গরমে আরামদায়ক ঘুমের জন্য এসি এখন অনেকের নিত্যসঙ্গী। সারাদিন কাজের পর রাতেও ঠান্ডা পরিবেশে না ঘুমালে যেন ঘুমই আসে না, এমন অভ্যাস গড়ে উঠেছে অনেকের মধ্যে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘদিন চালিয়ে গেলে শরীর ধীরে ধীরে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি
রাতভর শীতাতপ যন্ত্র চালিয়ে ঘুমালে শ্বাসনালিতে শুষ্কতা ও শ্লেষ্মা জমতে পারে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে গলা খুসখুস, হাঁচি-কাশি এবং শরীর ম্যাজম্যাজ করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের সাইনাস বা দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, তাদের জন্য এই অভ্যাস আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
ঠান্ডাজনিত অ্যালার্জি ও শরীর ব্যথা
একটানা ঠান্ডা পরিবেশে থাকলে অনেকের শরীরে অ্যালার্জি দেখা দেয়। চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা হাঁচি না থামার মতো উপসর্গ হতে পারে। পাশাপাশি ঘাড়, পিঠ ও জয়েন্টে ব্যথা বা শক্তভাব দেখা দেওয়া খুব সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যাদের বাতজনিত রোগ আছে।
চোখ ও ত্বকের শুষ্কতা
শীতাতপ যন্ত্রের ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস দীর্ঘ সময় শরীরে আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে চোখে শুষ্কতা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। একইভাবে ত্বকও আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। যার ফলে শুষ্কতা, চুলকানি, র্যাশ এমনকি অকাল বলিরেখাও দেখা দিতে পারে।
শরীরের পানিশূন্যতার ঝুঁকি
রাতে ঘাম না হলেও শীতাতপ যন্ত্রে ঘুমানোর সময় শরীর ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ার কারণে এই অবস্থায় শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।
কীভাবে নিরাপদে ব্যবহার করবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতাতপ যন্ত্র সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৮ ডিগ্রির মধ্যে রাখা, মধ্যরাতে যন্ত্র বন্ধ করে দেওয়া এবং নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার রাখা জরুরি। এতে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায় এবং শরীরও তুলনামূলক সুস্থ থাকে।
তবে এসিতে আরাম পাওয়া যায় ঠিকই, অতিরিক্ত নির্ভরতা শরীরের জন্য নীরব ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সামান্য সতর্কতাই আপনাকে বড় সমস্যার হাত থেকে বাঁচাতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ




