ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

‘হেলমেটে হাত বুলালে মনে হয়, ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:১৬ পিএম
ছবি: বাসস

এই হেলমেটে আমার ছেলের মাথার গন্ধ আছে। এটাতে হাত বুলানোর সময় মনে হয়, আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।

রাজধানীর হাজারীবাগের বারোইখালি এলাকার ১৩ নং রোডের বাসায় আলাপকালে গণমাধ্যমে এমন কথা জানান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারা এলাকায় পুলিশের গুলিতে শহিদ রমিজ উদ্দিন আহমদের মা রাবেয়া সুলতানা (৪৫)।

রাবেয়া সুলতানা আঁচল দিয়ে টি-টেবিলে থাকা হেলমেট মুছতে মুছতে বলেন, ‘এটি আমার ছেলের। এই হেলমেটে ছেলের মাথার গন্ধ আছে। এটাতে হাত বুলানোর সময় মনে হয়, আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।’

দেয়ালে ছেলের ছবি পরম আদরে মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘ছেলে কি আর ফিরবে না? চলেই গেল! আন্দোলনে যাওয়ার সময় একটুও বাধা দিইনি ওকে।

কেন বাধা দিলাম না, জানি না। বন্ধু প্রান্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় শুধু বলল, আম্মু, আমরা আন্দোলনে যাচ্ছি। সেই যে গেল, আর জীবিত ফিরে এলো না।’

শহিদ রমিজ উদ্দিন আহমদ (২১) ড্যাফোডিল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। রমিজ উদ্দিন ২০০৩ সালের ২৪ মে জন্ম গ্রহণ করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে রমিজ ছিলেন ছোট। বড় ছেলে রেদওয়ান আহম্মেদ রঙ্গন (২২) শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী।

রমিজের বাবা এ কে এম রকিবুল আহম্মেদ (৪৮) আগে ব্যবসা করতেন। গত কয়েক মাস হল তা বন্ধ।

শহিদ রমিজের পিতা রকিবুল আহম্মেদ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে দেশজুড়ে তখন শেখ হাসিনার সরকার বিরোধী বিক্ষোভ তুঙ্গে। ছাত্র-জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেমেছে রাজধানীর রাস্তায়। স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত রাজপথ।

তিনি জানান, বাসা থেকে ৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে বন্ধু শফিকুল ইসলাম প্রান্তকে নিয়ে আন্দোলনে যোগ দিতে বেরিয়েছিলেন রমিজ উদ্দিন। যাওয়ার সময় মা রাবেয়া সুলতানাকে বলেছিলেন, আম্মু, আমরা আন্দোলনে যাচ্ছি। ছেলেকে বাধা না দিলেও অজানা আশঙ্কায় ঠিকই কাঁপছিল মায়ের বুক।

বিকেলে শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ-সহিংসতার খবর শুনে ওর মা ছেলেকে ফোনও করেছিলো জানিয়ে রকিবুল আহম্মেদ বলেন, রমিজ বলেছিল, গন্ডগোল চলছে, পরে কথা বলছি। কিন্তু কে জানত, সেটাই হবে মায়ের সঙ্গে তার শেষ কথা! বিকেলে কারওয়ান বাজারে পুলিশ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ডান চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রমিজ।

ছাত্র-জনতার বিজয়ে পতন হয়েছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের। চারদিকে এখন তরুণদের মধ্যে নতুন দেশ গড়ার প্রত্যয়। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও রমিজের অভাব এখনও ভুলতে পারছেন না মা ও বাবা। মোবাইল ফোনে থাকা ছেলের ছবি আর বিভিন্ন স্মৃতি আঁকড়ে এখনও কাঁদছেন তিনি। ঘরের দেয়ালে থাকা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে প্রায়ই বিড়বিড় করে কথা বলেন ছেলের সঙ্গে।

সম্প্রতি বারোইখালি রমিজদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, সুনসান নীরবতা। দরজা খুলে দেন রমিজের বন্ধু প্রান্ত। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রমিজ ও প্রান্ত ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে বেড়ে উঠেছে। প্রান্ত থাকেও রমিজদের বাসায়। রমিজের মাকে সে ‘মা’ বলেই ডাকে।

