ঢাকাশুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

ছাত্রলীগ নেত্রী অন্তরাসহ ৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার, যা বললেন ফুলপরী

ইবি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৫ জুলাই ২০২৩ , ০৩:৫৬ পিএম


loading/img
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গণরুমে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শৃঙ্খলা আইনের ৮ ধারা মোতাবেক ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

বহিষ্কৃতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তাবাচ্ছুম ইসলাম ও মোয়াবিয়া জাহান, আইন বিভাগের ইসরাত জাহান মীম ও ফাইন আর্টস বিভাগের হালিমা খাতুন উর্মী।

এর আগে, গত ১২ জুন ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে মৌখিক বক্তব্য দিতে ক্যাম্পাসে আসেন সাময়িক বহিষ্কার হওয়া পাঁচ ছাত্রী। কমিটির কাছে তারা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। কারণ দর্শানো নোটিশের লিখিত জবাব দেওয়ার পরও কোনো বক্তব্য থাকলে তা জানতে এই বক্তব্য গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। সেখানে ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী ফুলপরী খাতুনেরও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এ সময় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন নির্যাতনের শিকার ছাত্রী ফুলপরী খাতুন। তার (ফুলপরী) দাবি, তারা আমার ওপর যে পরিমাণ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে, তাতে তাদের এক বছরের শাস্তি কোনোভাবেই হতে পারে না। এতে আমি সন্তুষ্ট না বরং আরও আতঙ্কিত।

ফুলপরী আরও যোগ করেন, তারা এক বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিরে এসে আমার ওপর প্রতিশোধ নেবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আর আমি মনে করি, আমি সঠিক বিচার পাইনি। আমি চাই, তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হোক।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস কোড অব কন্ডাক্ট-১৯৮৭ এর পার্ট-২ এর ধারা-৮ মোতাবেক সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। এটাই বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে দুই দফায় এক নবীন ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠে শাখা ছাত্রলীগ সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তাবাচ্ছুম ইসলাম ও মোয়াবিয়া জাহান, আইন বিভাগের ইসরাত জাহান মীম ও ফাইন আর্টস বিভাগের হালিমা খাতুন উর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ এবং হাইকোর্ট পৃথক পৃথকভাবে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। সব কমিটিই ঘটনার সত্যতা পায়। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় হাইকোর্টের নির্দেশে পাঁচ ছাত্রীকেই সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া হল প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকেও তাদের বহিষ্কার করা হয়।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিজ্ঞাপন


© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৬-২০২৫ | RTV Online |