টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে লেবু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর লাশ থানায় রেখেই তার দুই ছেলে-মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ছেলে মৃদুল এসএসসি ও মেয়ে শিউলী আক্তার ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেন। এর আগে সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক নারীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাকেসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে ফাঁড়িতেই তার মৃত্যু হয়। তাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ তোলেন পরিবার। তবে পুলিশের দাবি, তিনি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত ব্যক্তি বাঁশতৈল গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে লেবু মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় সাত বছর আগে সখিনা বেগম নামে এক নারীর সঙ্গে বাঁশতৈল গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মফিজুর রহমানের (৪৭) বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে একই গ্রামে আলাদা বাড়ি তৈরি করে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। মেয়েদের বিয়ে হওয়ায় প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে নিয়ে ওই বড়িতে থাকতেন। গত রোববার রাতে সখিনা বাড়িতে একা ছিলেন। পরে গত সোমবার সকালে তিনি ঘুম থেকে না ওঠায় পাশের বাড়ির লোকজন খোঁজ করতে গিয়ে, তার মরদেহ দেখতে পান। এ খবর পেয়ে মির্জাপুরের বাঁশতৈল ফাঁড়ির পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
পরিবারের দাবি- সখিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সখিনার সাবেক স্বামী মফিজুর ও একই গ্রামের বাসিন্দা লেবু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তারের পর হাজতখানায় রাখা হয়। তাদের মধ্যে লেবু মিয়ার মৃত্যু হয়।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের শাস্তির দাবিতে গোড়াই-সখীপুর সড়কের বাঁশতৈল বাজারে টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে স্থানীয়রা।
মৃত লেবু মিয়ার স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীকে বিনা অপরাধে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। রাতে তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আমার ছেলে-মেয়র পরীক্ষা ছিল। ওরা থানায় লাশ রেখে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী বলেন, বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম তাকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারপিট করে। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।
মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, নিহত লেবু মিয়াকে টয়লেটের ভেন্টিলেটরে থাকা রডের সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। আলামত হিসেবে রশি জব্দ করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, সখিনা বেগমের সঙ্গে লেবু মিয়ার পরকীয়া ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লোকলজ্জার ভয়ে লেবু মিয়া ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নেবে।