বন্ধুর স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে কান্না শুরু করে প্রান্ত। দীর্ঘ সময় কোন কথা বলতে পারে না। কিছু সময় পরে জানায়, ৪ আগস্ট রূপ, আকাশ, মাহিনসহ তারা চার বন্ধু একসঙ্গে আন্দোলনে গিয়েছিলেন। তিন বন্ধু বেঁচে ফিরলেও বুলেট বাঁচতে দেয়নি রমিজকে। এটা এখনও কুরে কুরে খাচ্ছে ওর বন্ধুদের।

তিনি বলেন, রমিজের গুলি লাগে ৫ টা ১৯ মিনিটে। এর আগে পুলিশ আন্দোলনকারিদের লক্ষ্য করে গুলি করতে শুরু করলে আমরাই সবাই যে যার মত করে দৌড় দেই। পরে ৫ টা ১৬ মিনিটে তার সাথে কথা বলে আমরা দেখা করি এবং এক সাথে পানি খাই। পানি খাওয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ওর চোখে গুলি লাগে এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সেখান থেকে পদ্মা ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা খারাপ দেখে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ৬ টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়া ৪ আগস্ট রাতেই আজিমপুর কবরস্থানে রমিজের লাশ দাফন করা হয়।

রমিজের পিতা রকিবুল আহম্মেদ জানান, মৃত্যুর আগের দিন (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাইরে থেকে ঘুরে এসে রমিজ হেলমেটটি ওই টেবিলে রেখেছিলেন। এটিতে এখন কাউকে হাত দিতে দেন না তাঁর মা। সরাতেও দেন না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই ছেলের মধ্যে রমিজ ছিল ছোট। বড় ছেলে রেদওয়ান আহম্মেদ রঙ্গন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। তবে দুই ভাইয়ের মধ্যে খুব মিল ছিল। তিনি বাসায় না থাকলে রমিজ বড় ভাইয়ের গোসল-খাওয়ানো থেকে শুরু করে সব কাজ করত। মোটরসাইকেল রমিজের খুব পছন্দ ছিল।

আগামী মাসেই নতুন একটি বাইক কেনার কথা ছিল ওর।’

রমিজের বন্ধু প্রান্ত জানান, আমার হাতের ওপরই মৃত্যু হয়েছে রমিজের। ঘটনার দিন একটি ফেসবুক গ্রুপে রমিজ অন্য বন্ধুদের আহ্বান জানিয়েছিল শাহবাগে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার জন্য। তবে গ্রুপের অন্যরা জানান, রাস্তার পরিস্থিতি ভালো না। একসঙ্গে লালবাগ থেকে গেলে রাস্তায় পুলিশ আটকাতে পারে। বরং যে যার মতো শাহবাগে যেতে হবে। এর পরই রমিজ, প্রান্ত, মাহিন ও আকাশ হেঁটে শাহবাগে গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন।

তিনি বলেন, দুপুরে শাহবাগ থেকে শিক্ষার্থীদের একটি বড় মিছিল বাংলামটর হয়ে ফার্মগেটের দিকে যাচ্ছিল। রমিজসহ তারা চার বন্ধু মিছিলের প্রথম দিকেই ছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে ফার্মগেটে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের মিছিলে হামলা চালায়। গুলি ছোঁড়া হয় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে। পরে শিক্ষার্থীরা পিছু হটে কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারা মোড়ে অবস্থান নেন। গুলি লেগে ওর ডান চোখের মনি বের হয়ে গিয়েছিল। ওকে ধরাধরি করে নিয়ে যাই কাঁঠালবাগানের পদ্মা হাসপাতালে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের লোকজন হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেয়। কিন্তু হাসপাতালের স্টাফরা আমাদের তিন তলার একটি কক্ষে লুকিয়ে থাকতে বলেন। প্রায় ১০ মিনিট ঘরে আটকা ছিলাম। পরে রমিজের লাশ নিয়ে যাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

বন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে করতে প্রান্তও কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘রমিজ আমার শুধু বন্ধু না, ভাই। ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। ওর স্মৃতি ভুলতে পারছি না।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ৪ আগস্ট রাজধানীর কারাওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারা এলাকায় পুলিশের গুলিতে শহিদ হন শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন আহমদ। এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ২২৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করে রমিজের বাবা রকিবুল আহমদ।-বাসস।

