সেনেগালের বিপক্ষে এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া গোলে এগিয়ে গেল ৩–১ গোলে। যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের ৫ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে অবিশ্বাস্য এক শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরাসি তারকা। এই গোলে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা মুকুটও পরলেন এমবাপ্পে। অলিভিয়ের জিরুর ৫৭ গোল ছাড়িয়ে এমবাপ্পের গোল এখন ৫৮। বিশ্বকাপে তার গোল ১৪।
ম্যাচের ৭৯ মিনিটে উসমান দেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এই ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলা। মাঠে নামার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে ফ্রান্সকে ২–০ গোলে এগিয়ে দিলেন এই পিএসজি তারকা। ৮২ মিনিটে আদ্রিয়াঁ রাবিওর লম্বা করে বাড়ানো থ্রু পাস ধরে ঠাণ্ডা মাথায় গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান।
এমবাপ্পের মাইলফলক
কিলিয়ান এমবাপ্পে আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। সেনেগালের বিপক্ষে গোল করে তিনি ফ্রান্সের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা ৫৭-তে নিয়ে গেছেন। এর ফলে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ে জিরুকে ছুঁয়েছেন এমবাপ্পে।
বিশ্বকাপেও বেড়েছে তার গোলসংখ্যা। এই গোল নিয়ে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল দাঁড়িয়েছে ১৩। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁতে এখন তার প্রয়োজন আর মাত্র তিনটি গোল।
মেন্দি ঠেকিয়ে দিলেন এমবাপ্পে–ওলিসেকে
দ্বিতীয়ার্ধে ধীরে ধীরে স্বরূপে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে ফ্রান্স। তবে মাইকেল ওলিসে ও এমবাপ্পেকে ঠেকিয়ে ফ্রান্সকে গোল বঞ্চিত রেখেছেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি।
দল হিসেবে তারকা খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়ার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। এমবাপ্পে–দেম্বেলেরা একেকজন উজ্জ্বল তারকা, কিন্তু সবাই মিলে একই ছন্দে খেলতে পারেননি। গোল দূরে থাক, প্রথমার্ধে ফ্রান্স লক্ষ্যে কোনো শটও নিতে পারেনি। ফ্রান্সের চেয়ে সেনেগাল বরং বেশি উজ্জ্বল ছিল। গোলের একাধিক সুযোগও পেয়েছিল তারা। কিন্তু পোস্টের বাধা এবং ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় গোল পায়নি আফ্রিকান দেশটি। হতাশা ভুলে দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স কি ছন্দে ফিরতে পারবে?
সমতায় চলছে ফ্রান্স–সেনেগাল ম্যাচ
নিউ জার্সিতে প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটে শেষে গোলশূন্য সমতায় আছে ফ্রান্স–সেনেগাল ম্যাচ। দুই দলই চেষ্টা করছে সুযোগ তৈরির। তবে গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিল সেনেগালই। ২৫ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফ্রান্স এখনো বলার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
ইতিহাস গড়ার সুযোগ এমবাপ্পের
আজকের ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে।
ফ্রান্সের হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৬ গোল করেছেন ২৭ বছর বয়সী এই তারকা। আর একটি গোল করলেই দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ে জিরুর রেকর্ডে ভাগ বসাবেন তিনি।
বিশ্বকাপেও এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ঈর্ষণীয়। ফ্রান্সের জার্সিতে তার ৫৬ গোলের ১২টিই এসেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের মালিক জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ড ছুঁতে এমবাপ্পের দরকার আর মাত্র চারটি গোল।
আরটিভি/এমএম



