পটুয়াখালীর ব্যবসায়ী শিবু লাল দাস ও তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে অপহরণের ঘটনায় পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান পারভেজসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, শামিম আহমেদ, আক্তারুজ্জামান সুমন, মো. আতিকুর রহমান পারভেজ, মো. মিজানুর রহমান সাবু গাজী, মো. বিল্লাল ও সাব্বির হোসেন জুম্মান। তারা সবাই পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ভুক্তভোগীর জবানবন্দির ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আলামতসহ প্রাথমিকভাবে ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে বহন করা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার মূল হোতা মো. মামুন ওরফে ল্যাংড়া মামুনসহ ৩ পরিকল্পনাকারী ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে পলাতক থাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ডিবি টিম ও পটুয়াখালী জেলার একাধিক টিম দেশের বিভিন্ন জায়গায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অপহরণের কাজে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল রাতে শহরের নিজ বাসায় যাওয়ার সময় গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর-শাখারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের যেকোনো স্থান থেকে শিবু লাল দাস ও তার গাড়ির চালক অপহরণ হন। পরে রাত ১২টা ২ মিনিট ও ১টা ৫৯ মিনিটের সময় ভুক্তভোগীর মোবাইল থেকে তার স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জানায়, ভুক্তভোগী তাদের নিকট আটক আছে। গত ১২ এপ্রিল দুপুর ২টার মধ্যে ২০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দিলে ভুক্তভোগীকে তারা জীবিত তাদের কাছে ফেরত দেবে, নতুবা তাদের মরদেহ পাবেন।
এরপর পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহর নেতৃত্বে জেলা পুলিশের সব টিম অভিযান পরিচালনা করে শিবু লাল দাসের গাড়িটি একটি পেট্রোল পাম্প থেকে উদ্ধার করে। পরে ২৪ ঘণ্টা পর শহরের এসপি কমপ্লেক্স শপিংমলের আন্ডারগ্রাউন্ড, ল্যাংড়া মামুনের গোডাউন থেকে জীবিত অবস্থায় শিবু লাল দাস ও তার ড্রাইভার মিরাজকে উদ্ধার করা হয়।