ১৯৯৬ সালে বিএনপির বিজয়ের পর তিনি দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নিলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। পরে ২০০১ সালের নির্বাচনে আবারও সরকার গঠন করেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে মেয়েদের ফ্রি টিউশন, উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং—এসব সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনে। সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করা হয়, বাজেটেও শিক্ষা খাত পায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের ২৯তম ক্ষমতাধর নারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০০৭ সালে তাকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলে আন্তর্জাতিক মহল এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মন্তব্য করে। ২০১১ সালে নিউ জার্সি স্টেট সিনেট তাকে সম্মান জানায় “গণতন্ত্রের জন্য যোদ্ধা” উপাধিতে। ২০১৮ সালের জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ১৭ বছরের সাজা—এ নিয়েও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ ছিল যথেষ্ট। গৃহবধূ থেকে দলের নেতা, দল থেকে রাষ্ট্রের নেতৃত্ব—এই দীর্ঘ পথচলার প্রতিটি ধাপেই ছিল দায়িত্ব, সাহস আর স্থিরতা। আর এভাবেই তিনি পরিচিত হন “দেশনেত্রী” হিসেবে। বয়স, অসুস্থতা আর রাজনৈতিক ঝড়ঝাপটা সত্ত্বেও তিনি দেশের রাজনৈতিক ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দুতেই থেকেছেন। তাঁর এই সংগ্রামী যাত্রাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাকে অমর করে রাখবে। আরটিভি/এআর   
৭ বার গ্রেপ্তার, কারা নির্যাতনেও ছিলেন আপোষহীন
সেনা পরিবারের নীরব নারী যেভাবে হয়ে উঠেছিলেন দেশনেত্রী
শুরুটা ছিল ১৯৮১ সালের ৩০ মে থেকে, যখন চট্টগ্রামে সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ঢাকার সেনানিবাসে দুই ছোট ছেলেকে নিয়ে তখন শান্ত, নিরিবিলি জীবন কাটাচ্ছিলেন বেগম জিয়া; রাজনীতি তার জীবনের অংশ ছিল না। কিন্তু স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু এবং বিএনপি নেতৃত্বের সংকট তাকে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সামনে নিয়ে আসে। ধীরে ধীরে সাধারণ সদস্য থেকে ভাইস–চেয়ারম্যান, তারপর চেয়ারপারসন—একজন নীরব গৃহবধূর জাতীয় দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ওঠার এই যাত্রা মানুষের মনে গভীর ছাপ রেখে দেয়। এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের কঠিন সময়; সামরিক শাসন, দমন-পীড়ন, গ্রেফতার—সবকিছুর মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজপথের প্রথম সারির হয়ে যোদ্বা হয়ে ওঠেন। বহুবার আটক হয়েও পিছু না হটা—এটাই মানুষের কাছে তার প্রতি আবেগের। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন ১৯৯১ সালে দেশ যখন গণতন্ত্রে ফিরে আসে, তখন প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। যুদ্ধোত্তর অস্থির বাংলাদেশে সংসদ, প্রশাসন, দল—সব সামলে তিনি শিক্ষা খাতে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেন, যা বহু পরিবার আজও মনে রেখেছে।  এরপর আসে মামলা, গ্রেফতার, দীর্ঘ কারাবাস—আর ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু। এই ট্র্যাজেডি তাকে অনেকের চোখে পরিণত করে শুধু নেত্রী নয়, সহ্য করে যাওয়া এক মায়ের প্রতীকে। এত বিপর্যয়ের পরও বিএনপি ভেঙে না পড়া—অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটা তার ব্যক্তিগত প্রভাবেরই শক্ত প্রমাণ।  তিন প্রজন্ম তাকে তিনভাবে দেখে—কারও কাছে তিনি আন্দোলনের প্রতীক, কারও কাছে শিক্ষার সংস্কারক, আর এক প্রজন্মের কাছে দীর্ঘ শোক বয়ে চলা সহনশীল মা। কিন্তু একটি জায়গায় সবাই একমত, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির  ঐতিহাসিক মুখগুলোর অন্যতম। যাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটা যুগ, একটা ধারার পুরো স্মৃতি।  তাই তার মৃত্যুর খবর ছড়াতেই থমকে গেছে গোটা দেশ। সোশ্যাল মিডিয়া ভরে ওঠে পুরোনো স্মৃতি, উদ্বেগ আর দোয়ার  বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিক নন; তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বিশাল অধ্যায়। যে অধ্যায়কে ধারণ করবে আগামীর প্রজন্ম।  আরটিভি/এআর 
সেনা পরিবারের নীরব নারী যেভাবে হয়ে উঠেছিলেন দেশনেত্রী
মৌচাষে বদলে গেছে মুয়াজ্জিনের জীবন, মাসে লাখ টাকা আয়
মৌ মাছি মৌ মাছি, কোথা যাও নাচি নাচি, দাড়াও না একবার ভাই, ওই ফুল ফোটে বনে, যাই মধু আহরণে দাঁড়াবার সময় তো নাই। ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি দেখে সত্যিই কবি নব কৃষ্ণ ভট্টাচার্যের সেই বিখ্যাত ছড়াটির কথা মনে পড়ে যায়। আর ছোটবেলার সেই অতি পরিচিত ছড়াটি যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে।  দিগন্তজোড়া সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর চারপাশ। তবে এই মৌমাছিরা শুধু মধু আহরণই করছে না, পাল্টে দিচ্ছে শিক্ষিত এক যুবকের ভাগ্য। উচ্চশিক্ষার পাঠ চুকিয়ে করপোরেট চাকরির পেছনে না ছুটে মৌচাষে স্বাবলম্বী হয়ে দৃষ্টান্ত গড়েছেন মুয়াজ্জিন হোসেন।  কুয়াশার চাদর ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে ভোরের মিষ্টি রোদ। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। চারদিকে ফুটেছে সরিষার ফুল। আর সেই ফুলের মধু আহরণে মহাব্যস্ত মৌমাছির দল। গুঞ্জনে মুখরিত চারপাশ যেন জানান দিচ্ছে এক প্রাকৃতিক উৎসবের। মাঠের এক কোণে তাঁবু খাটিয়ে বসানো হয়েছে সারি সারি মৌমাছির বাক্স। এখানেই নিজের স্বপ্ন বুনছেন এক উদ্যমী তরুণ। নাম মুয়াজ্জিন হোসেন। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ এবং এমবিএ সম্পন্ন করা এই যুবক যখন চাকরির বাজারে না গিয়ে মৌচাষের সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন পাশে পাননি পরিবারকে। জেদ চেপে বসল মনে; ঘর ছাড়লেন, পেটেভাতে কাজ শিখলেন বাগেরহাটে এক গুরুর কাছে। মুয়াজ্জিন হোসেন বলেন, এমবিএ পড়ার সময় থেকেই মৌচাষের প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়। বাসায় জানালে বাবা খুব রেগে যান। উচ্চশিক্ষা নিয়ে কেন মৌচাষ করব—এটাই ছিল সবার প্রশ্ন। শেষমেশ ঘর ছাড়লাম। কাজ শিখলাম। আজ গুরুর দেওয়া সেই উপহারের ৪টি বাক্স থেকে আমার এখন ১০০টির বেশি বাক্স হয়েছে। বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করছি। দীর্ঘ ১২ বছরের অভিজ্ঞতা মুয়াজ্জিনকে শিখিয়েছে অনেক কিছু। তিনি জানালেন, মৌমাছি কখনো নষ্ট ফুল স্পর্শ করে না। বিশুদ্ধ মধু আহরণের এই নেশা এখন তার পেশা। মুয়াজ্জিনের এই সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন সহকারীরাও। সহকারি চাষি পার্থ বলেন, মুক্ত পেশা হিসেবে এটা আমার খুব ভালো লাগে। আড়াই বছর ধরে এখানে কাজ করছি। আমারও স্বপ্ন আছে ভবিষ্যতে এমন একটি খামার করার। আজ আমি মুয়াজ্জিন ভাইয়ের খামারে আছি, একদিন আমার খামারেও আমার মত আরেকজন সহকারী থাকবেন। সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌচাষ হওয়ায় দ্বিমুখী লাভ হচ্ছে এলাকায়। একদিকে যেমন খাটি মধু মিলছে, অন্যদিকে বেড়েছে সরিষার ফলন। ভেজালের ভিড়ে চোখের সামনে চাক ভাঙা মধু সংগ্রহ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন ক্রেতারা। অনেকে দেশের বাইরে পাঠাতেও এই মধু সংগ্রহ করছেন। কয়েকজন