ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফুরিয়ে আসছে বিদেশি ঋণের সুদে করছাড়ের মেয়াদ, উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:১৬ পিএম
ফাইল ছবি

মাস ফুরালেই শেষ হচ্ছে বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ করছাড়ের বিশেষ সুবিধার মেয়াদ। ফলে আগামী বছর থেকে বার্ষিক প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত মাশুল গুণতে হবে বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নেওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোকে। এতে অবধারিতভাবেই ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে আগামীতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

জানা যায়, ২০২৩–২৪ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর ২০ শতাংশ উৎস কর আরোপ করা হয়েছিল। তবে, ব্যবসায়ী মহলের অনুরোধে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয় এ সিদ্ধান্ত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বরের পর করছাড়ের মেয়াদ বাড়ার আর সম্ভাবনা নেই। ফলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে অফশোর ঋণের সুদ পরিশোধের সময় স্বাভাবিক নিয়মে ২০ শতাংশ কর আদায় করা হবে।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, স্বাভাবিক হারে কর আদায় করলে এ খাত থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে।

তবে, উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, শিল্পায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বিশেষ সুবিধা বন্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি। বিশেষ করে, রিজার্ভের চলমান সংকটকালে কমে যেতে পারে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ।

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান ডিবিএল গ্রুপের চারটি কোম্পানির বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১০ কোটি ডলারেরও বেশি। গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ জব্বার বলেন, বর্তমানে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা বিভিন্ন কারণে ভালো নয়। এমন অবস্থায় বাড়তি কর আরোপ করা হলে আমাদের মুনাফার হার আরও কমে যাবে। এর ফলে শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান ব্যাহত হতে পারে।

তিনি বলেন, ২০ শতাংশ কর আরোপ হলে বিদেশি ঋণদাতারা তাদের নিট আয় ধরে রাখতে সুদের হার বাড়িয়ে দেবে। ফলে শেষ পর্যন্ত আমাদেরই এ অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে।

ব্যবসায়ীদের এমন উদ্বেগের সঙ্গে একমত ব্যাংকাররাও। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, কর বাড়ালে বিদেশি ঋণ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যাবে। ঋণদাতারা এ করের বোঝা ঋণগ্রহীতাদের ওপর চাপিয়ে দেবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আমরা আন্তর্জাতিক ঋণ আলোচনায় পিছিয়ে পড়ছি। এ অবস্থায় অতিরিক্ত কর ব্যবসার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।

তবে, এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত সুদের আয়ের ওপর কর আরোপ করা হবে। অর্থাৎ এ কর বহন করবে বিদেশি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান।

তাদের ভাষ্যমতে, ঋণগ্রহীতারা যদি ঋণদাতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসতে পারেন, তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া, করছাড়ের সময় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ঋণদাতাদের সঙ্গে আগে থেকেই সুদের কর বিষয়ে আলোচনা করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল এনবিআর।

উল্লেখ্য, দেশের ব্যাংকের চেয়ে বিদেশি উৎস থেকে পাওয়া অর্থায়নের সুদহার কম হয়। দেশীয় ব্যাংকের ঋণের সুদহার বর্তমানে যেখানে ১১ থেকে ১৫ শতাংশ, সেখানে বিদেশি ঋণের সুদহার নির্ধারণ করা সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (সোফর) বর্তমানে ৪ দশমিক ৬০ থেকে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ। এর সঙ্গে ঋণদাতারা অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ শতাংশ সুদ যোগ করেন। ফলে, বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সুদের সর্বোচ্চ হার দাঁড়ায় ৮ শতাংশ।

তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, চাইলেই পাওয়া যায় না এই বিদেশি ঋণ। এজন্য এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (ইএসজি) নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় কোম্পানিগুলোকে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিনিয়োগকারী সমিতির সভাপতি এমএ জব্বার বলেন, এ ধরনের ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়, তার খরচ ব্যবসায়ীদেরকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। বিদেশি ঋণের ওপর কর বৃদ্ধি এ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে, যার ফলে রিজার্ভ সংকটের সময় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমে যেতে পারে।

