খালি পেটে ব্যায়াম বা সকালে কিছু না খেয়ে শরীরচর্চা বর্তমানে অনেকের কাছেই জনপ্রিয় একটি অভ্যাস। কেউ কেউ মনে করেন এতে দ্রুত চর্বি কমে। আবার কেউ এটি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন। তবে বাস্তবতা হলো, এর প্রভাব শরীরে নির্ভর করে ব্যায়ামের ধরন ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর।
শরীরে তখন কী ঘটে
রাতভর না খেয়ে থাকার পর সকালে শরীরের ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায় এবং শক্তির জন্য শরীর জমা চর্বি ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে কিছু হরমোন সক্রিয় হয়। যা শরীরকে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। হালকা ব্যায়ামে এই প্রক্রিয়া বেশি দেখা যায়। তবে তীব্র ব্যায়ামে আবার কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন বাড়ে।
কিছু সম্ভাব্য উপকারিতা
খালি পেটে ব্যায়াম করলে শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি চর্বি ব্যবহার করতে পারে। এতে ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত হতে পারে। যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এতে খাবারের পরিমাণও কিছুটা কমে যেতে পারে।
যেসব ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়
অনেকে মনে করেন এতে দ্রুত ওজন কমে যায়। কিন্তু আসলে ওজন কমা নির্ভর করে সারাদিনের ক্যালরি ব্যালান্সের ওপর। আবার অনেকের ক্ষেত্রে শক্তির ঘাটতির কারণে ব্যায়ামের পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে। পর্যাপ্ত পুষ্টি ছাড়া দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করলে মাংসপেশি গঠনের ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হতে পারে।
কাদের জন্য সতর্কতা জরুরি
যারা হালকা ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে সহনীয় হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগী, ভারী ব্যায়াম করা ব্যক্তি বা যাদের শরীরে শক্তির ঘাটতি রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
নিরাপদভাবে ব্যায়াম কীভাবে করবেন
ব্যায়ামের আগে ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। শুরুতে হালকা ব্যায়াম করা ভালো। ব্যায়ামের পর দ্রুত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা জরুরি। মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভব হলে ব্যায়াম বন্ধ করা উচিত।
সব মিলিয়ে, খালি পেটে ব্যায়াম কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত বিশ্রামই সুস্থ শরীরের মূল চাবিকাঠি।
আরটিভি/জেএমএ




