তরমুজ খাওয়ার সময় মুখে এর বীজ লাগলে অনেকেরই অস্বস্তি হয়। ছোটবেলা থেকে একটি ধারণা প্রচলিত আছে, তরমুজের বীজ খেলে শরীরের ক্ষতি হয়। যা আজও অনেকের মনে ঘুরপাক খায়। এর কারণে অনেকে দুশ্চিন্তায় পড়েন। কিন্তু সত্যি বলতে কি, এই বীজ মোটেও ক্ষতিকর নয়। বরং, সঠিকভাবে খেলে তরমুজের বীজ হতে পারে পুষ্টির এক শক্তিশালী উৎস। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ছোট বীজেই লুকিয়ে আছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। যা খেলে আপনার শরীরের জন্য বিশাল উপকার হয়।
ছোট, কিন্তু শক্তিশালী
তরমুজের বীজ দেখতে ছোট, কিন্তু পুষ্টিগুণে ভরপুর।
প্রোটিনের ভান্ডার: প্রায় ৩০% প্রোটিনের পাশাপাশি আছে আর্জিনিন নামের অ্যামিনো অ্যাসিড। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে।
উপকারী ফ্যাট: মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
খনিজ উপাদান: ম্যাগনেসিয়াম, জিংক ও আয়রন রয়েছে। যা স্নায়ু, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শক্তি বাড়াতে বিশেষ কার্যকর।
শরীর ও ত্বকের জন্য বিশেষ উপকার
গরমকালে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও ত্বকের সমস্যা বেড়ে যায়। এ সময়ে তরমুজের বীজ কাজে আসে।
ত্বকের যত্ন: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্যাট শরীরকে আর্দ্র রাখে, জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম ত্বকের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
হৃদ্স্বাস্থ্য: গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে হৃদ্যন্ত্র বেশি কাজ করে। ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
শক্তি ও বিপাক: বি-ভিটামিন খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করে, ক্লান্তি কমায়।
ভাজা: শুকিয়ে সামান্য ঘি বা তেলে হালকা ভাজা। লবণ, শুকনা আমচুর বা মরিচ গুঁড়া দিলে স্বাদ আরও ভালো।
খাবারে ব্যবহার: পোহা, উপমা, স্মুদি, লাচ্ছি বা সালাদে টপিং।
সতর্কতা
যেকোনো খাবারের মতো, পরিমিত খাওয়া জরুরি।
বেশি খেলে হজমের সমস্যা বা গ্যাস হতে পারে।
২৫–৩০ গ্রাম যথেষ্ট।
ছোট এই বীজটি হয়তো আপনার চোখে তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু এটি হতে পারে শরীরের জন্য বড় উপকারের উৎস। তাই পরেরবার তরমুজ খাওয়ার সময় বীজ ফেলে না দিয়ে পুষ্টি গ্রহণের জন্য সচেতনভাবে খান।
আরটিভি/জেএমএ
আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে
Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। কেউ দ্রুত ফল পেতে চান, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে চান।
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন।
যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন।
তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে।
গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।
সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরটিভি/এসআর