ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

৪৩ বছর ধরে হজ ও ওমরাহ করা কে এই বাংলাদেশি আলেম

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৫, ০৬:৩২ পিএম
আল্লামা আব্দুল হামিদ। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

প্রতিটি মুমিন বান্দার ইবাদতের গভীরে থাকে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা। তার মধ্যে হজ আল্লাহ প্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাই হজের সময় হলেই আল্লাহ প্রেমিকরা ব্যাকুল হয়ে ছুটে যান আল্লাহর ঘর কাবায় এবং প্রিয়নবি (সা.)-এর রওজায়। ব্যাকুল প্রার্থনায় কবুল করিয়ে নেন বারবার শাহী দরবারে হাজিরের সুযোগ।

আল্লাহর দরবারে বারবার হাজির হওয়া এমনি একজন ব্যক্তিত্ব আল্লামা আব্দুল হামিদ, যিনি মধুপুরের পীর হিসেবে খ্যাত। তিনি বাংলাদেশের একজন বরেণ্য আলেম ও আধ্যাত্মিক রাহবার।

দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে নানামুখী দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। হজ ও কাবার প্রেম এই আলেমের অনন্য বৈশিষ্ট্য। এখন পর্যন্ত ২৯ বার হজ এবং অসংখ্যবার ওমরাহ পালন করেছেন আব্দুল হামিদ। জীবনের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত রমজান মাসে নিয়মিত ইতিকাফ করেছেন পবিত্র মক্কা ও মদিনায়।

ঢাকার অদূরে বিক্রমপুরে জন্ম হামিদের। কাবার প্রতি তার মনের এই টান ছাত্রজীবন থেকেই। পড়াশোনা করেছেন বৃহত্তর নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম আল হুসাইনিয়া ওলামা বাজার মাদরাসায়। ১৯৬৮ সালে তাকমিল (মাস্টার্স) পড়ার সময় একদিন মক্কা-মদিনা জিয়ারতের সুযোগ চেয়ে পড়েছিলেন সালাতুল হাজাত। অশ্রুভেজা চোখে দোয়া করেছিলেন মহান রবের দুয়ারে।

আরও পড়ুন

এরই মধ্যে মক্কা-মদিনায় জিয়ারতের সুযোগও পেয়েছেন কয়েকবার। এবারও হাজির হবেন মহান রবের দরবারে। এবার তার ২৯তম হজ। মাদরাসার প্রয়োজনে প্রথমে এ বছর তিনি হজে যাবেন না ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহর এক বান্দার বিশেষ অনুরোধে যেতে হয় তাকে।

মাদরাসা থেকে বিদায় নেওয়ার আগে শিক্ষক ও ছাত্রদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘ছাত্রজীবনে দেখা সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমার এখন বুঝে এসেছে। হাফেজ্জি হুজুর (রহ.) হজ শুরু করার পর আমৃত্যু তিনি প্রতিবছর হজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। আমাকেও হয়তো আল্লাহ প্রতিবছর হজ করার সুযোগ দেবেন।’

বাস্তবেও হয়েছে তাই। এরপর প্রায় প্রতিবছরই আল্লাহ তাকে হজ করার সুযোগ দিয়েছেন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুজুর্গ আলেম মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জি হুজুর (রহ.) যে বছর শেষবারের মতো হজে যান, সে বছর ঢাকায় সাংবাদিকরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘হুজুর! জীবনে আপনি কতবার হজ করেছেন?’ উত্তরে হুজুর বলেন, কতবার হজ করেছি তা তো মনে নেই, তবে চল্লিশের বেশিই হবে।’

হাফেজ্জি হুজুরের রুহানি সন্তান আল্লামা আব্দুল হামিদ এ পর্যন্ত হজ করেছেন ২৯ বার। ওমরাহ করেছেন অসংখ্যবার। কোনো কোনো বছর তিনি দুই থেকে তিনবারও ওমরাহ করে থাকেন। রমজানে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ইতিকাফ করা ছিল তার দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক আমল। তবে বয়সের ভারে এখন প্রতিবছর রমজানে তিনি মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ করতে যেতে পারেন না।

আল্লামা আব্দুল হামিদের কাছে হজের বিশেষ স্মৃতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে আল্লাহ আমাকে প্রথমবার মক্কা-মদিনায় যাওয়ার সুযোগ দেন। ১৯৮৯ সালে আমার শায়খ ও মুর্শিদ শাহ আব্দুল হালিম (ওলামা বাজারের পীর) মারা যান। সে বছর আমি ইমামতির ভিসা নিয়ে দুই বছরের জন্য আমেরিকা যাই। কয়েক মাস পর দেশে ফেরার জন্য মনটা কেমন ছটফট করতে লাগে। এদিকে হজের সময়ও ঘনিয়ে এলো।

‘এ বছর আমি হজে যেতে পারব না ভেবে একেবারে অস্থির হয়ে পড়ি। যোগাযোগ করি আমেরিকায় অবস্থিত পাকিস্তানি এক হজ এজেন্সির সঙ্গে। তারা ভিসার জন্য আমার কাছে এক হাজার ৪০০ ডলার দাবি করে। আমি রাজি হয়ে যাই। কিন্তু কয়েক দিন পর তারা জানায়, এখান থেকে বাংলাদেশিদের ভিসা হবে না। তাদের ভিসা করতে হলে বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে হবে। আমি নাছোড় বান্দা, আমি হজে যাবই। তারা আমাকে বিভিন্নভাবে বোঝাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। আমি আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করছি। দোয়া করছি।’

‘হজের ঠিক দুই দিন আগে ওয়াশিংটন থেকে একজন ফোন করে এজেন্সির লোকদের বলল, মাওলানা আব্দুল হামিদ নামে একজন হুজুর আছেন। বাংলাদেশের ঢাকায় বাড়ি। তাকে বলুন কাগজপত্র যেন এখনই ওয়াশিংটন পাঠিয়ে দেন। এখান থেকে তার ভিসা হবে। এজেন্সির লোকেরা কিছুতেই আমাকে ছাড়বে না। আমিও কিছুতেই মানছি না। শেষে তারা বলল, আপনি কাগজ নিতে চাইলে নিজ দায়িত্বে নেবেন।’