শাশা ডেনিমস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে কিছু কিছু ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন। আর বর্তমানে তো বেসরকারি খাত ঋণই পাচ্ছে না। এমন অবস্থায় তৈরি পোশাক, অবকাঠামো ও প্রকৌশলের মতো কিছু খাতে বিদেশি ঋণ কার্যকর সমাধান হতে পারে।

তার মতে, স্থানীয় ব্যাংকে গিয়ে যদি সহজে ঋণ পাওয়া যেত, তাহলে বিদেশি ঋণকে নিরুৎসাহিত করাটা যৌক্তিক ছিল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এমন অবস্থায় বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিদেশি ঋণ প্রয়োজন।

ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সাবেক সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে অনেক কোম্পানি বেতন ও লভ্যাংশ পরিশোধেও হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত করের চাপ দেওয়া অযৌক্তিক।

ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সুদের ওপর এনবিআরের অতিরিক্ত কর আরোপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এবং বিদেশি ঋণগ্রহীতা বিএসআরএমও। গত ১১ ডিসেম্বর বিএসআরএমের মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব শেখর রঞ্জন কর এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগে একটি চিঠি পাঠান, যেখানে তিনি লিখেন, বাংলাদেশের ব্যবসাগুলো বৈদেশিক মুদ্রার ঘন ঘন দর ওঠানামা, কাঁচামালের ক্রমবর্ধমান দাম, স্থানীয় অর্থায়নে সীমিত সুযোগ এবং এলসি নিশ্চিতকরণে বিদেশি ব্যাংকের বিলম্বসহ বিভিন্ন আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর সঙ্গে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ ব্যবসার সংকট আরও গভীর করছে। ফলে টেকসই ব্যবসা পরিচালনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে এনবিআরের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিদেশি ঋণদাতাদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) করছাড়ের সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে চাপ দিচ্ছে। তাই বাংলাদেশের ঋণগ্রহীতাদের এমন দেশ থেকে ঋণ নেওয়া উচিত, যেসব দেশের সঙ্গে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি রয়েছে। এ চুক্তির আওতায় ঋণগ্রহীতারা উৎস করের হার কার্যকরভাবে কমাতে পারে। পাশাপাশি ঋণদাতাদের সঙ্গেও আলোচনার সুযোগ আছে, কারণ তারা চুক্তির ভিত্তিতে উৎস করে ছাড় পেতে পারে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার
দেশের বাজারে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে এক টাকা কমানো হয়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে পেট্রোল ও অকটেনের দাম। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতিমাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রাইসিং ফর্মুলার আলোকে জানুয়ারি মাসের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্য জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিতকরণের নিমিত্তে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১০৫ টাকা হতে এক টাকা হ্রাস করে ১০৪ টাকা, কেরোসিন ১০৫ টাকা হতে এক টাকা হ্রাস করে ১০৪ টাকা করা হয়েছে।  এ ছাড়া অকটেন ১২৫ টাকা, পেট্রোল ১২১ টাকায় অপরিবর্তিত রেখে পুনর্নির্ধারণ/সমন্বয় করা হয়েছে। আরটিভি/একে/এআর
জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার
প্রস্তুতি সম্পন্ন, বুধবার বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা
পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আগামীকাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৫’। এদিন সকাল ১০টায় মেলার উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের বাণিজ্য মেলায় প্রথমবারের মতো অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল/প্যাভিলিয়ন স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় প্রথমবারের মতো ই-টিকেটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে বিশেষ ছাড়ে উবার সার্ভিস। এ ছাড়া মেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের সম্মানার্থে তৈরি করা হয়েছে জুলাই চত্বর ও ছত্রিশ চত্বর। সঙ্গে দেশের তরুণ সমাজকে রপ্তানি বাণিজ্যে উদ্বুদ্ধকরণে তৈরি করা হয়েছে ইয়ুথ প্যাভিলিয়ন। মেলায় সম্ভাবনাময় সেক্টর/পণ্যভিত্তিক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এ বছর। বিদেশি উদ্যোক্তা/প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে থাকছে স্বতন্ত্র সোর্সিং কর্নার, ইলেক্ট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন। বয়সভিত্তিক দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে তৈরি করা হয়েছে প্রযুক্তি কর্নার, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্নার। শিশুদের নির্মল চিত্তবিনোদনের জন্য মেলায় থাকছে শিশু পার্কও। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চতুর্থবারের মতো বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পূর্বাচলস্থ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে। মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩৬১টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে শতভাগ স্বচ্ছতায় বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিক্স অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্সস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহ সামগ্রী, চামড়া/আর্টিফিসিয়াল চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ,প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল,টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ইত্যাদি পণ্য মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রয় হবে। বাংলাদেশ ব্যতীত ৭টি দেশের মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো-ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া। এক্সিবিশন সেন্টারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে জুলাই চত্বর, দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে কালচারাল সেন্টার, টেকনোলজি কর্নার, রিক্রিয়েশন কর্নার এবং সেন্টারের উত্তর-পূর্ব (৬ একর) পাশে শিশু পার্ক ও উত্তর-পশ্চিম পাশে ছত্রিশ চত্বর ও নামাজ ঘর স্থাপন করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। প্রাঙ্গণের বাইরেও নিয়মিত টহল দল থাকবে। নিরাপত্তা অগ্রাধিকার বিবেচনায় মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশ গেট, পার্কিং এরিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এবারের মেলায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। এক্সিবিশন হলে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আলাদা টয়লেটের পাশাপাশি এক্সিবিশন হলের বাইরেও পর্যাপ্ত সংখ্যক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলায় খাদ্য দ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ গঠিত টিম মেলা চলাকালীন প্রতিদিন ভেজাল বিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও পেশেন্ট কেয়ার এটেনডেন্ট উপস্থিত থেকে ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা ও চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করবে। মেলার থাকবে পর্যাপ্ত কার পার্কিং এর সুবিধা। ৫ শতাধিক গাড়ি পার্কিং সুবিধা সংলগ্ন দ্বিতল কার পার্কিং বিল্ডিং ছাড়াও এক্সিবিশন হলের বাইরে ৬ একর জমিতে পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং এর জন্য মেলায় স্থাপন করা হয়েছে একটি কন্ট্রোল রুম ও দর্শনার্থীদের সব প্রকার তথ্য প্রদানের জন্য একটি তথ্য কেন্দ্র। ব্যাংকিং সার্ভিসের জন্য মেলায় থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক ব্যাংক বুথ। মা ও শিশুদের জন্য মেলায় থাকবে মা ও শিশু কেন্দ্র। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য আরামদায়ক ও শোভন চেয়ার/বেঞ্চ, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্নার ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে (সাপ্তাহিক ছুটির দিন রাত ১০টা পর্যন্ত)। সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহা. সেলিম উদ্দিন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্য উপদেষ্টার উপস্থিতিতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় যাত্রী পরিবহনে বিশেষ ছাড় দিতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও অ্যাপ-ভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উবার-এর মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। পরে বাণিজ্য উপদেষ্টা ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় প্রবেশের ই-টিকিটিং অ্যাপের উদ্বোধন করেন। প্রতিবছরের মতো এবছরও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করছে। আরটিভি/এফএ/এআর
প্রস্তুতি সম্পন্ন, বুধবার বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা
বাণিজ্যমেলা শুরু বুধবার
