আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি আবারও বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রে। ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এই পারফরম্যান্সকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন করে রেকর্ড চর্চা।
ম্যাচ পরবর্তী সময়ে মেসির নামে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যে দাবি করা হয়, তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় উঠে এসেছেন এবং কিংবদন্তিদের পাশে থাকতে পেরে গর্ব অনুভব করেছেন। বিশেষ করে ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনালদো ও জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার নাম উল্লেখ করে তাকে উদ্ধৃত করে আবেগঘন মন্তব্য ছড়ায় বিভিন্ন মাধ্যমে।
তবে ফুটবল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখনো ক্লোসার ১৬ গোলেই সীমাবদ্ধ, আর রোনালদো নাজারিওর গোলসংখ্যা ১৫। মেসি তার ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে বহু স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিলেও এসব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
ম্যাচ শেষে রেকর্ড স্পর্শ করার অনুভূতি জানাতে গিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেন মেসি। তিনি বলেন, এত বড় বড় কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই তালিকায় থাকতে পারা আমার জন্য বিরাট সম্মানের। বিশেষ করে রোনালদো নাজারিওর মতো একজন ফুটবলারের নামের পাশে নিজের নাম দেখতে পারা সত্যিই গর্বের।
ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদোকে স্মরণ করে মেসি আরো বলেন, তিনি সর্বকালের সেরাদের একজন। আমি ছোটবেলায় তার খেলা দেখে মুগ্ধ হতাম। তবু তিনি তালিকার এক নম্বরে নেই। এটা দেখলেই বোঝা যায় বিশ্বকাপের ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ এবং এখানে কত বড় বড় খেলোয়াড় খেলেছেন। তার মতো একজন কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনা হওয়াটাও আমার জন্য বিশেষ কিছু।
ফুটবলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। মেসি বলেন, আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকেই এই খেলাটাই আমার জীবন। যখন আমি নিজেকে ভালো অবস্থায় অনুভব করি, তখন মাঠে নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি। ফুটবল এখনো আমাকে আগের মতোই আনন্দ দেয়।
ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যে আরও বলা হয়, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও মাঠে নিজের সর্বোচ্চ দেওয়ার মানসিকতার কথাও তুলে ধরেছেন মেসি। তিনি নাকি জানিয়েছেন, ফুটবলই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা এবং মাঠে নামলেই তিনি শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে মেসি ইতোমধ্যেই অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বকাপে তার প্রতিটি ম্যাচই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে এবং সমর্থকদের মধ্যে রোমাঞ্চ বাড়াচ্ছে এমনটাই বলছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
আরটিভি/এসকে



