টেনশনে বারবার খাচ্ছেন? অজান্তেই ডাকছেন বড় বিপদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:২৮ এএম


টেনশনে বারবার খাচ্ছেন? অজান্তেই ডাকছেন বড় বিপদ
ছবি: সংগৃহীত

মাথায় দুশ্চিন্তা এলেই হাত চলে যাচ্ছে খাবারের দিকে। কখনো মিষ্টি, কখনো তেল-ঝাল খাবার। আবার কখনো এমনও হয়, একেবারেই খেতে ইচ্ছে করে না। অনেকেই এটাকে সাধারণ অভ্যাস ভাবলেও, বিজ্ঞান বলছে—এটা শরীরের একটি জটিল প্রতিক্রিয়া। যা দীর্ঘদিন চললে বিপদ ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ আসলে শুধু মনে নয়, শরীরের ভেতরেও বড় পরিবর্তন ঘটায়। কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লে শরীর সতর্ক হয়ে যায়। তখন শরীরে কিছু হরমোন সক্রিয় হয়। যা হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এর সঙ্গে ক্ষুধারও সম্পর্ক তৈরি হয়।

এই সময় মস্তিষ্ক কখনো বেশি শক্তি চায়, বিশেষ করে মিষ্টি বা তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। ফলে অনেকেই অজান্তেই বেশি খেতে শুরু করেন। আবার কারও ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো, খিদে একেবারেই কমে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের মস্তিষ্ক ও পেটের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। মানসিক চাপ এই যোগাযোগে প্রভাব ফেলে। ফলে কখনো পেট ভরা থাকলেও খেতে ইচ্ছে করে, আবার কখনো খালি পেটেও খিদে লাগে না।

আরও পড়ুন

তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা শুরু হয় দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে। তখন রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে, শরীরে চর্বি জমে, ওজন বেড়ে যায়। এক সময় এটি ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা এক ধরনের দুষ্টচক্র। মানসিক চাপ বাড়লে খাওয়া বাড়ে। আর অতিরিক্ত খাওয়া আবার শরীরকে আরও দুর্বল করে তোলে। ফলে সমস্যা থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তাহলে সমাধান কী?

প্রথমেই দরকার সচেতনতা। দুশ্চিন্তার সময় কী খাচ্ছেন, তা খেয়াল রাখা জরুরি। ঘুম ঠিকমতো হওয়া খুব জরুরী। কারণ ঘুমের ঘাটতি থাকলে খাওয়ার ইচ্ছা আরও বেড়ে যায়।

এছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। বাড়িতে অতিরিক্ত মিষ্টি বা অস্বাস্থ্যকর খাবার না রাখাই ভালো। তার বদলে অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খেলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সবচেয়ে বড় কথা, একা না থেকে পরিবার বা কাছের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে অযথা খাওয়ার প্রবণতাও কমে।

তাই টেনশনে বেশি খাওয়া শুধু অভ্যাস নয়, এটি শরীরের এক সতর্ক সংকেত। সময় থাকতে বুঝে না নিলে, ছোট এই অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ।

সূত্র: বিবিসি বাংলা 


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission