২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে এক সপ্তাহও হয়নি। এর মধ্যেই কোচ বরখাস্তের ঘটনা দেখেছে বিশ্ব। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর কোচের দায়িত্ব হারিয়েছেন সাবরি লামুশি। দেশটির নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে হার্ভে রেনার্ডেকে।
কোচ পরিবর্তনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও দলের খারাপ পারফরম্যান্সের দরুণ কোচ পরিবর্তন হয়েছে বিভিন্ন দলের। ১৯৫৪ সাল থেকে শুরু করে বিশ্বমঞ্চে কোচদের এমন নাটকীয় বিদায়ের ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো:
অ্যান্ডি বিটি (স্কটল্যান্ড, ১৯৫৪): ১৯৫৪ সালে নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল স্কটল্যান্ড। সেবার স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কোচ অ্যান্ডি বিটিকে মাত্র ১৩ জনের একটি ছোট স্কোয়াড নিয়ে সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি দেয়। সীমাবদ্ধতার মাঝেও প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রিয়ার কাছে মাত্র ১-০ গোলে হেরেছিল তারা। তবে আসল বিপর্যয় ঘটে পরের ম্যাচে। সুইজারল্যান্ডের তীব্র গরমের মধ্যে উলের তৈরি ভারী জার্সি পরে উরুগুয়ের মুখোমুখি হয় স্কটিশরা। প্রতিকূল আবহাওয়া আর জার্সির অস্বস্তিতে উরুগুয়ের কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় তারা। এই ঐতিহাসিক ও লজ্জাজনক হারের পরেই কোচের পদ থেকে ইস্তফা দেন অ্যান্ডি বিটি।
কার্লোস আলবার্তো (সৌদি আরব, ১৯৯৮): ১৯৯৪ বিশ্বকাপে দারুণ চমক দেখানো সৌদি আরব ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে বড় আশা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তবে প্রথম ম্যাচেই ডেনমার্কের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় তারা। পরের ম্যাচে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই কোচ কার্লোস আলবার্তোকে বরখাস্ত করে সৌদি ফুটবল প্রশাসন।
চা বুম-কুন (দক্ষিণ কোরিয়া, ১৯৯৮): ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে মেক্সিকো ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচেই ৮টি গোল হজম করে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। এই ভরাডুবির জেরে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয় কোচ চা বুম-কুনকে।
হেনরিক ক্যাসপারজাক (তিউনিসিয়া, ১৯৯৮): ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও দায়িত্ব হারিয়েছিল তিউনিসিয়ার কোচ। সেবার ২০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা তিউনিসিয়া প্রথম দুই ম্যাচ হেরেই আসর থেকে বিদায় নেয়। ইংল্যান্ডের কাছে ২-০ গোলে হারার সেই ম্যাচটি ফুটবলীয় লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের সহিংসতার জন্য বেশি আলোচিত ছিল। আর দ্বিতীয় ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে লড়েও ১-০ গোলে হেরে যায় তিউনিসিয়া। এই টানা দুই পরাজয়ের পর কোচ হেনরিক ক্যাসপারজাককে বরখাস্ত করতে এক মুহূর্তও ভাবেনি দেশটির ফুটবল বোর্ড।
আরটিভি/এমএম



