উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেশার) এমন এক স্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে হৃদপিণ্ডের ধমনীতে রক্ত চলাচলের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। শুরুতে এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা না গেলেও ধীরে ধীরে এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের বড় ক্ষতি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই এই সমস্যায় ভুগলেও তা বুঝতে পারেন না। তাই বিশ্বজুড়ে একে “নীরব ঘাতক” বলা হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। ফলে এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
শরীরের জন্য লবণ প্রয়োজনীয় হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। এতে খাবারের স্বাদ বাড়লেও শরীরে ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ৫ গ্রামের বেশি লবণ গ্রহণ করা উচিত নয়।
প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি
চিপস, বিস্কুট, পাউরুটি, কেক এবং ফ্রোজেন খাবারে প্রচুর সোডিয়াম থাকে। এসব খাবার নিয়মিত খেলে শরীরে লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই যতটা সম্ভব এই ধরনের খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সস ও আচার কম খাওয়া উচিত
সয়া সস, টমেটো সস, চিলি সস, মেয়োনিজ, আচার ও রেডিমেড চাটনিতে লুকিয়ে থাকে অতিরিক্ত লবণ। খাবারে এগুলোর ব্যবহার কমালে শরীরে লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
কাঁচা লবণের অভ্যাস ছাড়ুন
অনেকেই খাবার খাওয়ার সময় আলাদা করে কাঁচা লবণ ব্যবহার করেন। এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। রান্নায় পরিমিত লবণ ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। স্বাদ বাড়াতে জিরা গুঁড়া, ধনে গুঁড়া, গোলমরিচ বা গরম মশলা ব্যবহার করা যেতে পারে।
অতিরিক্ত লবণ খেলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সেখান থেকে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা এবং শরীরের ব্যথা-বাতের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেক সময় আমরা না জেনেই খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করি।
রেস্তোরাঁর খাবারেও সতর্কতা
বাইরের খাবারে সাধারণত লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই নিয়মিত রেস্তোরাঁর খাবার খাওয়ার বদলে বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে শরীরের সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
লবণ পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়, বরং পরিমিতভাবে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনভাবে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলেই উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ




