ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

এআই ভাইরাস! আক্রান্ত হচ্ছে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইস

অর্পিতা জাহান, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

কম্পিউটার ভাইরাস এতদিন ছিল এক ধরনের ডিজিটাল চোর। কিন্তু এবার সেই চোরের হাতে যেন উঠে গেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মস্তিষ্ক। সে শুধু চুরি করে না, আগে ঘর মাপে, তালা দেখে, দুর্বল জানালা খুঁজে বের করে, তারপর আক্রমণের পথ বানায়। কানাডার গবেষকদের নতুন এআই-ওয়ার্ম সেই কারণেই সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। কারণ এটি শুধু ভাইরাস নয়। এটি এমন এক ডিজিটাল কীট, যা শুধু ছড়ায় না এটি শেখে, বাধা পেলে থেমে যায় না, বরং ফিরে আসে নতুন কৌশলে ।

গবেষকেরা যে নতুন ধরনের ম্যালওয়্যার পরীক্ষা করেছেন, তার নাম এআই-ওয়ার্ম। সাধারণ ভাষায় বললে, এটি এমন এক ক্ষতিকর সফটওয়্যার, যা মানুষের নির্দেশ ছাড়াই ছড়িয়ে পড়তে পারে একটি কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে । তবে ভয়টা এখানেই শেষ নয়। এটি প্রতিটি নতুন যন্ত্রে ঢোকার পর আগে সেটিকে বিশ্লেষণ করে। কোন পোর্ট খোলা, কোন সেবা চলছে, অপারেটিং সিস্টেম কী সব তথ্য জোগাড় করে। এরপর সেই যন্ত্রের দুর্বলতা বুঝে তৈরি করে আক্রমণের আলাদা পরিকল্পনা ।

আরও পড়ুন

এই গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলেন কানাডার ভেক্টর ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। গবেষকেরা লিনাক্স, উইন্ডোজ ও আইওটি মিলিয়ে ৩৩টি যন্ত্রের একটি পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্ক বানান। সেখানে এআই-ওয়ার্মটি সাত দিনের পরীক্ষায় ৬২ শতাংশ যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে এটি নেটওয়ার্কের ৭৪ শতাংশ দুর্বলতা শনাক্ত করে। ১৫টি আলাদা পরীক্ষায় দেখা যায়, ওয়ার্মটি দৈনিক গড়ে ৩১টি দুর্বলতা সঠিকভাবে খুঁজে পায়, ২৩টি যন্ত্রে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, ও ২০টি যন্ত্রে নিজের কপি বসাতে পারে।

কম্পিউটার ওয়ার্ম অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১৭ সালে ওয়ান্নাক্রাই কয়েক লাখ কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবাও তখন বড় ধাক্কা খেয়েছিল। একই বছর নটপেটিয়া নামের আরেকটি ওয়ার্ম বিশ্বজুড়ে এক হাজার কোটি ডলারের বেশি ক্ষতির কারণ হয়। তবে সেসব ওয়ার্ম সাধারণত নির্দিষ্ট দুর্বলতা কাজে লাগাত। দুর্বলতা বন্ধ করে দিলে তাদের থামানো যেত। কিন্তু এআই-ওয়ার্ম বাধা পেলে থেমে যায় না। বরং ব্যর্থতার কারণ বুঝে নতুন পথ খুঁজে নেয়।

আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, কোনো শক্তিশালী জিপিইউ-সমৃদ্ধ যন্ত্রে ঢুকলে এটি সেই যন্ত্রের প্রসেসিং শক্তি ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ আক্রান্ত কম্পিউটারই তখন হামলার অস্ত্র হয়ে যায়। এতে হামলাকারীর খরচ কমে, কিন্তু আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানকে প্রতিরক্ষার জন্য বারবার বেশি টাকা খরচ করতে হয়।
আপস
গবেষণায় দেখা গেছে, ওয়ার্মটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত নতুন কিছু নিরাপত্তা দুর্বলতাও কাজে লাগাতে পেরেছে। অথচ ব্যবহৃত এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ২০২৬ সালের আগেই শেষ হয়েছিল। গবেষকদের ধারণা, ইন্টারনেটে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করেই এটি নতুন দুর্বলতাগুলো বুঝে নেয়।

