গাছের ডালে ডালে ঝুলছে মাটির কলস। মই বেয়ে ওপরে উঠছেন নাহিদ- উজ্জামান, কোথাও হাত বাড়িয়ে সাবধানে বেঁধে দিচ্ছেন আরেকটি কলস। চারপাশে সবুজ, খোলা আকাশ— আর সেই সবুজের মাঝেই তৈরি হচ্ছে ছোট ছোট আশ্রয়। পাখির জন্য একটু জায়গা থাকলেই প্রকৃতি বাঁচে— এই অনুভূতিটাই যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে এই দৃশ্যে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। গাছ দেখলেই থেমে যায় এই কাজ। ডাল বেছে নিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় কলস, যেন পাখিরা নিরাপদে বাসা বাঁধতে পারে।
একটা-দুইটা নয়— এভাবে গাছের পর গাছে বসানো হয়েছে অসংখ্য কলস। রাস্তার পাশ, মাঠের ধারে, অফিস চত্বর— যেখানে গাছ আছে, সেখানেই তৈরি হচ্ছে নতুন আশ্রয়।
কলসগুলোই হয়ে উঠছে পাখির বাসা। ডালের ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট ঘর— যেখানে রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচতে পারে পাখিরা, নিশ্চিন্তে ডিম দিতে পারে, বাচ্চা বড় করতে পারে।
ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। গাছগুলো আর শুধু গাছ নয়— এগুলো এখন পাখির নিরাপদ ঠিকানা।
নিঃশব্দ এই কাজটাই যেন বলে দেয়— প্রকৃতিকে রক্ষা করতে বড় কিছু লাগে না, দরকার শুধু একটু যত্ন আর ইচ্ছা।
আরটিভি/এমএইচজে



