বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে মাঠে দেখা যায়নি সাকিব আল হাসানকে। রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে দীর্ঘ সময় তিনি দেশে ফিরতেও পারেননি। তবে জাতীয় দলের পরবর্তী সিরিজ থেকে সাকিবের ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
গত শনিবার জরুরি সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, সাকিব আল হাসানকে আগামী সিরিজগুলোতে বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বোর্ড সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘জি, (সাকিবের সঙ্গে) আলোচনা চলমান আছে।’ তিনি আরও জানান, বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাকিবের অ্যাভেইলিবিলিটি, ফিটনেস ও নিরাপত্তাজনিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এবং যেখানে খেলা হবে সেখানে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা থাকলে তাকে নির্বাচনের জন্য ভাবা হবে।
আমজাদ হোসেন বলেন, সাকিব যেন বিভিন্ন গ্লোবাল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেন, সে জন্য বিসিবি প্রয়োজন অনুযায়ী নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দেবে। একই সঙ্গে তাকে দেশের মাটিতে অবসর নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বোর্ড ভাবছে।
বিসিবি সূত্র জানায়, সাকিবকে আবারও কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও আইনি জটিলতা নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে বোর্ড।
এদিকে বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট এজেন্ডার মধ্যেই সাকিব প্রসঙ্গ ওঠে বলে জানান বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর। তিনি বলেন, আমাদের আলোচ্য বিষয় ছিল কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় থাকা ২৭ জন খেলোয়াড়ের তালিকা। সেই আলোচনার সময় বোর্ডের এক পরিচালক প্রস্তাব দেন যে সাকিব আল হাসান খেলতে আগ্রহী এবং তার সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে।
আসিফ আকবর আরও বলেন, বিষয়টি বিসিবি সভাপতিকে জানানো হয়েছে এবং সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাকিবের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সরকারের এখতিয়ার। তবে বোর্ডের পক্ষ থেকে আমরা তাকে দলে ফেরানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছি, যোগ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ বিরতির পর সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরার পথ খুলতে শুরু করেছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সরকারের অনুমোদন ও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর।
আরটিভি/এসকে




