ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ববাজার মাতাচ্ছে সাতক্ষীরার কাঁকড়া

বাসস

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
সফটশেল কাঁকড়া খাঁচা পদ্ধতিতে হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় চাষ হওয়া নরম খোসার (সফটশেল) কাঁকড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল চাহিদা তৈরি করেছে।

বর্তমানে সফটশেল (নরম খোসার) কাঁকড়া সাতক্ষীরা জেলার মানুষের ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে কাঁকড়া উৎপাদনের জন্য প্রতি বছর গড়ে উঠছে নতুন নতুন খামার, যা জেলা তথা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন মাসে কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গত ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-জুন) এ রপ্তানি ছিলো ৯ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এতে বিগত বছরে চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। কেবল চলতি বছরের জুন মাসে রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমান বাণিজ্যিকভাবে চাষযোগ্য কাঁকড়ার মধ্যে শিলা কাঁকড়া অন্যতম। শিলা কাঁকড়া খোলস বদলের সময় প্রায় তিন ঘণ্টা খোলসবিহীন থাকে। তখন কাঁকড়ার ওপর শুধু একটি নরম আবরণ থাকে। ঠিক সেই সময় কাকড়াঁগুলো বিক্রির জন্য উপযুক্ত হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে সফটশেল (নরম খোসা) কাঁকড়ার উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়, যার কারণে অনেক চাষি চিংড়ি ছেড়ে এখন কাঁকড়া চাষে ঝুঁকছেন। লাভ বেশি হওয়ায় চাষীরা এখন চিংড়ি চাষ ছেড়ে কাকড়াঁতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বেশি।

বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর ছাড়াও সদর উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলাসহ অন্যান্য স্থানেও সফটশেল কাঁকড়া চাষ হচ্ছে।

কাঁকড়া চাষে পুকুরের পানির উপরিস্তর ব্যবহৃত হয়। যাতে অব্যবহৃত থাকে পানির নিচের স্তর। পুকুরের পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কাঁকড়ার পাশাপাশি সাদা মাছ যেমন রুই, কাতলা ও তেলাপিয়াসহ নানা মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেক চাষী।

সফটশেল কাঁকড়া সাধারণত খাঁচা পদ্ধতিতে চাষ হয় যাতে পানির ওপরে খাঁচাগুলোতে কাঁকড়া চাষ করলে নিচের স্তরের পানিতে সাদা মাছের চাষ করা যায়।

সফটশেল কাঁকড়া দ্রুত প্রক্রিয়াজাত ও রান্না করা যায় বলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বেশি। বর্তমানে সফটশেল কাঁকড়া চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন এশীয় দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

কাঁকড়া শুধু সাতক্ষীরা জেলার মানুষের আয়েরই উৎস নয়, বরং কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে এই অঞ্চলে মানুষের বেকারত্বও দূর করছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এই কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

সরেজমিনে শ্যামনগর উপজেলার কয়েকটি কাঁকড়ার খামারে গিয়ে দেখা যায়, কাঁকড়ার খামারে কর্মব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন নারী ও পুরুষরা। কেউ ছোট ছোট করে কাটছেন কাঁকড়ার খাবার তেলাপিয়া মাছ এবং কেউ কেউ নিয়ম করে দেখছেন কাঁকড়ার খোলস পাল্টাচ্ছে কি-না।

খুলনা মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সফটশেল কাঁকড়া রপ্তানিতে গত দুই অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৬৪৪ দশমিক ৭৬৮ মেট্রিক টন সফটশেল কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছিল, যার বাজার মূল্য ছিল ৮ দশমিক ০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৬৬ দশমিক ৮৮৮ মেট্রিক টনে। যার বাজার মূল্য ছিল ১৪ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে ২০২১-২২ অর্থবছরে সফটশেল কাঁকড়ার রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮০২ দশমিক ৭১৩ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য ছিল ১১ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আরও পড়ুন

শ্যামনগরের দুগাবাঁটি এলাকার কাঁকড়া চাষী গৌতম সরকার বলেন, আমাদের এখানে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই আমাদের অর্থনৈতিক একটা ঝুঁকি সব সময় থাকে। চিংড়ি পোনার লবণাক্ততা সহ্য করার ক্ষমতা কম এবং পোনায় ভাইরাসের আক্রমণে এটি মারা যায়। তাই আমি এবার কাঁকড়া চাষ করেছি।