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে বুধবার (১ জানুয়ারি) থেকে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ২৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৫।  মেলা উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস-চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন। এ বছর ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং হংকংসহ সাতটি দেশের অংশগ্রহণে ৩৬২টি স্টল এবং প্যাভিলিয়ন অংশ নেবে। কুড়িল, ভুলতা, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে মেলা চলাকালে ৩০০টি বিআরটিসি বাস চলবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। মেলায় প্রবেশমূল্য প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। আগের তুলনায় এবার মেলায় দর্শনার্থীর উপস্থিতি বেশ ভালো হবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। এদিকে স্টল নির্মাণে কাজ চলছে গভীর রাত পর্যন্ত। মেলা শুরুর আগেই মালিকপক্ষকে পুরোপুরি নির্মিত স্টল বুঝিয়ে দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন কারিগররা। আরটিভি/এমএ/এস
বাণিজ্যমেলা শুরু বুধবার
ব্যাংক পরিচালকদের সভা-সম্মানীর নিয়মে পরিবর্তন
বিভিন্ন সভায় উপস্থিতির জন্য ব্যাংক পরিচালকদের সম্মানী দেওয়ার নিয়মে ‘কিছুটা’ পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ব্যাংকের পর্ষদ ও অন্যান্য কমিটির সভা যথাসম্ভব সীমিত করতে হবে। এখন থেকে পরিচালকরা এক মাসে সর্বোচ্চ আটটি সভার সম্মানী গ্রহণ করতে পারবেন। তবে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তা বাড়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রতিমাসে পরিচালকরা সর্বোচ্চ পরিচালনা পর্ষদ এবং নির্বাহী কমিটির সম্মিলিতভাবে ৬টি সভা, অডিট কমিটির ১টি সভা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির ১টি সভায় উপস্থিতির জন্য সম্মানী গ্রহণ করবেন। এর বাইরে কোনো সভা হলেও তার জন্য সম্মানী গ্রহণ করবেন না।   ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ফেব্রুয়ারিতে পৃথক নীতিমালা জারি করে ব্যাংক পরিচালকদের সভায় অংশগ্রহণের সম্মানী বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে পরিচালকরা প্রতি সভায় অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সম্মানী পান। ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ হাজার টাকা সম্মানী পেতেন ব্যাংক পরিচালকরা। এর আগে, তাদের সম্মানী ছিল ৫ হাজার টাকা। আরটিভি/এমএ  
ব্যাংক পরিচালকদের সভা-সম্মানীর নিয়মে পরিবর্তন
ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ আজ
দেশের সব ব্যাংকে সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বন্ধ থাকবে। এই দিন দেশের প্রধান দুই শেয়ারবাজারেও বন্ধ থাকবে লেনদেন। বছরের ১ জুলাই ও ৩১ ডিসেম্বর দুদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের ছুটির তালিকা অনুযায়ী ‘ব্যাংক হলিডে’। প্রথা অনুযায়ী আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার জন্য বার্ষিক হিসাবনিকাশ শেষ করতে প্রতি বছর এই দুই দিন ‘ব্যাংক হলিডে’ পালন করা হয়। অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই এবং পঞ্জিকা বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর তফসিলি ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। তবে এদিন শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রম চলে। অর্থাৎ নিজেদের আর্থিক হিসাব মেলাতে সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে। এই দিন ব্যাংক খোলা থাকলেও সেখানে কোনো ধরনের লেনদেন সম্পন্ন হয় না। নীতি অনুযায়ী ব্যাংক হলিডেগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংক গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না। তবে এ সময়ে কার্ডের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন গ্রাহকরা। এদিকে পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচার পর ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হয়। কাজেই ব্যাংক বন্ধ থাকলে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) কোনো প্রকার লেনদেন হয় না। তবে মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলবে বলে জানা গেছে। আরটিভি/এসএপি
ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ আজ
আরও পড়ুন
প্রস্তুতি সম্পন্ন, বুধবার বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা
আরেক দফা কমলো স্বর্ণের দাম
সবজির স্বস্তি ম্লান চাল-মুরগিতে, ‘সংকট’ কাটেনি সয়াবিন তেলের 
যে কারণে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন সোনু সুদ