গবেষকেরা অবশ্য কিছু কারিগরি তথ্য গোপন রেখেছেন। কারণ এই গবেষণা সাইবার নিরাপত্তা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, আবার ভুল হাতে পড়লে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার তৈরির পথও দেখাতে পারে। গবেষণাপত্রটি এখনো পিয়ার রিভিউর অধীনে আছে। তাই চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি এখনো বাকি।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
একটি পাহাড়ি টিলা, যেখানে ভেসে উঠে নানা নকশা, ছুটে চলা হরিণের অবয়ব আর রঙ্গিন আলোর খেলা। আর তা দেখেই অবাক দর্শকরা, অনেকেই আবার ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ছবি তুলতে।
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
ডিজেলের দাম এতটাই বেড়েছে যে, পাম্পের ডিজিটাল ডিসপ্লেতেই আর বাড়তি দাম দেখানোর জায়গা নেই কোনো! ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেও হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
তেলের দেশ হিসেবেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত সৌদি আরব। কিন্তু এবার সেই সৌদির মাটির নিচে মিলেছে আরেক বিশাল সম্পদ। আর জায়গাটিও বেশ পরিচিত—পবিত্র দিনা অঞ্চল। সেখানে প্রায় ১১০ মিলিয়ন টন আকরিক সম্পদের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। যার মধ্যে রয়েছে মূল্যবান বিরল মৃত্তিকা খনিজ, সঙ্গে ইউরেনিয়ামের আশাব্যঞ্জক উপস্থিতি। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় এই খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলেছে। ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাধারণ সম্মেলনে তিনি জানান, এখানে উচ্চ ঘনত্বের বিরল মৃত্তিকা খনিজের পাশাপাশি রয়েছে আশাব্যঞ্জক মাত্রায় ইউরেনিয়াম। নামটা ‘বিরল মৃত্তিকা’ হলেও আধুনিক বিশ্বে এসব খনিজের গুরুত্ব অনেক। বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন, শক্তিশালী চুম্বক, বায়ু বিদ্যুৎ থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় এসব উপাদানের। আর ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে। জাবাল সাইদে ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়ামের মতো প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল মৃত্তিকা খনিজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিওডিমিয়াম ও প্রেসিওডিমিয়ামের মতো হালকা বিরল মৃত্তিকা খনিজের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন। একই এলাকায় প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের মজুত থাকার কথাও উঠে এসেছে বিশ্লেষণে। এই আবিষ্কার সামনে এলো এমন সময়ে, যখন তেলের বাইরেও অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে খনিজ সম্পদের দিকে নজর বাড়াচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি মা'আদেন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণে বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাও এগিয়েছে। সৌদি ও মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন জ্বালানি দপ্তর। তেল এতদিন সৌদি আরবের সম্পদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এবার মদিনার জাবাল সাইদের মাটির নিচে পাওয়া বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামের সম্ভাবনা সেই পরিচয়ে যোগ করতে পারে নতুন এক অধ্যায়।  আরটিভি/ এসকেডি  
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
ভাঙা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা আর সময়ের ক্ষয়ে জীর্ণ হয়ে যাওয়া ভবন। দেখে এখন হয়তো বোঝার উপায় নেই, একসময় এখানেই ছিল জমিদারদের প্রভাব আর জৌলুশ। সেই সময় পেরিয়েছে বহু আগেই। তবে প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, পুরোনো মসজিদ, বাঁধানো পুকুরঘাট আর পারিবারিক কবরস্থান এখনো ধরে রেখেছে সেই ইতিহাসের কিছু চিহ্ন। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের রূপসা গ্রাম। এখানেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদারবাড়ি। মূল প্রাসাদের অনেক অংশ এখন আর অক্ষত নেই। তবে টিকে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা দেখতে এখনো এখানে আসেন দর্শনার্থীরা। জমিদারবাড়ির ইতিহাস নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের তথ্যে মোহাম্মদ গাজী ও তাঁর উত্তরসূরি আহমেদ গাজী চৌধুরীর নাম পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক বিভিন্ন সূত্রে প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও নাম নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্যও রয়েছে। এখানকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুরোনো মসজিদ। স্থানীয় সংবাদসূত্রে এটি ‘মসজিদে নূর’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সূত্রের দাবি, মসজিদটি প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো এবং ১২৮৪ বঙ্গাব্দে জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী এটি নির্মাণ করেন।  মসজিদের পাশেই রয়েছে জমিদার পরিবারের কবরস্থান। পুরোনো কবর ও ফলকে এখনো পাওয়া যায় পরিবারের কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি। কাছেই রয়েছে বাঁধানো পুকুরঘাট, যা জমিদারি আমলের জীবনযাত্রার আরেকটি চিহ্ন। সময়ের সঙ্গে রূপসা জমিদারবাড়ির অনেক স্থাপনাই ক্ষয়ে যাচ্ছে। কোথাও দেয়াল ভেঙেছে, কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো কাঠামোর চিহ্ন। ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে। জমিদার নেই, নেই সেই সময়ের জৌলুশও। পড়ে আছে শুধু কিছু ভবন, মসজিদ, পুকুরঘাট আর কবরস্থান। সময়ের সঙ্গে এগুলোও হারিয়ে গেলে হারিয়ে যাবে রূপসার ইতিহাসের দৃশ্যমান একটি অধ্যায়।  আরটিভি/ এসিকেডি  
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
আরও পড়ুন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান: শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর, মাসিক খরচ মাত্র ২০ ডলার
টাইম ম্যাগাজিনের এআই ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ
অ্যানড্রয়েড ১৭ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দেবে যেভাবে
এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি