লিওনেল মেসির ভারত সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে কলকাতা। যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলা ও মারামারি ঘটনায় সমালোচনায় ভাসছে কলকাতার আয়োজকরা। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে, কলকাতার বিখ্যাত ইডেন গার্ডেন্স থাকতে কেন যুবভারতীকেই বেছে নিলো আয়োজকরা। এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলীর বড় ভাই স্নেহাশিস গাঙ্গুলী।
তার মতে, ভেন্যুর ভাড়া বাঁচাতেই ইডেন গার্ডেন্স ছেড়ে যুবভারতীকে বেছে নিয়েছে আয়োজকরা। ইডেনে মেসিকে আনা হলে কলকাতার এমন বদনাম হতো না। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি।
স্নেহাশিস গাঙ্গুলী বলেন, মেসির মতো ফুটবল ব্যক্তিত্ব, একজন লিজেন্ড মাঠে থাকতে এত লোক তার পাশে ঘোরাঘুরি করল, ম্যাসাকার হলো। এরপর আর তারকা খেলোয়াড়রা এখানে আর আসতে চাইবে না।
ইডেনে মেসিকে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, মেসির অনুষ্ঠান নিয়ে আমাকে মৌখিক ভাবে অনেকবার বলেছিল শতদ্রু দত্ত। আমি ওকে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) ভাড়া কথা জানিয়ে ছিলাম। প্রথমত সিএবির হোস্টিং, দ্বিতীয়ত আর্মির পেমেন্ট। আইপিএল ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে আর্মিকে একটা পেমেন্ট দিতে হয়।
‘কারণ, আইপিএল কমার্শিয়াল ভেঞ্চার। সেক্ষেত্রে আর্মি ম্যাচ প্রতি একটা পেমেন্ট নেয়। কিন্তু ওয়ানডে, টেষ্ট, বিসিসিআইয়ের ম্যাচ বা বিশ্বকাপের খেলার ক্ষেত্রে কোনও পেমেন্ট নেয় না আর্মি। তাই আমি স্বাভাবিক নিয়মে পেমেন্টর কথা বলেছিলম।’
পেমেন্ট নিয়ে সিএবির সঙ্গে আলোচনাও হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সাবেক এই সভাপতি। তার ভাষ্য, পেমেন্ট নিয়ে সিএবির এপেক্স মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আমি মৌখিক ভাবে শতদ্রুকে যে চার্জ বলেছিলাম এপেক্স মিটিংয়ে সেই চার্জও কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মেসির মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবলার কলকাতায় আসছেন, সেই কথা বিবেচনা করে চার্জ কমিয়ে দিওয়া হয়েছিল।
‘হোস্টিং পেমেন্ট ছাড়া সিএবি তো মাঠ দিতে পারে না। শতুদ্রু বলেছিলেন, ১৮-১৯ কোটি টাকা টিকিট বিক্রিতে এসে যাবে। যাই হোক কোনও কারণে মেসির ম্যাচের ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি।’

স্নেহাশিস দাবি হয়তো পেমেন্টের জন্য ইডেন থেকে পিছিয়ে যায় আয়োজকরা। যার মাশুল দিতে হচ্ছে পুরো কলকাতাকে। মেসিকে দেখতে না পাওয়ায় ক্ষোভে যুবভারতীতে ভাংচুর শুরু করে ভক্তরা।
এ নিয়ে স্নেহাশিস বলেন, কত বড় বড় খেলা আমরা আয়োজন করি। একদিকে সিএবির দায়িত্ব থাকতো, পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ ডাইরেক্ট কনডাক্ট করত। অনুষ্ঠান পরিকল্পনার প্রতিটা পদক্ষেপ আমরা জানতাম। এতো লোক মাঠে থাকার অনুমতি দিত না কলকাতা পুলিশ। ইডেন গ্রাউন্ডে এত লোকের ঢোকার অনুমতি কখনও থাকে না। সিএবির সভাপতি বা সম্পাদক ছাড়া অন্য কর্তাদেরও মাঠে ঢোকার অনুমতি নেই।
তিনি আরও বলেন, মাঠে ঢোকার জন্য পৃথক অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড থাকে। ফটোগ্রাফারদের জন্য আলাদা জোন থাকে। সেখান থেকে তারা অন্যত্র যেতে পারে না। এভাবে মাঠে ঢোকার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। দু’রজন ছাড়া কেউ থাকে না। আমি যা দেখলাম মেসির সঙ্গে ২০০-২৫০ লোক ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ইডেনে এই অনুষ্ঠান হলে নিশ্চিতভাবে এমন ঘটনা ঘটতো না
আরটিভি/এসআর