তিনি আরও বলেন, তারা আমাকে বললো ভিসা না হলে আমরা দায়ী থাকব না। আমি তাই মেনে নিলাম। কাগজপত্র তুলে দ্রুত ওয়াশিংটন পাঠিয়ে দিলাম। এক দিনের মধ্যে আমার ভিসা লেগে গেল। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সৌদির উদ্দেশে বিমানে উঠলাম। মুখে আমার হজের পবিত্র তালবিয়া। আর চোখে কৃতজ্ঞতার অশ্রু। কিভাবে সেদিন ভিসা হয়েছিল, কার মাধ্যমে হয়েছিল—আমি আজও তা জানতে পারিনি।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে তাবলিগ জামাতকে জমায়েত না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাই খুরুজের জোড় উপলক্ষে টঙ্গী মাঠে যে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানান তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের (শুরায়ী নেজাম) মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খুরুজের জোড়সহ কোনো ধরনের সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমাদের মুরুব্বিরা সবসময় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।  আরও পড়ুন একযোগে এনবিআরের ১৭ কমিশনারকে বদলি হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, আগামী ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য খুরুজের জোড়ে যারা অংশ নিতেন, অর্থাৎ যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা ও তিন চিল্লার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদেরকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠে জমায়েত না হয়ে নিজ নিজ জেলা ও এলাকা থেকে বের হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।  ‘যারা পাঁচ দিনের জোর থেকে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছিলেন, তাদেরকেও ইজতেমা মাঠে এখন না এসে ওয়াক্ত পুরা করে আসার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। টঙ্গী মাঠে কোনো ধরনের সমাবেশ হচ্ছে না।’ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানান হাবিবুল্লাহ রায়হান। আরটিভি/এসআর
নির্বাচনের আগে হচ্ছে না ইজতেমা, খুলে ফেলা হচ্ছে প্যান্ডেল
মুসলিমদের জন্য নতুন বছরে সূচনা যেমন হবে
আজ ৩১ ডিসেম্বর। রাত ১২টায়, সারা পৃথিবী জুড়ে শুরু হবে এক নতুন বছরের আগমন। পটকা আর তারায় ঝলমলিয়ে উঠবে আকাশ, রঙিন আলোয় সেজে উঠবে পৃথিবী, মানুষ হবে উচ্ছ্বসিত, গাইবে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’। নতুন বছর মানেই সময়ের একটি নতুন অধ্যায়। ক্যালেন্ডারের পাতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে একজন মুসলিমের জীবনেও বদলের আহ্বান আসে। কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে।   এই পরিবর্তন উৎসব, উচ্ছৃঙ্খলতা কিংবা আত্মভোলা আনন্দে নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, আত্মসমালোচনা ও আল্লাহমুখী নতুন যাত্রায় শুরু করা উচিত। কারণ মুসলিমের কাছে সময় নিছক গণনার বিষয় নয়; সময় আল্লাহর আমানত, যার প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। একজন মুসলিমের নতুন বছরের সূচনা হওয়া উচিত ‘মুহাসাবা’ বা আত্মসমালোচনার মাধ্যমে। গত বছরে কী করেছি, কী করতে পারিনি, কোথায় গাফিলতি হয়েছে, নিজের কাছে এসব প্রশ্ন করা জরুরি। নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, যিকির ও চরিত্র গঠনে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, এ হিসাবই নতুন বছরের প্রথম পাঠ হওয়া উচিত। নববর্ষ উদ্‌যাপনের মাধ্যমে অন্য ধর্মের সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা মুসলিমদের জন্য বৈধ নয় , কেননা ইসলাম অন্য ধর্মের অনুসরণকে বর্জন করতে উৎসাহিত করেছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,عن ابنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قال: قال رسولُ الله صلَّى الله عليه وسلم مَن تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْহজরত ইবনে উমর রা.থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই একজন বলে গণ্য হবে।(আবু দাউদ, হাদিস: ৪০৩১) এছাড়া, আরও একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَاরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বিজাতির রীতি অনুসরণ করবে, সে আমাদের কেউ নয়। (ত্বাবারানী, ২১৯৪)। এই হাদিসগুলো মাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানা যায় যে, মুসলমানদের উচিত অন্য জাতির ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুসরণ না করা, কারণ এতে ইসলামের সংগতিপূর্ণ শিষ্টাচার ভূলুণ্ঠিত হয়। