ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
টাঙ্গাইলে লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন
টাঙ্গাইলে লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ লাইনচ্যুত, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ ট্রেন চলাচল বন্ধ 
‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ লাইনচ্যুত, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ ট্রেন চলাচল বন্ধ 
মহাসড়কের পাশে পড়ে আছে সরকারি ওষুধ, নেই মেয়াদ
মহাসড়কের পাশে পড়ে আছে সরকারি ওষুধ, নেই মেয়াদ
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের দিন মেয়ের সঙ্গে কথা হয় বাবার
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের দিন মেয়ের সঙ্গে কথা হয় বাবার
মাদরাসায় ছাত্রদের সঙ্গে ‘অনৈতিক কার্যকলাপ’, পরিচালককে পিটিয়ে পুলিশে দিলো জনতা
মাদরাসায় ছাত্রদের সঙ্গে ‘অনৈতিক কার্যকলাপ’, পরিচালককে পিটিয়ে পুলিশে দিলো জনতা
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাসচাপায় দুই কিশোরের মৃত্যু
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাসচাপায় দুই কিশোরের মৃত্যু
গামছায় মোড়ানো নবজাতক পড়েছিল মহাসড়কের পাশে 
গামছায় মোড়ানো নবজাতক পড়েছিল মহাসড়কের পাশে 
মাদরাসাছাত্রের ‘যন্ত্রণার কথা’ বোঝেনি কেউ, ফের পাঠানো হয় শিক্ষকের কাছে
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি মাদরাসার নাজেরা বিভাগের ১০ বছর বয়সী আবাসিক ছাত্রকে দীর্ঘদিন ধরে বলাৎকারের অভিযোগে আল আমিন নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তথ্য গোপনের চেষ্টা ও ছাত্রদের উসকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকেও আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী শিশুর স্বজন ও ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে গণপিটুনি দিলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান। প্রায় তিন বছর আগে সেখানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আল আমিন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা এলাকার ওই শিশু নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়। পরে তাকে মাদরাসাসার আবাসিক শাখায় রাখা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস ধরে শিক্ষক আল আমিন শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে যৌন নির্যাতন করছিলেন। এ সময় শিশুটি পেটব্যথা ও মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করে। শিশুটি অসুস্থতার কথা মাকে জানালে তিনি তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়িতে থাকার সময় শিশুটির নানা বাথরুমে রক্ত দেখতে পান। পরে তাকে জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সামান্য সুস্থ হওয়ার পর ১১ দিন আগে তাকে আবারও মাদরাসায় রেখে যান মা। তবে পরিবার জানায়, এই সময়েও শিশুটির ওপর পুনরায় নির্যাতন চালানো হলে তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। ভুক্তভোগীর মা জানান, ছেলে ফোন করে তাকে বলেছিল, ‘মা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। পেট ব্যথা করছে। আমাকে নিয়ে যাও। আমি এখানে থাকতে পারব না।’ পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার মির্জাপুর সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। চিকিৎসা ও পরীক্ষার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরিবারকে জানানো হয়। এরপর শিশুর বক্তব্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয় সামনে আসার পর পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। শিশুটির মা, নানা ও মামা মাদরাসায় গিয়ে বিচার দাবি করলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনও মাদরাসার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এদিকে মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধেও গেট বন্ধ করে ছাত্রদের লাঠি হাতে স্থানীয় লোকজনের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রিন্সিপাল দাবি করেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় তিনি কেবল আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে আল আমিন ও হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করলেও প্রিন্সিপাল জানান, এই ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে আর প্রতিষ্ঠানে রাখা হবে না। মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদরাসার প্রিন্সিপালকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আরটিভি/এসএস
আরও