ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

এআই ভাইরাস! আক্রান্ত হচ্ছে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইস

অর্পিতা জাহান, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

কম্পিউটার ভাইরাস এতদিন ছিল এক ধরনের ডিজিটাল চোর। কিন্তু এবার সেই চোরের হাতে যেন উঠে গেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মস্তিষ্ক। সে শুধু চুরি করে না, আগে ঘর মাপে, তালা দেখে, দুর্বল জানালা খুঁজে বের করে, তারপর আক্রমণের পথ বানায়। কানাডার গবেষকদের নতুন এআই-ওয়ার্ম সেই কারণেই সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। কারণ এটি শুধু ভাইরাস নয়। এটি এমন এক ডিজিটাল কীট, যা শুধু ছড়ায় না এটি শেখে, বাধা পেলে থেমে যায় না, বরং ফিরে আসে নতুন কৌশলে ।

গবেষকেরা যে নতুন ধরনের ম্যালওয়্যার পরীক্ষা করেছেন, তার নাম এআই-ওয়ার্ম। সাধারণ ভাষায় বললে, এটি এমন এক ক্ষতিকর সফটওয়্যার, যা মানুষের নির্দেশ ছাড়াই ছড়িয়ে পড়তে পারে একটি কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে । তবে ভয়টা এখানেই শেষ নয়। এটি প্রতিটি নতুন যন্ত্রে ঢোকার পর আগে সেটিকে বিশ্লেষণ করে। কোন পোর্ট খোলা, কোন সেবা চলছে, অপারেটিং সিস্টেম কী সব তথ্য জোগাড় করে। এরপর সেই যন্ত্রের দুর্বলতা বুঝে তৈরি করে আক্রমণের আলাদা পরিকল্পনা ।

আরও পড়ুন

এই গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলেন কানাডার ভেক্টর ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। গবেষকেরা লিনাক্স, উইন্ডোজ ও আইওটি মিলিয়ে ৩৩টি যন্ত্রের একটি পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্ক বানান। সেখানে এআই-ওয়ার্মটি সাত দিনের পরীক্ষায় ৬২ শতাংশ যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে এটি নেটওয়ার্কের ৭৪ শতাংশ দুর্বলতা শনাক্ত করে। ১৫টি আলাদা পরীক্ষায় দেখা যায়, ওয়ার্মটি দৈনিক গড়ে ৩১টি দুর্বলতা সঠিকভাবে খুঁজে পায়, ২৩টি যন্ত্রে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, ও ২০টি যন্ত্রে নিজের কপি বসাতে পারে।

কম্পিউটার ওয়ার্ম অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১৭ সালে ওয়ান্নাক্রাই কয়েক লাখ কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবাও তখন বড় ধাক্কা খেয়েছিল। একই বছর নটপেটিয়া নামের আরেকটি ওয়ার্ম বিশ্বজুড়ে এক হাজার কোটি ডলারের বেশি ক্ষতির কারণ হয়। তবে সেসব ওয়ার্ম সাধারণত নির্দিষ্ট দুর্বলতা কাজে লাগাত। দুর্বলতা বন্ধ করে দিলে তাদের থামানো যেত। কিন্তু এআই-ওয়ার্ম বাধা পেলে থেমে যায় না। বরং ব্যর্থতার কারণ বুঝে নতুন পথ খুঁজে নেয়।

আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, কোনো শক্তিশালী জিপিইউ-সমৃদ্ধ যন্ত্রে ঢুকলে এটি সেই যন্ত্রের প্রসেসিং শক্তি ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ আক্রান্ত কম্পিউটারই তখন হামলার অস্ত্র হয়ে যায়। এতে হামলাকারীর খরচ কমে, কিন্তু আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানকে প্রতিরক্ষার জন্য বারবার বেশি টাকা খরচ করতে হয়।
আপস
গবেষণায় দেখা গেছে, ওয়ার্মটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত নতুন কিছু নিরাপত্তা দুর্বলতাও কাজে লাগাতে পেরেছে। অথচ ব্যবহৃত এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ২০২৬ সালের আগেই শেষ হয়েছিল। গবেষকদের ধারণা, ইন্টারনেটে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করেই এটি নতুন দুর্বলতাগুলো বুঝে নেয়।

গবেষকেরা অবশ্য কিছু কারিগরি তথ্য গোপন রেখেছেন। কারণ এই গবেষণা সাইবার নিরাপত্তা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, আবার ভুল হাতে পড়লে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার তৈরির পথও দেখাতে পারে। গবেষণাপত্রটি এখনো পিয়ার রিভিউর অধীনে আছে। তাই চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি এখনো বাকি।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
বাবা, এক বটবৃক্ষের নাম। সন্তানের সবরকম ভাল থাকার উৎস, সেটিই যেন আবারও প্রমাণিত এই বাচ্চাদের কণ্ঠে। চারদিকে যখন বিরাজ করছে পূজার আমেজ তখন এই কোমলমতি শিশুদের চোখে পানি, আর কণ্ঠে আক্ষেপ। এ বছর যেন উৎসবের দিনগুলোতে নতুন জামার চেয়েও বড় অভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের বাবা। তাই আনন্দের সময়ও যেন থামছেই না তাদের কান্না।
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
ভিডিওর এই শিশুরা সবাই প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। যাদের এখন সহপাঠীদের সাথে ছুটোছুটি করার কথা বিদ্যালয়ের মাঠে। অথচ পানি জমে থাকায় তারা পারছে না খেলতে, কেউ আবার যেতে পারে না টয়লেটেও। আবার পানি পেরিয়ে ক্লাসে যেতে গিয়ে ভিজে যায় কারও পোশাক। বই-খাতায় লেগে যায় কাদা। অভিযোগের যেন শেষ নেই কোমলমতি এই শিশুদের। 
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
হরমুজ সংকটে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর। কিন্তু সেই পথও এখন রয়েছে হামলার ঝুঁকিতে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই তেলবন্দর রক্ষায় এবার সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। শুধু সেনা নয়, সঙ্গে যাচ্ছে রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।  মাখোঁ জানান, ইয়ানবু রক্ষায় সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ফ্রান্স। সেই চুক্তির আওতায় সেখানে পাঠানো হবে ফরাসি সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে মাখোঁ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। ফরাসি সেনাদের পাঠানো হচ্ছে ইয়ানবু রক্ষার জন্য, চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সৌদি আরবের একটি বন্দর রক্ষায়  কেন সেনা পাঠাতে হচ্ছে ফ্রান্সকে? এর পেছনে বড় কারণ হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবুর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল নিয়ে যাওয়া হয় লোহিত সাগরের এই বন্দরে। সেখান থেকে হরমুজ এড়িয়ে সরাসরি তেল পাঠানো সম্ভব আন্তর্জাতিক বাজারে। কিন্তু সম্প্রতি সেই ব্যবস্থাও খেয়েছে বড় ধাক্কা। ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এর আগে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে ইয়ানবু দিয়ে তেল রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইপলাইনটি আবার চালু করা হয়েছে সীমিত পরিসরে।  ফলে ইয়ানবুর নিরাপত্তা এখন শুধু সৌদি আরবের বিষয় নয়। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও বন্দরটির গুরুত্ব বেড়েছে বন্দরটির। আর ফ্রান্সও অনুভব করছে জ্বালানি সংকটের চাপ। মাখোঁ বলেন, আগামী শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে তাঁর সরকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে। এমন খবর সত্য হলে তার ফল বিশ্ব ও মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। যদিও হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে এমন কোনো পরিকল্পনার কথা। আরটিভি/এআর 
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
আধুনিকতার ছোঁয়া লাগার আগে বরেন্দ্রভূমির মেঠোপথগুলো কেমন ছিল? সন্ধ্যা নামলেই চারপাশের খাঁ-খাঁ নীরবতা, বন্যপ্রাণীর ভয় আর ডাকাতের উপদ্রব— এমন এক অনিশ্চিত সময়ে ক্লান্ত পথিকের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ। প্রায় ১২ যুগ বা ১১৮ বছর ধরে নওগাঁর পোরশার ঐতিহাসিক ‘মুসাফিরখানা’ সেই মানবতার ঐতিহ্যকে পরম যত্নে টিকিয়ে রেখেছে। নিজ সম্পত্তির উপার্জনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবারের এমন দৃষ্টান্ত আধুনিক সমাজেও এক বিরল মানবসেবার বার্তা দেয়।
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আরও পড়ুন
এআই ‘১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু’ ঘটাতে পারে: বিল গেটস
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান: শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর, মাসিক খরচ মাত্র ২০ ডলার
টাইম ম্যাগাজিনের এআই ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ
অ্যানড্রয়েড ১৭ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দেবে যেভাবে