গ্রীষ্ম এলেই বাজারজুড়ে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে তরমুজ। লাল টুকটুকে, রসালো এই ফলটি তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি শরীরকে দেয় দারুণ সতেজতা। তবে বেশিরভাগ মানুষই তরমুজকে সাধারণত খাবারের শেষে ডেজার্ট হিসেবেই খেয়ে থাকেন। অথচ পুষ্টিবিদরা বলছেন, তরমুজ খাওয়ার সময়টায় সামান্য পরিবর্তন আনলে এর উপকারিতা আরও বেশি পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে তরমুজ খেলে শরীর এতে থাকা পুষ্টিগুণ ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে।
অনেকেরই অভিযোগ থাকে, সকালে পেট ভরে নাশতা করার পরও কিছুক্ষণ পরই ক্লান্ত লাগতে শুরু করে। শক্তি যেন দ্রুত ফুরিয়ে যায়। এমন অবস্থায় সহজ একটি অভ্যাস বদলে দিতে পারে পুরো দিনের অনুভূতি। আর সেই অভ্যাসটি হলো সকালে খালি পেটে তরমুজ খাওয়া।
সকালে শরীরের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে
রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমের মধ্যে শরীর নিজের ভেতরের বিভিন্ন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই প্রক্রিয়ায় শরীরে কিছুটা অ্যাসিডিক পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তরমুজ স্বভাবতই ক্ষারীয় প্রকৃতির ফল। সকালে খালি পেটে তরমুজ খেলে এটি শরীরের অতিরিক্ত অ্যাসিডিক ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে পেটও অনেক সময় শান্ত ও স্বস্তিদায়ক অনুভূত হয়। অনেকেই জানান, এতে সকালে খিটখিটে ভাবও কম থাকে।
রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করতে পারে
তরমুজে রয়েছে সিট্রুলিন নামের একটি উপাদান। এটি রক্তনালীগুলোকে কিছুটা শিথিল ও প্রসারিত করতে সহায়তা করে। খালি পেটে তরমুজ খেলে শরীর এই উপাদানটি তুলনামূলক ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে। এর ফলে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা উন্নত হতে পারে এবং মস্তিষ্কেও রক্তপ্রবাহ বাড়তে পারে। এতে অনেকের ক্ষেত্রে মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়তে দেখা যায়।
ত্বকের জন্যও উপকারী হতে পারে
তরমুজে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা ত্বকের জন্য উপকারী। খালি পেটে খেলে শরীর এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো সহজে শোষণ করতে পারে। ফলে নিয়মিত এই অভ্যাস বজায় রাখলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ত্বকে কিছুটা উজ্জ্বলতা বা সতেজ ভাব দেখা যেতে পারে।
শরীরের প্রাকৃতিক পরিষ্কার প্রক্রিয়ায় সহায়তা
তরমুজের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে। পাশাপাশি এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও রয়েছে। সকালে তরমুজ খেলে শরীরে পানি সরবরাহ বাড়ে। যা কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। এতে শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।
৩০ মিনিটের একটি সহজ নিয়ম
পুষ্টিবিদদের মতে, তরমুজ খাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট অন্য কোনো খাবার না খাওয়াই ভালো। তরমুজে থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম হজমতন্ত্রকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। এই সময়টুকু দিলে পাকস্থলী পরবর্তী খাবারের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। ফলে হজম প্রক্রিয়াও সহজ হয়।
ছোট একটি অভ্যাস, বড় পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এমন কোনো কঠিন নিয়ম নয় যা মানতেই হবে। তবে যারা সকালে খালি পেটে তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস করেছেন তাদের অনেকেই জানান, এতে সারাদিন শরীর হালকা ও সতেজ অনুভূত হয়। অর্থাৎ খুব ছোট একটি পরিবর্তন, সকালের শুরুতে কয়েক টুকরো তরমুজ। আর আপনার দিনের অনুভূতিতে বড় পার্থক্য এনে দিতে পারে।
তাই গরমের এই সময়ে অনেকেই তরমুজকে শুধু ডেজার্ট হিসেবে নয়, বরং দিনের শুরুতে একটি সতেজ ফল হিসেবে খাওয়ার কথা ভাবতে পারেন।
আরটিভি/জেএমএ