আরটিভি/এসএপি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘মার্চ ফর ইউনিটি’তে অংশগ্রহণকারীদের জন্য জাতীয় নাগরিক কমিটির ৭ নির্দেশনা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে আয়োজিত ‘মার্চ ফর ইউনিটি’তে অংশ নিতে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জমায়েত হচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপ্লবী ছাত্র-জনতা। এই সমাবেশ সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে জাতীয় নাগরিক কমিটি অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। সকালে জাতীয় নাগরিক কমিটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই নির্দেশনাগুলো প্রকাশ করা হয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশনাগুলো হলো- ১. ব্যানার প্রদর্শন না করা প্রতিটি থানা ইউনিটকে শহীদ মিনারে পৌঁছে কোনো ব্যানার প্রদর্শন করবে না। ২. স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশনা অনুসরণ প্রোগ্রামে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকদের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। ৩. একত্রে অবস্থান শহীদ মিনারে পৌঁছে প্রতিটি থানার সদস্যদের একসঙ্গে থাকতে হবে। ৪. মাইকের নির্দেশনা মেনে চলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মাইকের মাধ্যমে প্রচারিত নির্দেশনাগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। ৫. বাগ্বিতণ্ডা পরিহার প্রোগ্রামে উপস্থিত অন্য থানা সদস্য বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কোনো ধরনের বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানো যাবে না। ৬. নারী সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি থানার নারী সদস্যদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ৭. মঞ্চে বা মিডিয়ায় আলাদা বক্তব্য এড়ানো প্রোগ্রামের চলাকালীন মঞ্চের সামনে যাওয়া বা মিডিয়ায় আলাদাভাবে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আজ শহীদ মিনারে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে গতকাল রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিপুল উৎসাহের মধ্যেও জাতীয় নাগরিক কমিটি নির্দেশনাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
‘মার্চ ফর ইউনিটি’তে অংশগ্রহণকারীদের জন্য জাতীয় নাগরিক কমিটির ৭ নির্দেশনা
থার্টিফার্স্ট   / ঢাকায় অতিরিক্ত ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন, থাকবেন ম্যাজিস্ট্রেট
থার্টিফার্স্ট ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এবং রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় মোতায়েন করা হবে অতিরিক্ত ৩ হাজার পুলিশ ও থাকবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট বলে জানিয়েছেন, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে থার্টিফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থাসংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত পুলিশ মোতায়েন থাকে। প্রত্যেক ফাঁড়ি থেকে রাতে কমপক্ষে দুটি পেট্রোল টিম থাকে, থানা থেকে চারটি-পাঁচটি টিম থাকে। এটা আমাদের রেগুলার ডিপ্লয়মেন্ট। আজকে শুধু থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে এর বাইরে তিন হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা মনে করছি এটা যথেষ্ট। আমরা কিছু পয়েন্টকে টার্গেট করেছি। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলশান, ৩০০ ফিট, উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকায় বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। আমাদের পুলিশ ফোর্সের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেটরা থাকবেন। ওনারা যেকোনো জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চালালে আমাদের ফোর্স তাদের সহযোগিতা করবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আতশবাজি ফুটিয়ে ইংরেজি নববর্ষকে বরণ করা হয়, বাংলাদেশে পরিবেশের এত সমস্যা কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থার্টিফার্স্ট উদযাপিত হয়। বেশিরভাগ দেশে এটি নববর্ষ, আমাদের দেশে নয়। দ্বিতীয়ত, অন্যান্য দেশে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন করা হয়, পুরো শহরজুড়ে আতশবাজি ফোটানো হয় না। আমরাও এ বছর ঢাকা মহানগরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে থার্টিফার্স্ট ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠান আয়োজন করার চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু এই বছর আমরা সেটি পারিনি। আশা করি আগামী বছর আমরা সেটি আয়োজন করব। পুলিশের মনোবল ফিরে এসেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের মনোবলের যে ঘাটতি ছিল, এটি আমরা উৎরিয়ে উঠেছি। আমাদের এখনো কোনো সমস্যা নেই। আমরা যে কোমায় যাওয়ার অবস্থায় গিয়েছিলাম, সেটি থেকে ফিরে এসেছি। আমাদের অফিসারদের মনোবল এখন অনেক ভালো। থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কোনো থ্রেট আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো থ্রেট নেই। এর আগে, ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, থার্টিফার্স্ট নাইটে যাতে আতশবাজি, পটকা, ক্লাস্টার বোমা, রকেট বোমা না ফোটানো হয় সেজন্য গত এক সপ্তাহ ডিএমপি রাজধানীতে অভিযান পরিচালনা করে ১২৭ কেজি আতশবাজি, পটকা, ক্লাস্টার বোমা, রকেট বোমা জব্দ করেছি। এ বিষয়ে ৫টি মামলা হয়েছে এবং ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তিনি নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, শুধু পুলিশ বা পরিবেশ অধিদপ্তর দিয়ে শব্দ দূষণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা সবার সহযোগিতা চাই। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) ফারুক আহমেদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) খোন্দকার নজমুল হাসান। আরটিভি/এমএ/এস  
