অনেকেই হামকে সাধারণ ভাইরাসজনিত জ্বর বা শরীরে র্যাশ ওঠার রোগ বলে মনে করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং চোখসহ বিভিন্ন অঙ্গে জটিলতা তৈরি করতে পারে। সঠিক সময়ে যত্ন ও চিকিৎসা না নিলে চোখের মারাত্মক ক্ষতি এমনকি স্থায়ী অন্ধত্বও হতে পারে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, একটু সচেতন থাকলেই হামের সময় চোখের বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
হাম কীভাবে চোখের ক্ষতি করে
হাম হলে কয়েকটি কারণে চোখে সমস্যা দেখা দিতে পারে—
ভিটামিন এ-র ঘাটতি:
হামের সময় শরীরে ভিটামিন এ দ্রুত কমে যায়। এই ভিটামিন চোখের কর্নিয়া সুস্থ রাখতে খুবই জরুরি। এর অভাবে চোখ শুকিয়ে যেতে পারে এবং অন্ধত্বের ঝুঁকি বাড়ে।
সরাসরি ভাইরাসের আক্রমণ:
হামের ভাইরাস চোখের কনজাংটিভা ও কর্নিয়ায় প্রদাহ তৈরি করতে পারে। ফলে চোখ লাল হওয়া ও অস্বস্তি দেখা দেয়।
ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ:
হামের কারণে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলে চোখ সহজেই অন্য সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে।
হামের সময় চোখে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে
· চোখ লাল হওয়া বা কনজাংটিভাইটিস
চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং আলোতে তাকাতে কষ্ট হওয়া।
· কর্নিয়ায় ঘা বা আলসার
সময়মতো চিকিৎসা না করলে কর্নিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
· জেরোপথালমিয়া (চোখ শুকিয়ে যাওয়া)
তীব্র ভিটামিন এ-র অভাবে চোখ শুকিয়ে যায়, রাতকানা হতে পারে।
· দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা অন্ধত্ব
কর্নিয়ায় দাগ পড়লে দৃষ্টি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চোখের সুরক্ষায় যা করবেন
ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিন
হাম শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুদের উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
চোখ পরিষ্কার রাখুন
পরিষ্কার তুলা বা নরম কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে চোখের কোণ আলতো করে পরিষ্কার করতে হবে।
পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান
গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পালংশাক, ছোট মাছের মতো ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। বুকের দুধ পান করা শিশুদের নিয়মিত বুকের দুধ দিতে হবে।
কম আলোতে রাখুন
হামের সময় চোখ আলোতে সংবেদনশীল থাকে। তাই রোগীকে মৃদু আলোযুক্ত ঘরে রাখা ভালো।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
চোখে সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আই ড্রপ ব্যবহার করতে হবে।
যেসব ভুল করবেন না
- চোখ চুলকালে হাত দিয়ে রগড়াবেন না
- · অপরিষ্কার হাতে চোখ স্পর্শ করবেন না
- · চোখে গোলাপজল, দুধ, মধু বা গাছের রস ব্যবহার করবেন না
- · নিজে থেকে স্টেরয়েড ড্রপ ব্যবহার করবেন না
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন
- · চোখ বেশি লাল হয়ে গেলে
- · চোখে ব্যথা বা পুঁজ দেখা দিলে
- · দেখতে সমস্যা শুরু হলে
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা গ্রহণ, ভিটামিন এ সেবন এবং সঠিক যত্নের মাধ্যমে হামের কারণে হওয়া অন্ধত্ব সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ




