নড়াইলের বারইপাড়া ঘাটে নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কালিয়া সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে বদলে যাবে জেলা সদর ও কালিয়া উপজেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে এই জনপদের জীবনমানেরও উন্নয়ন হবে। নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আজন্মের দূরত্ব ঘোঁচাবে এই সেতু।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এই সেতুর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে সদর ও কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারের যোগাযোগ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সর্বস্তরের উন্নয়নের দুয়ার খুলে যাবে। এতে দুই উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যেও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের মাধ্যমে জেলা জুড়ে সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগবে।
তিনি বলেন, সেতুটি নির্মাণের ফলে জেলা সদর, কালিয়া উপজেলা, খুলনা ও আশপাশের জেলা-উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-কালিয়া সড়কের বারইপাড়া এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের কালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ শেষের পথে। মোট ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। মোট কাজের ৮৫ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
কালিয়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের লিপন শেখ বলেন, বারইপাড়া ঘাটে নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কালিয়া সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারব। আগের মতো আমাদের কষ্টের দিন থাকবে না।
পুরুলিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের চাকুরিজীবী আসিফ সরদার বলেন, সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে নদী ঘাটে নৌকার জন্য অপেক্ষা করে আর সময় পার করতে হবে না। এতে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হব।
কালিয়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আসজাদুর রহমান মিঠু বলেন, চারদিকে নদী, অথৈ পানির ঢেউয়ের মাঝেই নবগঙ্গা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের বসবাস। নবগঙ্গা নদীর ওপর বারইপাড়া ঘাটে সেতু নির্মাণের ফলে নদী তীরবর্তী ও আশপাশের মানুষের জীবনে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগবে। নদীমাতৃক নড়াইল এখন উন্নয়ন সমৃদ্ধির মডেল জনপদ হিসেবে সর্বত্র পরিচিত লাভ করবে।
স্থানীয়রা জানান, নড়াইল জেলা শহর থেকে কালিয়া উপজেলা সদরকে বিভক্ত করেছে নবগঙ্গা নদী। এই নদীর ওপর বারইপাড়া ঘাটে নির্মিতব্য সেতুটি চালু হলে নড়াইল সদর, কালিয়া উপজেলা ছাড়াও বাগেরহাট ও খুলনাসহ আশপাশের জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে সেতুর ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নবগঙ্গা নদীর ওপর কালিয়া সেতু নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এ বছর ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়েই কাজটি সম্পন্ন হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সে অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বাসস
আরটিভি/আইএম