তিনি আরও বলেন, এতে তুলনামূলক লাভ বেশি হয় ও কাঁকড়ার পাশাপাশি পুকুরে সাদা মাছ চাষ করছি, যাতে এটি থেকেও আর্থিকভাবে কিছুটা লাভবান হওয়া যায়।

একই এলাকার চাষি সৌরভ সরকার বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের সবাই সফটশেল কাঁকড়া চাষ করছেন। আমি এই মৌসুমে ৭০০ খাঁচা তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা। বাজার ভালো থাকলে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারব। বর্তমানে ‘এ’ গ্রেডের সফটশেল কাঁকড়া প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা, ‘বি’ গ্রেডের ৬৫০ টাকা, আর ‘সি’ গ্রেডের ৫০০ টাকা দামে।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম বলেন, সফটশেল কাঁকড়ার উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক ও টেকসই পদ্ধতিতে কাঁকড়া চাষ করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, তবে বর্তমানে সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায়, চাষিরা কাঁকড়ার পোনা সংগ্রহে কিছুটা সমস্যায় পড়ছেন। এই সংকট মোকাবেলায় সরকারিভাবে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিশুকে নিয়ে ছাদে মোশাররফ, ইউপি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার’
সাতক্ষীরা সদরে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোশাররফ হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শিশুকে নিয়ে ছাদে মোশাররফ, ইউপি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার’
গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
গাজীপুরে টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ওষুধ কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
ভবন নির্মাণের সময় আইনবহির্ভূত কাজ করলে আইনের আওতায় আনা হবে: গৃহায়ণ মন্ত্রী
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভবন নির্মাণের সময় কেউ আইনবহির্ভূত কাজ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
ভবন নির্মাণের সময় আইনবহির্ভূত কাজ করলে আইনের আওতায় আনা হবে: গৃহায়ণ মন্ত্রী
বারবার বারণেও তালাক দেওয়া স্ত্রীর কাছে যাওয়া থামাননি দুলু মিয়া! পরে মিলল মরদেহ
টাঙ্গাইলের সখীপুরে তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির পাশের ধানক্ষেতের কাছে দুলু মিয়া (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চটানপাড়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত দুলু মিয়া ওই গ্রামের মৃত কাঞ্জু মিয়ার ছেলে। তিনি বড়চওনা রফিকরাজু স্কুলের দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুলু মিয়ার প্রথম স্ত্রী আসমা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার তালাক হলেও ওই বাড়িতে দুলু মিয়ার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। আমরা বারবার বলেও তাকে ফেরাতে পারিনি। ওরাই আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে। অন্যদিকে দুলু মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী জরিনা বেগম জানান, তালাকের পর দুলু মিয়ার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। নিহতের ছেলে আজহার মিয়া বলেন, তার বাবা গত রাতে দোকানে চা পান করে বাড়িতে ফেরেন। পরে আবার বাইরে বের হন। এরপর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার বাবার মরদেহ রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়রা জানান, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির পাশের ধানক্ষেতের কাছে দুলু মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আরটিভি/এমএইচজে
বারবার বারণেও তালাক দেওয়া স্ত্রীর কাছে যাওয়া থামাননি দুলু মিয়া! পরে মিলল মরদেহ
মুন্সীগঞ্জে একই দিনে দুই মায়ের ঘরে যমজ সন্তান, চার নবজাতকই সুস্থ
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় একই দিনে দুই প্রসূতির অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চার নবজাতকের জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে এক দম্পতির ঘরে এসেছে দুই কন্যাসন্তান, অন্য দম্পতির ঘরে দুই পুত্রসন্তান। দুই দম্পতিরই এটি প্রথম সন্তান।
মুন্সীগঞ্জে একই দিনে দুই মায়ের ঘরে যমজ সন্তান, চার নবজাতকই সুস্থ
আরও পড়ুন
শিশুকে নিয়ে ছাদে মোশাররফ, ইউপি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার’
৪ লাখ টাকার মুক্তাখচিত দুর্গাদেবী দেখতে বুড়িয়ায় দর্শনার্থীদের ঢল
অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের মাদরাসাছাত্রী, পালালেন শিক্ষকসহ ৩ জন
স্বামীর মোটরসাইকেলে স্কুলে যাচ্ছিলেন শিক্ষিকা, মুহূর্তেই পিষে দিলো ট্রাক