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তাই নতুন বছরের সূচনা হওয়া উচিত তওবার মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাওবা গ্রহণকারীকে ভালোবাসেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)। অতীতের গুনাহ থেকে ফিরে এসে নতুন বছরের প্রথম দিন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে। একজন মুসলিমের নতুন বছরের সূচনায় থাকতে হবে নিয়মিত ইবাদতের অঙ্গীকার। নামাজে গাফিলতি, কোরআন থেকে দূরে থাকা কিংবা হারাম থেকে বাঁচতে অবহেলা, এসব ত্যাগ করার দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে। নতুন বছর হোক ফরজের পাশাপাশি নফল ইবাদতে যত্নবান হওয়ার সুযোগ। নতুন বছরে পরিবার, প্রতিবেশী, সহকর্মী, সবার সঙ্গে উত্তম আচরণ, সত্যবাদিতা ও আমানতদারির চর্চার প্রতিজ্ঞা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম সে, যার চরিত্র উত্তম। (বুখারি)। দুনিয়া ও আখিরাতের ভারসাম্য রক্ষার প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে একজন মুসলিমের নতুন বছরের সূচনা হওয়া উচিত। দুনিয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে, তবে আখিরাতকে ভুলা যাবে না। সময়ের সঠিক ব্যবহার, হালাল রিজিকের চেষ্টা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানানোই মুসলিম জীবনের সার্থকতা। সবশেষে বলা যায়, নতুন বছর একজন মুসলিমের কাছে উদযাপনের নয়, বরং নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ। যে বছর আল্লাহর নৈকট্য বাড়ায়, গুনাহ কমায় এবং চরিত্রকে সুন্দর করে সেই বছরই একজন মুমিনের জন্য প্রকৃত নতুন বছর। আরটিভি/এমএ
মুসলিমদের জন্য নতুন বছরে সূচনা যেমন হবে
নতুন বছরের শুরুতে যে দোয়া করবেন
ইংরেজি নববর্ষ বা ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপনের নামে বর্তমান সমাজে বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে বছর বদলের এই মুহূর্তটি বিনোদনের জন্য নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, তওবা এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক বিশেষ সময়। ফুক্বাহায়ে কেরাম মনে করেন, মুসলিমের জন্য ইংরেজি নববর্ষ পালন কোনো কল্যাণকর বিষয় নয়। বিশেষ করে খ্রিষ্টানদের অনুকরণে গড়ে ওঠা নতুন বছর বরণের পদ্ধতি মুসলমানদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির অংশ নয়; বরং তা স্পষ্ট অপসংস্কৃতি। ইংরেজি বছরের শুরুতে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ পালন করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। এ রাতে বর্ষবরণের নামে যেসব অনৈতিক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে তরুণ সমাজ জড়িয়ে পড়ে, তা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ এবং শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন। আরও পড়ুন মৃত ব্যক্তির জন্য যে দোয়া পড়বেন সুতরাং, বছরের শুরুতে ইমান ও ইবাদতের সঙ্গে এই মুহূর্তকে উদযাপন করা একজন মুসলিমের জন্য শ্রেষ্ঠ উপায়। হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলো পড়া, নিজেকে শয়তানের প্রলোভন থেকে রক্ষা করা, আল্লাহর রহমত কামনা করা—এই সমস্ত কর্মকাণ্ড নতুন বছরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বরকতের মাধ্যমে শুরু করার উপযুক্ত পথ। নিজের দুই জীবনের ক্ষতি না করে বছরের শুরুতে আল্লাহর কাছে রহমত কামনা করা যেতে পারে। হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়া যেতে পারে। আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম বলেন—আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিরা নতুন বছরের আগমনে কিংবা নতুন মাসের শুরুতে এই দোয়া পড়তে অভ্যস্ত ছিলেন। দোয়াটি হলো— নতুন বছরের শুরুতে যে দোয়া করবেন اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ، وَالْإِيمَانِ، وَالسَّلَامَةِ، وَالْإِسْلَامِ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালামাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি। অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের ইমান ও ইসলামকে নিরাপদ করুন। আমাদের সুরক্ষা দিন। দয়াময় রহমানের কল্যাণ দান করুন। শয়তানের কুমন্ত্রণার মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করুন। (আল-মুজাম আল-আওসাত, হাদিস : ০৬/২২১) আরেকটি বর্ণনায় কিছুটা ভিন্নতায় এসেছে। সেখানে দোয়ার শেষের দুই অংশ আগে-পরে বর্ণিত হয়েছে। তখন দোয়াটি এভাবে হয়— اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ ، وَالإِيمَانِ ، وَالسَّلامَةِ ، وَالإِسْلامِ ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালামাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি। অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের ইমান ও ইসলামকে নিরাপদ করুন। আমাদের সুরক্ষা দিন। শয়তানের কুমন্ত্রণার মোকাবিলায় আমাদের সাহায্য করুন। দয়াময় রহমানের কল্যাণ দান করুন। (মু’জামুস সাহাবাহ : ০৩/৫৪৩; আল-ইসাবাহ : ০৬/৪০৭-৪০৮) আরটিভি/এফএ
নতুন বছরের শুরুতে যে দোয়া করবেন
জানাজার নামাজ পড়লে আল্লাহ যা দেন
জানাজার নামাজের গুরুত্ব ইসলামে অনেক বেশি। মৃতের জানাজা, কাফন-দাফন ইত্যাদি জীবিত মুসলমানদের ওপর মৃতদের অধিকার এবং অবশ্য পালনীয় ফরজ নির্দেশ। কোনো মুসলমান মারা গেলে তার জানাজার নামাজ আদায় করা ফরজে কিফায়া। অর্থাৎ কোনো মুসলমান মারা গেলে মহল্লার অল্পসংখ্যক লোক জানাজার নামাজ আদায় করলে বাকিরা দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবে। এ ছাড়া একজন মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানের পাঁচটি হক আছে। এর মধ্যে মৃত ব্যক্তির জানাজায় অংশ নেওয়াও একটি হক। জানাজা আদায়ের অপরিসীম সওয়াব সহিহ বুখারিতে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মৃতের জন্য সালাত আদায় করা পর্যন্ত জানাজায় উপস্থিত থাকবে, তার জন্য এক কিরাত, আর যে ব্যক্তি মৃতের দাফন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে তার জন্য দুই কিরাত। জিজ্ঞাসা করা হলো দুই কিরাত কী? তিনি বললেন, দুটি বিশাল পর্বত সমতুল্য (সওয়াব)।’ (সহিহ বুখারি: ১৩২৫) এ এক অমূল্য পুরস্কার; একটি জানাজায় অংশ নিয়ে মানুষ অর্জন করতে পারে বিশাল পর্বতের সমান নেকি! তবুও আজ অনেকেই এই সহজ অথচ মহান ইবাদত থেকে দূরে সরে গেছেন। আরও পড়ুন মৃত ব্যক্তির জন্য যে দোয়া পড়বেন জানাজার নামাজ মৃতের অধিকার আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক মুসলিমের ওপর অন্য মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে— এক. যখন কোনো মুসলমানের সঙ্গে দেখা হয় তখন সালাম দেবে। দুই. কোনো মুসলমান ডাকলে সাড়া দেবে। তিন. সে তোমার কাছে সত্ পরামর্শ চাইলে তুমি তাকে সত্ পরামর্শ দেবে। চার. কোনো মুসলমানের হাঁচি এলে হাঁচিদাতা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলবে। পাঁচ. কোনো মুসলমান অসুস্থ হলে তার সেবা-শুশ্রূষা করবে। ছয়. কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তার জানাজায় শরিক হবে।” (মুসলিম, হাদিস : ২১৬২) আরটিভি/একে
জানাজার নামাজ পড়লে আল্লাহ যা দেন
মৃত ব্যক্তির জন্য যে দোয়া পড়বেন
মৃত্যুর পর মানুষের আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তাই শোকের সময় উচ্চস্বরে বিলাপ কিংবা অতিরিক্ত কান্নাকাটি কোনো উপকার আনে না। ইসলামের দৃষ্টিতে এই সময়ে মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত কামনা করা এবং তার ভালো গুণাবলী স্মরণ করাই শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের মৃতদের ভালো কাজের আলোচনা করো এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকো। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০০) অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করা এবং তাঁর ইতিবাচক দিকগুলো স্মরণ করা উত্তম। এছাড়াও, কারও মৃত্যুর পর তার নিকট উপস্থিত হলে দোয়া করার নির্দেশনা পাওয়া যায়। হজরত উম্মে সালামাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, তোমরা রোগী বা মৃতের নিকট উপস্থিত হলে উত্তম কথা বলবে, কারণ ফেরেশতারা তোমাদের কথার ওপর আমিন বলেন। এই সময়ের সুন্নত দোয়া হলো, আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়া লাহু ওয়া আকিবনি মিনহু উকবান হাসানাহ। অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ও তাকে ক্ষমা করুন এবং তার বিনিময়ে উত্তম প্রতিদান দান করুন। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৪৪৭) পবিত্র কোরআনে পূর্ববর্তী নবীগণের দোয়ায় মানুষের জন্য নির্দেশনা মেলে। যেমন, পবিত্র কোরআনেও পূর্ববর্তী নবীগণের দোয়ায় মানুষের জন্য দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। যেমন- হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া: ‘রব্বানাগফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়া ওয়ালিল মুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’ অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! হিসাবের দিনে আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন। (সুরা ইবরাহিম: ৪১) হজরত নুহ (আ.)-এর দোয়া: ‘রব্বিগফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়া ওয়ালিমান দাখালা বাইতিয়া মুমিনাও-ওয়ালিল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত।’ অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে ইমানসহ আমার ঘরে প্রবেশ করেছে তাকে এবং সব মুমিন পুরুষ-নারীকে ক্ষমা করুন। (সুরা নুহ: ২৮) আরও পড়ুন জানাজার নামাজের ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ বিধি-নিষেধ সুতরাং, শোকের সময়ে অতিরিক্ত কান্নাকাটি নয়, বরং মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করাই ইসলামের শুদ্ধ শিক্ষা এবং সর্বোৎকৃষ্ট করণীয়। এই কাজ মৃতের আত্মার শান্তি এবং পরিবারের জন্য নেক ইবাদতের অংশ হিসেবে গণ্য হয়। আরটিভি/এসকে
মৃত ব্যক্তির জন্য যে দোয়া পড়বেন
আরও পড়ুন
ডা. তাহেরের চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ ৫ গুণ বেশি
বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে
মালয়েশিয়ায় ঝটিকা অভিযান, ২৭ বাংলাদেশিসহ আটক ১৩৩
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শিল্পকলার সব অনুষ্ঠান তিন দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা