প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটে টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরের যমুনা পূর্ব পাড়ের মানুষদের। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় তীব্র ভাঙন। এবার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গেল কয়েকদিনের ভাঙনে ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও ফসলের জমি হারিয়ে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে রাস্তার পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে জিও ব্যাগ ফেলাসহ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি করে আসছে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষেরা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হঠাৎ করে গত কয়েকদিন ধরে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূঞাপুরের পাটিতাপাড়া এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গেল কয়েকদিনে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে শত শত পরিবারের। হুমকিতে রয়েছে স্কুলসহ বহু স্থাপনা। শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.বেলাল হোসেন।
এদিকে, ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় কয়েক দফা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি স্থায়ী একটি গাইড বাঁধের।
পাটিতাপাড়া ভাঙনকবলিত এলাকার নাসির উদ্দিন, সেকাম শেখ, সিরাজুল ইসলাম, সজলসহ অনেকে জানান, যমুনার পানি বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে তাদের এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে অনেক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তাদের প্রায় ৫০ বছর আগের কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙন ঠেকাতে কোনো কাজ না করায় প্রতিদিন ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন জানান, ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙনকবলিতদের নগদ অর্থসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। অসহায় গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা হবে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, কিছুদিন আগে আমরা যমুনার পূর্ব পাড়ে ভাঙন রোধে কয়েক দফায় জিও ব্যাগ ফেলেছি। সেটা এখন অব্যাহত রয়েছে। স্থায়ী বাঁধের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। অনুমতি পেলে এর কাজ শুরু করা হবে।