রাতের আঁধারে হঠাৎ নিখোঁজ এক নারী। পরিবারের সবাই খুঁজতে খুঁজতে যখন দিশেহারা, তখন দেখা গেল অবাক করা এক ঘটনা। বাড়ির পাশের উঁচু গাছের মগডালে বসে আছেন তিনি। কুড়িগ্রামের এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে তুমুল চাঞ্চল্য। কেউ বলছেন অলৌকিক ঘটনা, কেউ আবার টানছেন ভূত-প্রেতের গল্প। তবে চিকিৎসকদের মতে, এর পেছনে থাকতে পারে ভয়ঙ্কর এক ঘুমজনিত সমস্যা।
ঘুমের মধ্যেই বিপজ্জনক কাজ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু মানুষ ঘুমের মধ্যেই হাঁটাহাঁটি করেন, কথা বলেন, এমনকি রান্নাঘরে গিয়ে চা বানানোর মতো কাজও করে ফেলেন। একে বলা হয় ঘুমের ঘোরে হাঁটা। ঘুমের গভীর পর্যায়ে মস্তিষ্ক আংশিক সক্রিয় থাকলে এমন আচরণ দেখা দিতে পারে। তখন মানুষ কী করছে, তা নিজেও বুঝতে পারে না।
চিকিৎসকদের ভাষায়, ঘুমের মারাত্মক ব্যাঘাত হলে কেউ দেয়াল টপকানো, বাইরে বেরিয়ে যাওয়া কিংবা গাছে ওঠার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজও করতে পারেন। পরে ঘুম ভাঙলে সেই ঘটনার কিছুই মনে থাকে না।
কেন হয় এমন সমস্যা?
ঘুম কম হওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, শ্বাসকষ্ট, ভয় বা দুঃস্বপ্ন, কিছু ওষুধের প্রভাব কিংবা মদ্যপানের কারণে এই সমস্যা বাড়তে পারে। যাদের ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকে, তাদের মধ্যেও এমন ঘটনা দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অনিয়মিত ঘুম হলে শরীর ও মনের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়ে। এতে বাড়ে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি।
শুধু হাঁটা নয়, আরও ভয়ঙ্কর কাজও হয়
ঘুমের ঘোরে কেউ কেউ দরজা খুলে বাইরে চলে যান, পোশাক বদলান, খাবার খান বা অদ্ভুত আচরণ করেন। অনেকে আবার সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে আহতও হন। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, ঘুম ভাঙার পর এসবের কিছুই মনে থাকে না।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
চিকিৎসকদের পরামর্শ, সপ্তাহে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যদি ঘুমের মধ্যে হাঁটাহাঁটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ও শান্ত ঘুম শরীরের জন্য খুবই জরুরি। কারণ ভালো ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করে না, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ




