খুব বেশি রেগে আছেন? হতাশ? চোখের সামনে কিছু দেখলেই ভাঙচুর করতে ইচ্ছে করছে? তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে ভিডিও। আজ জানাবো এমন এক জায়গার ঠিকানা যেখানে রেগে থাকা ব্যক্তিরা হয় আমন্ত্রিত। এরপর হাতে দেয়া হয় ব্যাট, হাতুড়ি কিংবা গলফ ক্লাব। আর সামনে সাজিয়ে রাখা হয় টিভি, প্লেট, ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ নানা জিনিসপত্র। তারপর? যা ইচ্ছা ভাঙুন। যত জোরে পারেন আঘাত করুন। আর সেই সুযোগ হাতে পেয়েই কেউ প্লেট ছুড়ে মারছেন দেয়ালে। কেউ আবার হাতুড়ি দিয়ে গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন আসবাব।
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এই ওয়ার্কশপে মানুষ ঠিক এ কাজটাই করেন রাগ কমাতে। ফ্রান্সের নোয়াল-শাতিওঁ-সুর-সেইচে শহরের এই “রেজ রুম” বা “স্ম্যাশ রুম” মূলত রাগ কমানোর জন্য তৈরি। এখানে অংশগ্রহণকারীদের আগে সুরক্ষা পোশাক ও হেলমেট পরানো হয়। এরপর তাদের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে ভাঙচুরের জন্য রাখা থাকে পুরোনো ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র। চাইলে কষ্টের কারণ কাচের প্লেটের ওপর লিখে ভেঙে ফেলারও সুযোগ দেয়া হয়।
ওয়ার্কশপের আয়োজক জেনিফার লে গুয়েন জানান, এই ধারণা এসেছে জাপান ও উত্তর আমেরিকা থেকে। সেখানে বহু আগ থেকেই এমন “রাগ ঝাড়ার ঘর” জনপ্রিয়। কারণ, অনেক মানুষ নিজের ভেতরের চাপ, ক্ষোভ কিংবা হতাশা প্রকাশ করতে পারেন না। কিন্তু এখানে এসে ভাঙচুরের মাধ্যমে তারা এক ধরনের মানসিক স্বস্তি পান।
তবে শুধু ভাঙচুরই নয়, এই কর্মশালায় রাখা হয়েছে রিলাক্সেশন থেরাপির ব্যবস্থাও। অর্থাৎ রাগ ঝেড়ে ফেলার পর অংশগ্রহণকারীদের শান্ত করার জন্য থাকে আলাদা সেশনও।
এদিকে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, শুরুতে তারা এখানে আসার পর রাগই কমে গিয়েছিল দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই মনে জমে থাকা রাগ বেরিয়ে আসতে থাকে। এরপর সামনে যা কিছু পায় তাই বারবার ছুড়ে মারতে ইচ্ছে করে।
যদিও এই ওয়ার্কশপে এসে অনেকের মানসিক চাপ কমেছে। তবে কেউ কেউ এর বিরোধীতাও করেছে। তাদের মতে, রাগ কমাতে ভাঙচুর নাকি এটি মানুষকে আরও আক্রমণাত্মক করে তোলে।
আরটিভি/এআর