ক্রেতা বলেন, মধু কিনতে গেলে এখন ভেজাল কিনছি না ভালো কিনছি—এই ভয় থাকে। কিন্তু এখানে চোখের সামনে মৌমাছি থেকে সংগ্রহ করলে বিশ্বাসটা থাকে পুরোপুরি। আমরা নিজের জন্য তো নেই-ই, অনেকে আবার বিদেশে থাকা ছেলে-মেয়েদের কাছেও পাঠাই। একদম খাঁটি, গন্ধ আর স্বাদেই বোঝা যায়। আরেক ক্রেতা বলেন, অনলাইনে অনেকেই খাঁটি বলে বিক্রি করে কিন্তু ভরসা পাই না। এখানে এসে কিনলে আর চিন্তা নেই। দামও ন্যায্য, মাত্র ৮০০ টাকা কেজি। প্রতিবছর মৌসুম এলেই তাদের কাছে মধু সংগ্রহের জন্য অপেক্ষায় থাকি। কয়েকজন কৃষক বলেন,আগে এতো ফলন হতো না। মৌচাষিরা আসার পর দেখি ফুলে ফুলে মৌমাছি ভিড় করে। এতে পরাগায়ন অনেক বেশি হয়। গত দুই বছরে ফসলের উৎপাদন বেড়ে গেছে চোখে পড়ার মতো। সরিষার দানা বড় হয়, তেলও বেশি পাওয়া যায়। তাই আমরা চাই প্রতিবছরই তারা আসুক। এতে আমাদেরও লাভ, দেশেরও লাভ। কৃষি বিভাগ বলছে, মৌমাছির কারণে সরিষা ফুলে পরাগায়ন বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এ কারণে চাষিদের উৎসাহ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, মৌমাছির ক্যাম্প হওয়ায় ফুলের পরাগায়ন সংখ্যা অনেক বেড়েছে, যা সরিষার বাম্পার ফলনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। আমরা নিয়মিত চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। চাকরির পেছনে না ছুটে মুয়াজ্জিনের মতো শিক্ষিত যুবকরা যদি কৃষিনির্ভর এমন উদ্যোগে এগিয়ে আসেন, তবে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আরটিভি/এএএ
মৌচাষে বদলে গেছে মুয়াজ্জিনের জীবন, মাসে লাখ টাকা আয়
শিল্পকারখানার দাপটে কমছে কৃষি জমি, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
শিল্পকারখানার দাপটে কৃষি জমি কমছে ঢাকার ধামরাইয়ে। কল-কারখানার বর্জ্য এসে মিশছে নিচু আবাদি জমিতে। এতে মাটি হারাচ্ছে উর্বরতা, কমছে উৎপাদন। হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্যও। গবেষকরা বলছেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ বর্জ্য পানি পরিশোধন প্ল্যান্ট স্থাপন করলে কিছুটা মিলতে পারে মুক্তি।  অপরিকল্পিত শিল্পকারখানার আগ্রাসনে আশংকাজনকভাবে কমছে ঢাকার ধামরাইয়ের কৃষিজমি। অপরিশোধিত বর্জ্য ও ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ-প্রকৃতি। সম্প্রতি উপজেলার ডাউটিয়া ও জয়পুরা মৌজার বিভিন্ন এলাকার মাটি, পানি ও ধানের নমুনা পরীক্ষা করে ক্ষতিকর রাসায়নিকের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি পান গবেষকরা।  কৃষকরা বলছেন, দূষিত বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে চাষ করে তাদের ভুগতে হচ্ছে নানা রোগে।  পরিবেশ ও নগরবিদদরা বলছেন, শিল্পকারখানাগুলোতে তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি প্ল্যান্ট না থাকায় দূষণ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিশেষ করে ভারী ধাতু যেমন ক্রোমিয়াম কেডমিয়াম নিকেল কপার এগুলা পাওয়া যায়। এগুলা দীর্ঘদিন ধরে এই ফসলের মধ্য দিয়ে মানবদেহে এক্সপোজারের ফলে আমাদের নানা ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি আমাদের সৃষ্টি হয়। আরও পড়ুন রাস্তা ছাড়াই ১০ বছর ধরে বিলের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে সেতু দূষণ রোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে এবং আবাসন অনেক বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে। যে কারণে আমাদের কৃষি জমি কিন্তু খুবই উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে। কৃষকরা যারা রয়েছেন অগ্রগামী কৃষক তারা যেন একটা আন্দোলন সবুজ আন্দোলন করে যেন আমাদের কোন ফসল জমি যেন আর নষ্ট না হয়।  ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি শিল্প মালিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। আরটিভি/এএএ 
শিল্পকারখানার দাপটে কমছে কৃষি জমি, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
নারীদের গোপন গ্রাম, যেখানে পুরুষের প্রবেশ নিষেধ
কখনো কি ভেবে দেখেছেন নারীরা কেন পুরুষবিহীন পরিবেশে গেলে এক অদ্ভুত স্বস্তি বোধ করেন? এর কারণ শুধু পুরুষের অনুপস্থিতি নয়, বরং সেখানে তাদের সবসময় সচেতন বা ‘জাজড’ হওয়ার ভয় থাকে না। পরিবার বা কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রায়ই নানা সামাজিক দায়িত্ব ও আচরণের অদৃশ্য গণ্ডির মধ্যে থাকতে হয়। কিন্তু এমন এক জায়গায় এসে তারা সেই চাপ থেকে মুক্ত হতে পারেন, যেখানে নিজের ইচ্ছেমতো হাসা, কথা বলা কিংবা স্রেফ চুপচাপ বসে থাকার মাঝেও খুঁজে পাওয়া যায় অনাবিল প্রশান্তি। এই স্বস্তির এক জাদুকরী ঠিকানা তৈরি করে দিয়েছে চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের লিনান গ্রামে গড়ে ওঠা ‘কেকের ইমাজিনেটিভ স্পেস’। পাহাড়ঘেরা শান্ত এই গ্রামে পুরুষদের প্রবেশাধিকার নেই বললেই চলে। এখানকার রান্নাঘরে কেবল ভাপা পিঠার সুগন্ধ, চারপাশে নির্ভার হাসি আর স্বাভাবিক ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে জায়গাটি হয়ে উঠেছে নারীদের এক নিরাপদ ও স্নিগ্ধ আশ্রয়। আরও পড়ুন প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার জন্য ছুটির আবেদন, অতঃপর... নারীদের জন্য বিশেষায়িত এই স্থানটি গড়ে তুলেছেন চেন ইয়ানি, যিনি পরিচিত মহলে ‘কেকে’ নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘদিনের কর্পোরেট জীবনের ক্লান্তি আর কাজের চাপ থেকে কেকে অনুভব করেছিলেন, নারীদের এমন একটি একান্ত জায়গা দরকার যেখানে কাউকে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের লড়াই করতে হবে না। সেই ভাবনা থেকেই লিনানের পাহাড়ি পরিবেশে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্ম। এখানে যারা থাকতে আসছেন, তাদের ভাষ্যমতে—একে অপরকে চেনেন না, অথচ অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মধ্যে এক গভীর আত্মিক টান তৈরি হয়। একসঙ্গে রান্না করা, প্রাণ খুলে গল্প, বোর্ড গেম খেলা কিংবা পাহাড়ের নির্জনতায় নিঃশব্দে সময় কাটানো—সবকিছুর মধ্যেই এক ধরনের স্বতঃস্ফূর্ততা থাকে। এই অনন্য ধারণাটি এখন শুধু লিনানেই সীমাবদ্ধ নেই। ঝেজিয়াংয়ের হাংঝৌতে গড়ে উঠেছে ‘হার স্পেস’ এবং বেইজিংয়ে ‘হাফ দ্য স্কাই’-এর মতো আরও অনেক নারী-নির্ভর কমিউনিটি।  এসব উদ্যোগের পেছনের কারিগররা বলছেন, এমন জায়গাগুলো নারীদের মানসিক শক্তি জোগায়। এখানে নারীরা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো নির্ভয়ে ভাগাভাগি করতে পারেন, যা অনেক সময় তাদের নতুন কোনো কাজ বা জীবনের নতুন পথের দিশাও দেয়। চীনে নারীদের শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এর ফলে নিজেদের মানসিক সুস্থতা এবং ব্যক্তিগত সময়ের প্রয়োজন বোঝার সচেতনতাও আগের চেয়ে অনেক বেশি। সেই সচেতনতা থেকেই জন্ম নিচ্ছে এই ধরনের পুরুষবিহীন, চাপমুক্ত নতুন সামাজিক বলয়। যেখানে নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং নিজের মতো করে বেঁচে থাকার সুযোগটাই নারীদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আরটিভি/এআর 
নারীদের গোপন গ্রাম, যেখানে পুরুষের প্রবেশ নিষেধ
আরও পড়ুন
নাশকতা মামলায় মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির ৪৫ নেতাকে অব্যাহতি
নাশকতা মামলায় আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহ
রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু