রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্য ও সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ব্যাপক অনিয়ম। এক্ষেত্রে উত্তরা জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন করেছে জঘন্য নজির; সেবার মান নামতে নামতে ঠেকেছে তলানিতে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করে আছেন রোগী ও স্বজনেরা, কিন্তু নেই ডাক্তারের দেখা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালটিতে নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও দক্ষ টেকনিশিয়ান। মারা গেলে হয় না কোনো ময়নাতদন্তও। আর মারা গেলে লাশ আটকে রেখে আদায় করা হয় লাখ লাখ টাকা। স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
এছাড়া, রোগ নির্ণয়ের জন্যও নেই প্যাথোলজিস্ট কিংবা দক্ষ কোনো টেকনিশিয়ান; অথচ চলছে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা। উত্তরা জেনারেল হাসপাতাল তেমনই এক জায়গা, যেখানে ফার্মেসীতে ওষুধের চেয়ে মুদি পণ্যের সংখ্যাই বেশি। হাসপাতাল পরিচালনার নিবন্ধন থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির কাছে নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।
ভেতরে ঢুকতেই হাসপাতালের পরিচালক বনি আমীন শাহীন বলেন, একটা হাসপাতালের অনুমতির জন্য আমরা আবেদন পত্র জমা দিয়েছি কিন্তু এখনও সব কাগজ হাতে পাইনি। কিন্তু রোগী দেখার কাজ শুরু করে দিয়েছি। আপনারা যে জায়গা থেকে এসেছেন সেটা খুব পরিচিত জায়গা।
আইসিইউতে বেলা ১২টা পর্যন্ত দেখা মেলেনি কোনো ডাক্তারের। মুমূর্ষু রোগীর স্বজনরা অপেক্ষা করছেন, কখন আসবে ডাক্তার।
ভুক্তভোগী এক রোগী জানান, আমাদের শুধু রিসিট ধরায় দেয়। রিসিট কেটে বসে থাকলেও ডাক্তারের দেখা মেলে না। সকাল ৯ টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি এখন বেলা ১২ টা বাজে, কোনো ডাক্তার কে দেখতে পেলাম না।
প্যাথলজিতে গিয়ে জানা যায়, বেলা ২ টার পর আসেন সরকারি হাসপাতাল থেকে রেডিওলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান। তাই প্যাথলজিতেই জমা রাখা হচ্ছে বিভিন্ন রকমের স্যাম্পল।
এ সময় টাকার জন্য বাচ্চার চিকিৎসা আটকে রাখার অভিযোগ তোলেন এক ভুক্তভোগী নারী। তিনি বলেন, টাকা না দিলে তারা বাচ্চার ট্রিটমেন্ট বন্ধ করে দিবে।
আরেক ভুক্তভোগী বাচ্চার অভিভাবক জানান, মারা যাওয়ার পর লাশ আটকে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বিল দাবি করে তারা। টাকা না দিলে লাশ আটকে রাখা হয়।
এরকম পরিস্থিতে একটা প্রশ্ন স্বভাবতই চলে আসে, শুধু এমবিবিএস ডিগ্রীধারী চিকিৎসকরাই হাসপাতাল চালাতে যথেষ্ট কিনা। তাহলে এফসিপিএস বা এমডি বা আরও বড় ডিগ্রী অর্জনের প্রয়োজনটাই বা কী? আর এসব বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কবে নজর দিবে সরকার?
আরটিভি/এমআই



