আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি’কে অস্ত্রের মুখে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেছে তালেবান। তবে এই তালেবান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আফগান সেনাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক হাতিয়ার দেয়। বর্তমানে সেই বায়োমেট্রিক হাতিয়ার ব্যবহার করেই আফগান নাগরিকদের উপর কড়া নজর রাখছে তালেবান।
তালেবান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে যুদ্ধাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়েছিল আফগান সেনারা। এতে গত ২০ বছরে দেশটিতে নানামুখী খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছিল ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া বায়োমেট্রিক ব্যবহার করে লাখ লাখ আফগান নাগরিকের হাতের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ বা তর্জনির ছাপ ও ‘আইরিস’ (চোখের মণির চার দিকের অংশ)-এর ছবি তৈরি করা হয়েছিল। এখন সেই সূত্র ধরেই তালেবানরা আফগান নাগরিকদের নাম ও ব্যক্তিগত পরিচিতি সহজেই জানতে পারছেন।
গত ২০ বছর আমেরিকা ও ন্যাটো জোট, আফগান সেনাবাহিনী ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র) বিভিন্ন স্থানের লুকিয়ে থাকা তালেবানদের সম্পর্কে তথ্য জানা গেছে।
আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘জেঙ্গের নিউজ’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তালেবানের আল ইশা ইউনিটের অন্যতম ব্রিগে়ড কমান্ডার নওয়াজউদ্দিন হক্কানি। তিনি স্পষ্টই বলেছেন, কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে না। সেই বায়োমেট্রিক ডেটাবেসের পুরোটাই আমাদের হস্তগত হয়েছে। তাই আফগানদের মধ্যে কারা আফগান ও আমেরিকার সেনাবাহিনী ও ভারতের ‘র’-এর হাতের পুতুল হয়ে উঠেছিল তা জানতে অসুবিধা হবে না। তাদের সকলের উপরেই কড়া নজর রাখা হবে।
আফগান নাগরিকদের যাবতীয় বায়োমেট্রিক তথ্যাদির রেকর্ড রাখার জন্য আমেরিকার সেনাবাহিনী সাত হাজারেরও বেশি স্ক্যানার পাঠিয়েছিল আফগানিস্তানে। এগুলির মধ্যে কতগুলি আমেরিকা ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তানে ফেলে রেখে গিয়েছে তার কোনও তথ্য নেই বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
তালেবানের আল ইশা ইউনিট এবার সেই সব স্ক্যানার আর গত ১২ বছর ধরে রাখা আফগান নাগরিকদের যাবতীয় বায়োমেট্রিক তথ্যাদি ব্যবহার করবে নজরদার করবে।
নওয়াজউদ্দিন হক্কানি আরও বলেছেন, আগফানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলে নেয়া হয়েছে। এখনই নজরদারি শুরু করতে হবে। এক হাজার সদস্যের ব্রিগেডের বেশির ভাগ জঙ্গি এখন বিভিন্ন মাদরাসায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বায়োমেট্রিক তথ্যাদি খতিয়ে জঙ্গিদের খোঁজখবর রাখবে আল ইশা ইউনিট ।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
এফএ