ঢাকায় অতিরিক্ত ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন, থাকবেন ম্যাজিস্ট্রেট
আতশবাজি করলেই এক মাসের জেল: অতিরিক্ত সচিব
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কুমার বিশ্বাস বলেছেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে আতশবাজি ফোটালে এক মাসের জেল ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে পর্যাপ্ত সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট নামানো হচ্ছে জানিয়ে তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, দিনে এবং রাতে অভিযান চালানো হবে। আতশবাজি ও পটকা ফোটাতে দেয়া হবে না। আতশবাজি ফোটালে এক মাসের জেল ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। শব্দ দূষণে হৃদরোগসহ অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আজকে কোনোভাবেই শব্দ হয় এমন কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না।‌ এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। মানুষও মারা যায়। আতশবাজি ও পটকা বৈধভাবে আমদানি হয় না, অবৈধভাবে আনা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।  একই অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, গত ১ সপ্তাহে ১৭২ কেজি আতশবাজি ও পটকা জব্দ করা হয়েছে। এসময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচ জনকে।‌ পুলিশ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। আগামী বছর নির্দিষ্ট স্থানে আতশবাজির অনুমতি দেয়ার পরিকল্পনা আছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বে আতশবাজি একটি নির্দিষ্ট স্থানে উদযাপন করা হয়। অথচ বাংলাদেশ যত্রতত্র হয়। সেই কারণেই এবার বন্ধ করা হয়েছে। ঢাকাবাসীকে তিনি অনুরোধ করে বলেন, আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকুন। যত্রতত্র হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকুন। সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কোনো হুমকি নেই।
আতশবাজি করলেই এক মাসের জেল: অতিরিক্ত সচিব
বছরের প্রথম দিন যেসব এলাকায় ১১ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না
রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় আগামীকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১১ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি কাজের জন্য বুধবার (১ জানুয়ারি) গ্যাস পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ১১ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এলাকাগুলো হলো—পশ্চিম রাজাবাজার, ইন্দিরারোড, শুক্রবাদ। একই সময় আশপাশের এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছে। আরটিভি/এস
বছরের প্রথম দিন যেসব এলাকায় ১১ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না
‘প্রোক্লেমেশন অব জুলাই রেভল্যুশন’ ঘিরে ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশনা
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি ‘প্রোক্লেমেশন অব জুলাই রেভল্যুশন’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ট্রাফিক নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।  সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। এতে বলা হয়েছে, গাবতলী হয়ে ঢাকা মহানগরে প্রবেশ করা যানবাহনগুলো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আগারগাঁও এলাকার পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে পার্কিং করবে। সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী প্রবেশপথ দিয়ে আসা যানবাহনগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় পার্কিং করবে। আবদুল্লাহপুর হয়ে প্রবেশ করা যানবাহনগুলো ৩০০ ফিট এলাকায় পার্কিং করবে। ঢাকা মহানগর এলাকা যানজটমুক্ত রাখতে ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে অনুষ্ঠানে আসা সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে ডিএমপি। আরটিভি/এসএপি
‘প্রোক্লেমেশন অব জুলাই রেভল্যুশন’ ঘিরে ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশনা
আরও পড়ুন
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চোখ হারানো সাইদুল পেলেন জীবিকার সহায়তা
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ‘নিহত’ নয়নের ফিরে আসা নিয়ে যা জানা গেল
উচ্চমাত্রায় হর্ন বাজালে ও হেলমেট না পরলে ব্যবস্থা
আন্দোলনে নিহত পুলিশ সদস্যদের তালিকা প্রকাশ